Class 7 Bengali Third Unit Test Question Paper with Answers 2026 । সপ্তম শ্রেণির তৃতীয় ইউনিট টেস্টের বাংলা প্রশ্নপত্র

0

WBBSE Class 7 Bengali 3rd Summative Question Paper 2026


Class 7 Bengali Third Unit Test Question Paper with Answers 2026 । সপ্তম শ্রেণির তৃতীয় ইউনিট টেস্টের বাংলা প্রশ্নপত্র


২০২৬ শিক্ষাবর্ষে পশ্চিমবঙ্গের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের তৃতীয় পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন ও বার্ষিক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য এই পোস্টে দেওয়া হলো Class 7 Bengali 3rd Summative Question Paper 2026, Class 7 Bengali Question Answer 2026, WBBSE Class 7 Bengali Suggestion 2026 এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর। বাংলা মাধ্যমের শিক্ষার্থীরা এখান থেকে সপ্তম শ্রেণির বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর ২০২৬ এবং পরীক্ষার প্রস্তুতির প্রয়োজনীয় উপকরণ অনুশীলন করতে পারবে।


সপ্তম শ্রেণির বাংলা বার্ষিক পরীক্ষার প্রশ্ন ও উত্তর ২০২৬



Class 7 Bengali 3rd Summative Question Paper 2026 / সপ্তম শ্রেণির বাংলা তৃতীয় পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন প্রশ্নপত্র ও সাজেশন / ৭ম শ্রেণির বাংলা বার্ষিক পরীক্ষার প্রশ্ন ২০২৬ অনুশীলনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা প্রশ্নের ধরন, নম্বর বিভাজন এবং উত্তর লেখার পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা পেতে পারবে। গুরুত্বপূর্ণ পাঠের প্রশ্নোত্তর, সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, ব্যাকরণ, শব্দার্থ, রচনা, অনুচ্ছেদ, পত্র রচনা এবং অন্যান্য পরীক্ষোপযোগী প্রশ্ন এখানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।


Class 7 Bengali Question Answer / সপ্তম শ্রেণির বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর


Class 7 Bengali Question Answer 2026, West Bengal Class 7 Bengali 3rd Unit Test Question Answer পরীক্ষার প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সপ্তম শ্রেণির বাংলা প্রশ্ন উত্তর, Class 7 Bengali Question and Answer 2026 এবং বাংলা প্রশ্নের সমাধান অনুশীলন করলে কঠিন বিষয়গুলি সহজে বোঝা এবং সঠিকভাবে উত্তর লেখার অভ্যাস তৈরি করা যায়।


Class 7 Bengali 3rd Summative Suggestion 2026



Class 7 Bengali 3rd Summative Suggestion 2026, Class 7 Bengali 3rd Unit Test Question 2026-এ গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও বিষয়গুলি পুনরাবৃত্তির জন্য সাজানো হয়েছে। তবে শুধু সাজেশনের ওপর নির্ভর না করে পাঠ্যবইয়ের সম্পূর্ণ অধ্যায় পড়া উচিত। পাশাপাশি Class 7 Bengali Annual Exam Question Paper 2026 এবং মডেল প্রশ্নপত্র নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমাধান করলে পরীক্ষার প্রস্তুতি ও সময় ব্যবস্থাপনা আরও ভালো হবে।


ক্লাস 7 বাংলা তৃতীয় পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন প্রশ্নপত্র


CLASS – VII

Sub – Bengali

Time – 2 hours 30 minutes

F.M. – 70


১। সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো: (১ × ১০ = ১০)

