WBBSE Class 9 History 3rd Unit Test Question Paper with Answers 2026 । নবম শ্রেণির ইতিহাস তৃতীয় ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র ও সাজেশন

0

নবম শ্রেণির ইতিহাস ৩য় ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র ও সাজেশন ২০২৬


WBBSE Class 9 History 3rd Unit Test Question Paper with Answers 2026 । নবম শ্রেণির ইতিহাস তৃতীয় ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র ও সাজেশন



নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য এই পোস্টে WBBSE Class 9 History 3rd Unit Test Question Paper 2026, প্রশ্নোত্তর, গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, History Notes এবং Class 9 History 3rd Unit Test Suggestion 2026 দেওয়া হলো। যারা Class 9 History 3rd Unit Test Question 2026, WBBSE Class 9 History Question Paper 2026 অথবা Class 9 History 3rd Summative Evaluation Question Paper with Answers খুঁজছো, তাদের জন্য এই পোস্টটি উপযোগী।


Class 9 History 3rd Unit Test 2026 / History Suggestion 2026 PDF



Class 9 History 3rd Unit Test 2026 পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, সংক্ষিপ্ত ও রচনাধর্মী প্রশ্ন, ঐতিহাসিক ঘটনা, সাল-তারিখ, ব্যক্তিত্ব, কারণ ও ফলাফল এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি ভালোভাবে অনুশীলন করা জরুরি। এই পোস্টে দেওয়া Class 9 History Question Answer 2026 এবং History Suggestion 2026 পরীক্ষার আগে দ্রুত Revision ও Practice করতে সাহায্য করবে।


Class 9 History Suggestion 2026 / ক্লাস 9 ইতিহাস



এখানে Class 9 History Important Questions 2026 / নবম শ্রেণির তৃতীয় ইউনিট টেস্টের ইতিহাস প্রশ্নপত্র, গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর, সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, বড়ো প্রশ্ন এবং পরীক্ষার উপযোগী Suggestion দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে পরীক্ষার প্রস্তুতি আরও সহজে সম্পন্ন করতে পারবে। তবে শুধুমাত্র Suggestion-এর উপর নির্ভর না করে সম্পূর্ণ পাঠ্যসূচি ও পাঠ্যবই ভালোভাবে পড়া উচিত।


নবম শ্রেনী ইতিহাস তৃতীয় পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন প্রশ্নপত্র ও সাজেশন ২০২৬ 



যারা Class 9 History 3rd Unit Test Question Paper PDF, WBBSE Class 9 History Question Paper with Answers PDF অথবা Class 9 History 3rd Summative Evaluation 2026 / Nobom Shrenir Itihas Tritiyo Porjaikromik Mulyaon 2026 খুঁজছো, তারা এই পোস্ট থেকে প্রয়োজনীয় প্রশ্নপত্র, প্রশ্নোত্তর, গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এবং পরীক্ষার প্রস্তুতির উপকরণ পেতে পারবে।


WBBSE Class 9 History 3rd Unit Test Question Paper with Answers | History Suggestion 2026 PDF


WBBSE Class 9 History 3rd Unit Test Question Paper with Answers 2026 এবং History Suggestion 2026 পরীক্ষার্থীদের Revision ও Practice-এর জন্য সহায়ক হবে। এখানে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, উত্তর, ঐতিহাসিক সাল ও ঘটনা, ব্যক্তিত্ব, কারণ-ফলাফল এবং ইতিহাসের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলি একসঙ্গে পাওয়া যাবে।


Class IX History 3rd Unit Test Question Paper 2026



১। সঠিক উত্তরটি নির্বাচন কর :— ১ × ২০

ক) “লেতর দ্য ক্যাশে” হল — অধিকারপত্র / গ্রেফতারি পরোয়ানা / গির্জার নির্দেশনামা / পোপের আদেশনামা।

খ) যে আদর্শটি ফরাসি বিপ্লবের মূল আদর্শ নয় — স্বাধীনতা / সাম্য / মৈত্রী / ধর্মনিরপেক্ষতা।

গ) ফ্রান্সে দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল — ১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দে / ১৮৪৮ খ্রিস্টাব্দে / ১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দে / ১৮৭০ খ্রিস্টাব্দে।