১.১ ভানুসিংহ ছদ্মনামটি—

(ক) মধুসূদনের
(খ) রবীন্দ্রনাথের
(গ) নজরুল ইসলামের

১.২ ‘ভারততীর্থ’ কবিতার কবি দু-বাহু বাড়ায়ে প্রণাম করেন—

(ক) গৃহদেবতাকে
(খ) নরদেবতাকে
(গ) ইষ্টদেবতাকে

১.৩ ননীবালা দেবী জন্মগ্রহণ করেছিলেন হাওড়া জেলার—

(ক) বেলুড়ে
(খ) বালিতে
(গ) লিলুয়াতে

১.৪ মাইকেল অ্যান্টনির জন্ম—

(ক) আমেরিকায়
(খ) ওয়েস্ট ইন্ডিজে
(গ) ব্রাজিলে

১.৫ বাপ-মায়েরা যাবেই তবে—

(ক) ঘাবড়ে
(খ) মূর্ছো
(গ) কুঁকড়ে

১.৬ রেফারি দিব্যেন্দুবাবু খেতে ভালোবাসতেন—

(ক) অমৃতি
(খ) জিলিপি
(গ) সন্দেশ

১.৭ মা বলবে, ঠ্যাং দুটো কী—

(ক) ভালো
(খ) কুচ্ছিৎ
(গ) নোংরা

১.৮ ‘গোঁফ দিয়ে যায় চেনা।’ ‘গোঁফ দিয়ে’ শব্দটি কোন কারক?

(ক) কর্মকারক
(খ) করণ কারক
(গ) অপাদান কারক

১.৯ ‘হাটে লোক গিজগিজ করছে।’ ‘হাটে’ শব্দটি কোন কারক?

(ক) অপাদান কারক
(খ) অধিকরণ কারক
(গ) কর্মকারক

১.১০ ‘শিশুটি কেবলই হাসছে আর খেলছে।’ ‘শিশুটি’ কোন কারক?

(ক) কর্মকারক
(খ) কর্তৃকারক
(গ) করণ কারক


২। অতি সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও: (১ × ১০ = ১০)

২.১ ‘আজ সকালেই সে পালাবে স্থির করেছে।’ কে, কোথায় পালাবে?

২.২ ‘ভারততীর্থ’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে?

২.৩ দুকড়িবালা দেবীর জন্মস্থান কোথায়?

২.৪ অ্যামি আর ভান বৃষ্টির হুজুগে মেতে চ্যাঁচাত কী বলে?

২.৫ ‘তেমনি এবার ফিরতে হবে সত্যি’—কোথায় ফেরার কথা কবি বলেছেন?

২.৬ বিজয়ী টাউন স্কুল মোট গোল দিয়েছিল কটি?

২.৭ টুনু ম্যাচে আহত হওয়ার পর রেফারি কী কার্ড ব্যবহার করেছিলেন?

২.৮ ‘টাকার যে আমার বড় দরকার’—কে এ কথা বলেছিল?

২.৯ ‘এইসব সেই পাবে’—কে পাবে?

২.১০ হোটেলওয়ালার আসল নাম কী?


৩। যেকোনো তিনটি প্রশ্নের উত্তর দাও: (৫ × ৩ = ১৫)

৩.১ ‘আমরা কি আর দেখতে পাব ভাবছো’—কোন দৃশ্য দেখতে না পাওয়ার বেদনা পঙ্‌ক্তিটিতে ধরা পড়েছে? তোমার কল্পনার সেই দৃশ্যটি বর্ণনা দাও। (২ + ৩ = ৫)

৩.২ ‘ভারততীর্থ’ কবিতায় কবি ভারতকে কেন একটি তীর্থের সঙ্গে তুলনা করেছেন, তা বুঝিয়ে দাও। এ প্রসঙ্গে ‘মহামানবের সাগরতীরে’ শব্দবন্ধের অর্থ বুঝিয়ে লেখো। (২ + ৩ = ৫)

৩.৩ ‘বঙ্গভূমির প্রতি’ কবিতায় কবির মাতৃভূমির প্রতি অনুরাগ কীভাবে প্রকাশ পেয়েছে?

৩.৪ ‘পশ্চিমে আজি খুলিয়াছে দ্বার, সেথা হতে সবে আনে উপহার’—পশ্চিমের দ্বার খোলার এবং উপহার আনার প্রসঙ্গটি ব্যাখ্যা করো।


৪। যেকোনো তিনটি প্রশ্নের উত্তর দাও: (৫ × ৩ = ১৫)

৪.১ ‘কলকাতা শহরটি আমি মোটেই পছন্দ করিনে’—পত্রলেখক কলকাতা শহরকে অপছন্দের কোন যুক্তি দিয়েছেন?

৪.২ ‘পুলিশ তৎপর হয়ে উঠল তাঁকে গ্রেপ্তার করতে।’—কার কথা বলা হয়েছে? পুলিশ তাঁকে ধরতে তৎপর হয়ে উঠল কেন? (১ + ৪ = ৫)

৪.৩ ‘বর্ষাকালে এই রকমই ছিল মেয়ারো।’ মেয়ারোর বর্ষাকালের বিবরণ গল্প অনুসারে লেখো। (৫)

৪.৪ ‘আর গাধা খুঁজে বেড়াতে হবে না।’—গল্পের শেষে মিশন স্কুলের ছেলেদের এমন সিদ্ধান্তের কারণ নিজের ভাষায় লেখো। (৫)


৫। যেকোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও: (৫ × ১ = ৫)

৫.১ সোনাটিয়া কীভাবে কালিয়ার বন থেকে বাড়ির লোকেদের সঙ্গে ফিরতে পারল?

৫.২ ‘মাকু ভালো না, চাই না ওকে’—কে এ কথা বলেছিল এবং কেন বলেছিল? (১ + ৪ = ৫)


৬। অর্থ লিখে নীচের বাক্যাংশগুলিকে বাক্যে প্রয়োগ করো (যেকোনো পাঁচটি): (১ × ৫ = ৫)

১. একাই একশো
২. চোখে চোখে রাখা
৩. গড্ডলিকা প্রবাহ
৪. ফাটা কপাল
৫. জড়ভরত
৬. গলগ্রহ
৭. এঁচড়ে পাকা


৭। প্রবন্ধ রচনা করো (যেকোনো একটি): (১০)

(ক) একটি ভাঙা অট্টালিকার আত্মকথা

উত্তর : - 
ভূমিকা - আমি একটি ভাঙা অট্টালিকা। আজ আমার শরীর জীর্ণ, দেওয়ালে ফাটল, ছাদের পলেস্তারা খসে পড়েছে, জানালা-দরজাগুলি ভেঙে গিয়েছে। আমার চারপাশে জন্মেছে আগাছা, বট ও অশ্বত্থের শিকড় আমার দেওয়াল আঁকড়ে ধরেছে। দিনের বেলায় পথচারীরা আমাকে দেখে ভয়ে কিংবা বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকে। রাতের অন্ধকারে আমার চারপাশে নেমে আসে এক অদ্ভুত নীরবতা। কিন্তু আমারও একদিন সুদিন ছিল। আমার বুকের মধ্যে লুকিয়ে আছে কত সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না আর ইতিহাসের স্মৃতি। আজ সেই কথাই তোমাদের শোনাব।

আমার জন্মকথা -  আজ থেকে প্রায় দেড়শো বছর আগে আমার জন্ম হয়েছিল। তখন এই অঞ্চলের এক ধনী জমিদার আমাকে নির্মাণ করেছিলেন। বহু দক্ষ রাজমিস্ত্রি, কারিগর ও শ্রমিকের পরিশ্রমে গড়ে উঠেছিল আমার বিশাল দেহ। আমার উঁচু স্তম্ভ, প্রশস্ত বারান্দা, সুন্দর খিলান, কারুকার্যখচিত দরজা এবং বিশাল উঠোন দেখে সবাই মুগ্ধ হতো। আমার ছাদে ছিল সুন্দর নকশা, আর সামনের বাগানে ফুটত নানা রঙের ফুল।