ঘ) লিপজিগের যুদ্ধ (১৮১৩ খ্রিস্টাব্দ) অন্য যে নামে পরিচিত — ইউরোপের যুদ্ধ / করস্ট্যাডের যুদ্ধ / জাতিসমূহের যুদ্ধ / শতদিবসের যুদ্ধ।

ঙ) অর্ডারস ইন কাউন্সিল জারি করে — রাশিয়া / ইংল্যাণ্ড / ফ্রান্স / প্রাশিয়া।

চ) নেপোলিয়ন স্পেন দখল করে সেখানের সিংহাসনে বসান — মার্শাল জুনোকে / মিউরাহকে / জোসেফ বোনাপার্টিকে / ইউজিনকে।

ছ) ইতালির ঐক্যের পথে সবথেকে বড়ো বাধা ছিল — প্রাশিয়া / ফ্রান্স / বাশিয়া / অস্ট্রিয়া।

জ) গ্রিসের স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে যুক্ত সমিতিটির নাম হল — কার্বোনারি / হেটাইরিয়া ফিলিকে / ইয়ং ইতালি / জোলভেরাইন।

ঝ) ভিয়েনা সম্মেলনের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ফ্রান্সের সিংহাসনে বসেন — দশম চার্লস / সপ্তদশ লুই / অষ্টাদশ লুই / লুই ফিলিপ।

ঞ) চিন সম্পর্কে মুক্তদ্বার নীতি ঘোষণা করেছিল — ইংল্যাণ্ড / ফ্রান্স / জার্মানী / মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

ট) কার্ল মার্কসের বিখ্যাত গ্রন্থটি হল — ডিভাইন কমেডি / দাস ক্যাপিটাল / টু স্টেটস / ম্যাকবেথ।

ঠ) চার্লস ফুরিয়ার হলেন একজন — বিজ্ঞানী / ইতিহাসবিদ / সমাজতন্ত্রী / ইংল্যাণ্ডের প্রধানমন্ত্রী।

ড) “নতুন অর্থনৈতিক নীতি”র প্রবর্তক হলেন — ট্রটস্কি / লেনিন / ক্রুশ্চেভ / কেরেনেস্কি।

ঢ) “বলশেভিক” কথার অর্থ — চরমপন্থী / নরমপন্থী / সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ / সংখ্যালঘিষ্ঠ অংশ।

ণ) স্পেনে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন — লেনিন / অ্যাডলফ হিটলার / হিদেকি তেজো / জেনারেল ফ্রাঙ্কো।

ত) চেম্বারলেন ছিলেন — ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী / রুশ প্রধানমন্ত্রী / মার্কিন প্রেসিডেন্ট / ফরাসি প্রধানমন্ত্রী।

থ) “তৃতীয় বিশ্ব” কথাটি প্রথম ব্যবহার করেন — জওহরলাল নেহেরু / উড্রো উইলসন / ফ্রানজ ফ্যালন / লেনিন।

দ) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পরমাণু বোমা ব্যবহার করে — চিন / রাশিয়া / মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র / ইটালি।

ধ) জাতিসংঘের জনক হিসাবে চিহ্নিত করা হয় — উড্রো উইলসনকে / ট্রিগডি-লি-কে / চার্লস ডয়েসকে / রুজভেল্টকে।

ন) সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের প্রতিষ্ঠা হয় — সানফ্রান্সিসকো শহরে / নিউইয়র্ক শহরে / হেগ শহরে / জেনেভা শহরে।

বিভাগ – খ

২। প্রতিটি উপবিভাগ থেকে অন্তত একটি করে নিয়ে মোট ১৬টি প্রশ্নের উত্তর দাও :- ১ × ১৬

উপবিভাগ – খ.১

(একটি সম্পূর্ণ বাক্যে উত্তর দাও)

ক) অ্যাসাইনেট কী?

খ) ফরাসি জাতীয় সভার নাম কী?

গ) “ব্রিটিশ সমাজতন্ত্রবাদের জনক” বলা হয় কাকে?

ঘ) যুদ্ধের ক্ষেত্রে পোড়ামাটির নীতি কোন্ দেশ গ্রহণ করত?