জমিদারবাবু আমাকে তৈরি করেছিলেন তাঁর পরিবারের বসবাসের জন্য। আমার একতলায় ছিল অতিথিদের বসার ঘর, দোতলায় ছিল পরিবারের শোবার ঘর এবং ভিতরের দিকে ছিল ঠাকুরঘর। আমার চারপাশে ছিল পুকুর, বাগান এবং ফলের গাছ। তখন আমার মনে গর্বের সীমা ছিল না। আমি ভাবতাম, আমার মতো সুন্দর অট্টালিকা এই অঞ্চলে আর দ্বিতীয়টি নেই।

সুখের দিনগুলি - আমার জীবনের প্রথম কয়েকটি দশক ছিল আনন্দে ভরা। প্রতিদিন সকালে আমার উঠোনে মানুষের ব্যস্ততা শুরু হতো। বাড়ির ছোটো ছেলেমেয়েরা দৌড়ে বেড়াত, তাদের হাসির শব্দে আমার ঘরগুলি মুখরিত হয়ে উঠত। উৎসবের দিনে আমাকে সাজানো হতো রঙিন আলো, ফুল ও আলপনায়। দুর্গাপুজো, দোলযাত্রা এবং অন্যান্য অনুষ্ঠানে আত্মীয়স্বজন ও অতিথিদের ভিড় জমত।

বাড়ির মহিলারা বারান্দায় বসে গল্প করতেন, শিশুরা উঠোনে খেলত এবং বয়স্করা বসে নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করতেন। সন্ধ্যাবেলায় প্রদীপের আলোয় আমার প্রতিটি ঘর উজ্জ্বল হয়ে উঠত। সেই দিনগুলির কথা মনে পড়লে আজও আমার ভাঙা দেওয়ালের ভিতরে যেন আনন্দের প্রতিধ্বনি শুনতে পাই।

দুঃখের সূচনা -  কিন্তু সময় কখনো এক জায়গায় থেমে থাকে না। জমিদারবাবুর মৃত্যুর পর তাঁর উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি নিয়ে বিবাদ শুরু হলো। পরিবারের লোকেরা ধীরে ধীরে আলাদা হয়ে গেলেন। কেউ শহরে চলে গেলেন, কেউ অন্যত্র বাড়ি তৈরি করলেন। আমার ঘরগুলি একে একে ফাঁকা হয়ে গেল।

আগে যেখানে প্রতিদিন মানুষের কোলাহল শোনা যেত, সেখানে নেমে এল নিস্তব্ধতা। আমার দরজা-জানালা মেরামত করা বন্ধ হলো। ছাদে জমতে লাগল বৃষ্টির জল। দেওয়ালে ফাটল ধরল। একসময় আমার সুন্দর বাগান আগাছায় ভরে গেল। পুকুরের জলও নোংরা হয়ে উঠল। কেউ আর আমার যত্ন নিল না।

প্রকৃতির আঘাত - বছরের পর বছর রোদ, বৃষ্টি, ঝড় এবং কালবৈশাখী আমার শরীরকে দুর্বল করে দিল। বর্ষাকালে আমার ছাদ চুঁইয়ে জল পড়ে। শীতকালে কুয়াশা আমার ভাঙা জানালার ফাঁক দিয়ে ভিতরে ঢুকে পড়ে। গ্রীষ্মের প্রচণ্ড রোদে আমার দেওয়াল ফেটে যায়। বট ও অশ্বত্থের শিকড় আমার ইটের গাঁথুনি দুর্বল করে দিয়েছে।

একদিন আমার একটি বারান্দার ছাদ ভেঙে পড়ল। তারপর একে একে অনেক ঘরের ছাদ ধসে গেল। আমার সুন্দর কারুকার্য মাটিতে মিশে গেল। যে মানুষ একদিন আমাকে দেখে গর্ব করত, আজ তারা আমাকে দেখে দীর্ঘশ্বাস ফেলে।

বর্তমান অবস্থা - এখন আমি প্রায় পরিত্যক্ত। দিনের বেলায় কয়েকজন কৌতূহলী মানুষ আমাকে দেখতে আসে। গ্রামের ছেলেরা কখনো কখনো আমার উঠোনে খেলতে আসে। রাতে পেঁচা, বাদুড় ও অন্যান্য পাখি আমার ভাঙা ঘরে আশ্রয় নেয়। বর্ষার দিনে ব্যাঙের ডাক শোনা যায়। চাঁদের আলো আমার ভাঙা দেওয়ালে পড়লে মনে হয়, আমি যেন অতীতের কোনো হারিয়ে যাওয়া গল্পের নীরব সাক্ষী।

আমার বুকের মধ্যে এখনও জমিদার পরিবারের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা এবং বহু ঐতিহাসিক ঘটনার স্মৃতি লুকিয়ে আছে। কেউ যদি আমার ইতিহাস জানতে চায়, আমি তাকে আমার অতীতের গল্প শোনাতে চাই।

আমার আবেদন- আমি চাই না যে আমার সমস্ত স্মৃতি ধ্বংস হয়ে যাক। আমাকে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হোক। আমার ভাঙা অংশগুলি বিশেষজ্ঞদের সাহায্যে মেরামত করা হোক। আমার ইতিহাস সংগ্রহ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা হোক। পুরোনো অট্টালিকা কেবল ইট-পাথরের তৈরি বাড়ি নয়; এগুলি অতীতের সমাজ, সংস্কৃতি ও স্থাপত্যের মূল্যবান নিদর্শন।

উপসংহার - আজ আমি ভাঙা, জীর্ণ এবং নিঃসঙ্গ। তবু আমার অস্তিত্বের মধ্যে অতীতের গৌরব বেঁচে আছে। সময়ের প্রবাহে মানুষের জীবন বদলে যায়, প্রাসাদ ধ্বংস হয়, নতুন বাড়ি তৈরি হয়। কিন্তু ইতিহাসের স্মৃতি সহজে মুছে যায় না। আমার শেষ আবেদন, আমাকে অবহেলায় ধ্বংস হতে দিয়ো না। আমাকে রক্ষা করো, কারণ আমার মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে অতীতের এক অমূল্য কাহিনি।

(খ) বইমেলা

উত্তর : - 
ভূমিকা - বই মানুষের প্রকৃত বন্ধু। বই আমাদের জ্ঞান বাড়ায়, আনন্দ দেয় এবং জীবনের সঠিক পথ চিনতে সাহায্য করে। বইয়ের মাধ্যমে আমরা দেশ-বিদেশের ইতিহাস, সাহিত্য, বিজ্ঞান, সংস্কৃতি ও মানুষের জীবন সম্পর্কে জানতে পারি। বই পড়ার প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ানোর জন্য যে বিশেষ মেলার আয়োজন করা হয়, তাকে বইমেলা বলে। বর্তমান সময়ে বইমেলা আমাদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

বইমেলার পরিচয় - বইমেলা হলো এমন একটি মেলা, যেখানে বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থা, বইয়ের দোকান এবং লেখকরা একত্রিত হন। এখানে গল্প, কবিতা, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, জীবনী, বিজ্ঞান, ইতিহাস, ভূগোল এবং শিশু-কিশোরদের নানা ধরনের বই পাওয়া যায়। বইমেলায় নতুন বই প্রকাশিত হয় এবং পাঠকেরা লেখক ও প্রকাশকদের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পান।

বইমেলা শুধু বই কেনাবেচার জায়গা নয়; এটি জ্ঞান, সাহিত্য ও সংস্কৃতির মিলনক্ষেত্র। এখানে বিভিন্ন বয়সের মানুষ নিজেদের পছন্দের বই খুঁজে পান।

কলকাতা বইমেলা - পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে পরিচিত বইমেলাগুলির মধ্যে কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা বিশেষ উল্লেখযোগ্য। প্রতি বছর এই বইমেলায় প্রচুর মানুষ ভিড় করেন। বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থা তাদের নতুন বই নিয়ে হাজির হয়। দেশ-বিদেশের নানা ভাষার বইও এখানে পাওয়া যায়।