উপবিভাগ – খ.২

(সত্য / মিথ্যা নির্ণয় কর)

ঙ) প্রথম আফিম যুদ্ধের পর চিন নানকিং এর সন্ধি স্বাক্ষরে বাধ্য হয়।

চ) ভিয়েনা সম্মেলনের উদ্দেশ্য ছিল পুরাতনতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা।

ছ) নেপোলিয়ন মস্কো অভিযানে শেষপর্যন্ত জয়লাভ করেন।

জ) বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা সোভিয়েত রাশিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারেনি।


উপবিভাগ – খ.৩

(বিবৃতিগুলির সঙ্গে সঠিক ব্যাখ্যাটি নির্বাচন করো।)

ঝ) বিবৃতিঃ এমস টেলিগ্রাম এর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফ্রান্স ও প্রাশিয়ার যুদ্ধ শুরু হয়।

ব্যাখ্যা ১ঃ প্রাশিয়া ফ্রান্সের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে এমস টেলিগ্রামের মাধ্যমে।

ব্যাখ্যা ২ঃ কূটকৌশলী বিসমার্ক অসম্পূর্ণ ও বিকৃত টেলিগ্রামটি খবরের কাগজে প্রকাশ করেন।

ব্যাখ্যা ৩ঃ প্রাশিয়ার রাজা ফরাসি রাষ্ট্রদূতকে অপমান করেন।

ঞ) বিবৃতিঃ প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়।

ব্যাখ্যা ১ঃ বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা করা ছিল জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য।

ব্যাখ্যা ২ঃ মানুষের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি ঘটানোই ছিল জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য।

ব্যাখ্যা ৩ঃ আন্তর্জাতিক আইন চালু করাই ছিল জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য।

ট) বিবৃতিঃ নেপোলিয়ন মহাদেশীয় ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন।

ব্যাখ্যা ১ঃ ইংল্যাণ্ডকে পর্যদুস্ত করার জন্য।

ব্যাখ্যা ২ঃ ইংল্যাণ্ডের অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য।

ব্যাখ্যা ৩ঃ সাম্রাজ্য বিস্তারের ক্ষেত্রে ইংল্যাণ্ডের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠতে।

ঠ) বিবৃতিঃ ১৯৩৯ খ্রিষ্টাব্দে জার্মানি পোল্যাণ্ড আক্রমণ করে।

ব্যাখ্যা ১ঃ এর ফলে জাতিসংঘের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়।

ব্যাখ্যা ২ঃ এর ফলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়।

ব্যাখ্যা ৩ঃ এর ফলে পোলিশ করিডোর ভেঙে পড়ে।


উপবিভাগ – খ.৪

(ক স্তম্ভের সঙ্গে খ স্তম্ভ মিলাও)

ক-স্তম্ভ    খ-স্তম্ভ

ড) হিরোশিমা-নাগাসাকি ১। ইংল্যাণ্ড
ঢ) শিল্পবিপ্লব ২। দশম চার্লস
ণ) জুলাই বিপ্লব ৩। জাপান
ত) দ্বিতীয় জাস্টিনিয়ান ৪। কোড নেপোলিয়ন


উপবিভাগ – খ.৫

(শূন্যস্থান পূরণ কর)

থ) নেপোলিয়ন ........ খ্রিষ্টাব্দে সম্রাট পদ লাভ করে।

দ) “ইয়ং ইতালি” আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন .......।

ধ) স্ট্যালিনগ্রাডের যুদ্ধে জার্মান সেনাপতি ছিলেন .....।

ন) সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের প্রতিষ্ঠা দিবস হল ......।


বিভাগ – গ

৩। দু-তিনটি বাক্যে উত্তর দাও :– ২ × ১১

ক) “টাইদ” ও “করভি” কোন্ ধরণের কর?

খ) ফ্রান্সকে “রাজনেতিক কারাগার” বলা হয় কেন?

গ) নীলনদের যুদ্ধ কবে, কাদের মধ্যে হয়েছিল?

ঘ) “শতদিবসের রাজত্ব” কী?

ঙ) “উষ্ণ জল নীতি” কী?