কলকাতা বইমেলায় গেলে দেখা যায়, ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক, লেখক, গবেষক, সাহিত্যপ্রেমী এবং সাধারণ পাঠকেরা বইয়ের স্টলে ঘুরে ঘুরে বই দেখছেন। কেউ গল্পের বই কিনছেন, কেউ ইতিহাসের বই খুঁজছেন, আবার কেউ পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজনীয় বই সংগ্রহ করছেন। বইমেলার পরিবেশে এক বিশেষ আনন্দ অনুভব করা যায়।

বইমেলার পরিবেশ - বইমেলা সাধারণত বড়ো মাঠ বা নির্দিষ্ট মেলা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সারি সারি বইয়ের স্টল সাজানো থাকে। প্রতিটি স্টলে বিভিন্ন ধরনের বই সুন্দরভাবে রাখা হয়। স্টলের সামনে বইয়ের নাম, প্রকাশনা সংস্থার পরিচয় এবং কখনো কখনো বিশেষ ছাড়ের কথাও লেখা থাকে।

মেলার প্রবেশপথ সাজানো হয় আকর্ষণীয়ভাবে। কোথাও বসার ব্যবস্থা থাকে, কোথাও খাবারের দোকান, আবার কোথাও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মঞ্চ তৈরি করা হয়। বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বইমেলায় মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। বইয়ের পাতার গন্ধ, মানুষের কথাবার্তা এবং উৎসবের পরিবেশ মিলিয়ে বইমেলা হয়ে ওঠে আনন্দময়।

বইমেলার সাংস্কৃতিক গুরুত্ব - বইমেলা মানুষের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে সাহায্য করে। বর্তমান যুগে মোবাইল ফোন, টেলিভিশন এবং ইন্টারনেটের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় অনেকের বই পড়ার সময় কমে গেছে। বইমেলা মানুষকে আবার বইয়ের জগতে ফিরিয়ে আনে।

বইমেলায় কবিতা পাঠ, আলোচনা সভা, লেখকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এর ফলে নতুন লেখকেরা নিজেদের প্রতিভা প্রকাশের সুযোগ পান। পাঠকেরাও তাঁদের প্রিয় লেখকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে পারেন। শিশুদের জন্য গল্পপাঠ ও নানা শিক্ষামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হলে তাদের বই পড়ার আগ্রহ আরও বাড়ে।

ছাত্রছাত্রীদের কাছে বইমেলার গুরুত্ব - ছাত্রছাত্রীদের জীবনে বইমেলার বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি গল্প, কবিতা, জীবনী, বিজ্ঞান ও সাধারণ জ্ঞানের বই পড়লে তাদের জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধি পায়। ভালো বই পড়লে ভাষার দক্ষতা বাড়ে, নতুন শব্দ শেখা যায় এবং নিজের ভাবনা সুন্দরভাবে প্রকাশ করার ক্ষমতা তৈরি হয়।

বইমেলা থেকে শিক্ষার্থীরা নিজেদের পছন্দের বই সংগ্রহ করতে পারে। তবে বই কেনার সময় নিজের বয়স, আগ্রহ ও প্রয়োজনের দিকে খেয়াল রাখা উচিত। শুধু প্রচ্ছদ দেখে নয়, বইয়ের বিষয়বস্তু বুঝে বই নির্বাচন করা দরকার।

বইমেলার কিছু সমস্যা - বইমেলার জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু সমস্যাও দেখা যায়। ভিড়ের কারণে অনেক সময় চলাচলে অসুবিধা হয়। কোথাও কোথাও আবর্জনা জমে পরিবেশ নোংরা হয়। বইয়ের দাম বেশি হলে দরিদ্র শিক্ষার্থীদের পক্ষে বই কেনা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই বইমেলায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, যথেষ্ট বসার জায়গা রাখা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য সুলভ মূল্যে বইয়ের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

উপসংহার - বইমেলা জ্ঞান ও আনন্দের এক অপূর্ব উৎসব। বই মানুষের চিন্তাভাবনাকে উন্নত করে এবং সমাজকে আলোকিত করতে সাহায্য করে। তাই আমাদের প্রত্যেকের উচিত বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং বইমেলায় অংশগ্রহণ করা। বইমেলার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের মধ্যে সাহিত্য ও জ্ঞানের প্রতি ভালোবাসা ছড়িয়ে পড়ুক। বই হোক আমাদের নিত্যদিনের সঙ্গী, আর বইমেলা হয়ে উঠুক জ্ঞানচর্চার এক আনন্দময় উৎসব।


(গ) শীতের সকাল

উত্তর : - 

ভূমিকা - বাংলার ছয়টি ঋতুর মধ্যে শীত একটি বিশেষ ঋতু। হেমন্তের শেষে শীতের আগমন ঘটে। শীতের সকালে প্রকৃতি এক নতুন রূপ ধারণ করে। চারদিকে কুয়াশার চাদর, ঘাসের ডগায় শিশিরবিন্দু, গাছের পাতায় নরম আলো এবং হালকা ঠান্ডা বাতাস শীতের সকালকে সুন্দর করে তোলে। শীতের সকাল কখনো আনন্দের, কখনো অলসতার, আবার কখনো দরিদ্র মানুষের কাছে কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

কুয়াশায় ঢাকা সকাল - শীতের সকালে ঘুম থেকে উঠে জানালার বাইরে তাকালে দেখা যায়, চারদিকে ঘন কুয়াশা ছড়িয়ে রয়েছে। দূরের গাছপালা, বাড়িঘর এবং রাস্তা অস্পষ্ট দেখায়। কখনো মনে হয়, প্রকৃতি যেন সাদা চাদর মুড়ি দিয়ে ঘুমিয়ে আছে। সূর্য উঠলেও তার আলো প্রথমে কুয়াশার আড়ালে ঢাকা পড়ে থাকে।

ভোরবেলায় ঘাসের ডগায় ছোটো ছোটো শিশিরবিন্দু জমে। সূর্যের আলো পড়লে সেগুলি মুক্তোর মতো ঝলমল করে। পুকুরের জলে হালকা কুয়াশা ভেসে বেড়ায়। গাছের পাতায় জমে থাকা শিশির প্রকৃতিকে আরও সুন্দর করে তোলে। ঠান্ডা বাতাসে গায়ে কাঁটা দেয়, তাই মানুষ গরম জামাকাপড় পরে বাইরে বের হয়।

গ্রামের শীতের সকাল - গ্রামের শীতের সকাল অত্যন্ত মনোরম। ভোরে কৃষকেরা গরম কাপড় পরে মাঠে যান। ধান কাটার পর মাঠে কোথাও খড়ের গাদা দেখা যায়, কোথাও জমিতে শীতকালীন সবজির চাষ হয়। কৃষকেরা ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, টম্যাটো, পালং শাক ও অন্যান্য সবজি নিয়ে ব্যস্ত থাকেন।

গ্রামের বাড়িতে বাড়িতে শীতের সকালে খেজুরের রস সংগ্রহের দৃশ্য দেখা যায়। খেজুর গাছ থেকে রস নামিয়ে তা দিয়ে গুড় ও নলেন গুড় তৈরি করা হয়। অনেক বাড়িতে পিঠে-পুলি তৈরির আয়োজন চলে। উঠোনে বসে বয়স্ক মানুষেরা রোদ পোহান। শিশুরা শীতের পোশাক পরে খেলাধুলা করে। গ্রামের এই দৃশ্য মনকে আনন্দে ভরিয়ে দেয়।

শহরের শীতের সকাল - শহরের শীতের সকালেও রয়েছে নিজস্ব সৌন্দর্য। সকালে রাস্তায় মানুষের চলাচল তুলনামূলক কম থাকে। কেউ গরম চা পান করেন, কেউ প্রাতঃভ্রমণে বের হন। পার্কে অনেক মানুষ হাঁটেন এবং শরীরচর্চা করেন। দোকানদারেরা দোকান খোলার প্রস্তুতি নেন। রাস্তার ধারে চায়ের দোকানে গরম চায়ের কাপে ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়।

শীতের সকালে গরম চা, কফি, কচুরি, সিঙাড়া এবং নানা ধরনের গরম খাবার খেতে ভালো লাগে। তবে কুয়াশার কারণে রাস্তায় যানবাহন চলাচলে অসুবিধা হয়। কখনো কখনো ট্রেন ও বাস চলাচলেও দেরি হতে পারে।

শীতের সকাল ও ছাত্রছাত্রী - শীতের সকাল ছাত্রছাত্রীদের কাছে আনন্দের হলেও অনেক সময় কষ্টেরও হয়। ঠান্ডার কারণে সকালে বিছানা ছেড়ে উঠতে ইচ্ছা করে না। গরম কম্বলের ভিতর থেকে বেরিয়ে স্কুলে যাওয়া অনেকের কাছে কঠিন মনে হয়। তবু সময়মতো ঘুম থেকে উঠে পড়াশোনা করা এবং বিদ্যালয়ে যাওয়া উচিত।

শীতের ছুটিতে অনেক ছাত্রছাত্রী পরিবার-পরিজনের সঙ্গে বেড়াতে যায়। কেউ বই পড়ে, কেউ খেলাধুলা করে, আবার কেউ পিকনিকে অংশগ্রহণ করে। শীতকালে নানা ধরনের ফুল ফোটে। বাগানে গাঁদা, ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকা ও গোলাপের সৌন্দর্য মনকে আনন্দ দেয়। এই সময়ে বিভিন্ন স্থানে মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনও করা হয়।

শীতের সকাল ও দরিদ্র মানুষের কষ্ট - শীতের সকাল সবার কাছে সমান আনন্দের নয়। ধনী মানুষ গরম পোশাক, কম্বল ও হিটার ব্যবহার করে ঠান্ডা থেকে রক্ষা পান। কিন্তু দরিদ্র মানুষের অনেকেরই পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র নেই। ফুটপাতের বাসিন্দা, দিনমজুর ও অসহায় বৃদ্ধদের শীতের রাতে এবং সকালে প্রচণ্ড কষ্ট সহ্য করতে হয়।

তাই শীতকালে আমাদের উচিত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো। পুরোনো কিন্তু ব্যবহারযোগ্য গরম জামাকাপড়, কম্বল ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী দরিদ্র মানুষের মধ্যে বিতরণ করা যেতে পারে। মানুষের প্রতি সহানুভূতি ও সহযোগিতার মনোভাবই শীতের আনন্দকে সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পারে।

শীতের সকালের উপকারিতা - শীতকালে আবহাওয়া তুলনামূলক শীতল থাকে বলে অনেকের কাছে হাঁটাচলা ও শরীরচর্চা আরামদায়ক মনে হয়। সকালের মৃদু রোদ শরীরকে উষ্ণতা দেয়। শীতকাল বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি ও ফলের জন্যও উপযুক্ত সময়। তবে ঠান্ডা থেকে বাঁচতে গরম পোশাক পরা, পুষ্টিকর খাবার খাওয়া এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা প্রয়োজন।

উপসংহার - শীতের সকাল প্রকৃতির এক অপূর্ব উপহার। কুয়াশা, শিশির, মিষ্টি রোদ, গরম চা এবং পিঠে-পুলির আনন্দ শীতের সকালকে স্মরণীয় করে তোলে। তবে শীতের কষ্টে থাকা মানুষদের কথা ভুলে গেলে চলবে না। তাদের সাহায্য করার মধ্যেই প্রকৃত মানবিকতা প্রকাশ পায়। তাই শীতের সকালের সৌন্দর্য উপভোগ করার পাশাপাশি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সকলের কর্তব্য।




একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0মন্তব্যসমূহ

Enter Your Comment

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)