চ) জুলাই অর্ডিন্যান্স কী?

ছ) ঘেটো কী?

জ) “বাণিজ্যিক মূলধন” কী?

ঝ) “এপ্রিল থিসিসের” মূল বক্তব্য কী ছিল?

ঞ) গণতন্ত্রের সঙ্গে ফ্যাসিবাদের দুটি পার্থক্য লেখো।

ট) টুম্যান নীতি কী?

ঠ) “পোলিশ করিডর” কী?

ড) ভেটো বলতে কী বোঝায়?

ঢ) লিগের গঠন সম্পর্কে কী জান?


বিভাগ – ঘ

৪। সাত-আটটি বাক্যে নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও :– ৪ x ৬ = ২৪ 

ক) মানুষ ও নাগরিকদের অধিকার ঘোষণাপত্রের ওপর সংক্ষিপ্ত টীকা লেখ।

অথবা

টীকা লেখঃ — সন্ত্রাসের শাসন।

খ) নেপোলিয়ন কীভাবে জার্মানীকে পুনর্গঠন করেন?

গ) নেপোলিয়নের পতনে রাশিয়া অভিযানের ভূমিকা বিশ্লেষণ করো।

অথবা

ফেব্রুয়ারী বিপ্লবের কারণ ও ফলাফল সম্পর্কে লেখ।

ঘ) কীভাবে বলকান জাতীয়তাবাদের উত্থান ঘটে?

অথবা

“ভারত ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের রত্ন”— এই উক্তির যথার্থতা উল্লেখ করো।

ঙ) “সেরাজেভো হত্যাকাণ্ড” কী?

অথবা

ভার্সাই চুক্তির অর্থনৈতিক শর্তাবলী সম্পর্কে কী জান?

চ) টীকা লেখঃ — নতুন অর্থনৈতিক নীতি।

অথবা

“ক্যাশ অ্যাণ্ড ক্যারি” সম্পর্কে কী জান?

টীকা লেখঃ — অপারেশন বারবারোসা।


বিভাগ – ঙ

৫। পনেরো ষোলটি বাক্যে যে কোন একটি প্রশ্নের উত্তর দাও :- ৮ × ১

ক) মহাদেশীয় অবরোধ কাকে বলে? কীভাবে এই ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছিল। ৩ + ৫

Ans : - 
মহাদেশীয় অবরোধ কাকে বলে :
ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ন বোনাপার্ট ইংল্যান্ডকে সামরিকভাবে পরাজিত করতে ব্যর্থ হয়ে তার অর্থনৈতিক শক্তিকে দুর্বল করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। ইংল্যান্ডের অর্থনৈতিক শক্তির প্রধান ভিত্তি ছিল শিল্প ও বৈদেশিক বাণিজ্য। তাই ইংল্যান্ডের সঙ্গে ইউরোপের বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে তাকে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল করার উদ্দেশ্যে নেপোলিয়ন যে অর্থনৈতিক অবরোধের নীতি গ্রহণ করেছিলেন, তা মহাদেশীয় অবরোধ (Continental System) নামে পরিচিত। ১৮০৬ সালের বার্লিন ডিক্রির মাধ্যমে এই ব্যবস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হয়। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল ইউরোপের কোনো দেশ যাতে ইংল্যান্ড বা তার উপনিবেশ থেকে পণ্য আমদানি করতে না পারে এবং ইংল্যান্ডের জাহাজ যাতে ইউরোপীয় বন্দরে প্রবেশ করতে না পারে। এর ফলে ইংল্যান্ড তার গুরুত্বপূর্ণ ইউরোপীয় বাজার হারাবে—নেপোলিয়নের এমনই ধারণা ছিল।

মহাদেশীয় অবরোধ কীভাবে কার্যকর করা হয়েছিল :
নেপোলিয়ন বিভিন্ন ডিক্রি ও সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে মহাদেশীয় অবরোধকে কার্যকর করার চেষ্টা করেন।

প্রথমত, বার্লিন ডিক্রি জারি : ১৮০৬ সালের ২১ নভেম্বর নেপোলিয়ন বার্লিন ডিক্রি (Berlin Decree) জারি করেন। এর মাধ্যমে ইংল্যান্ড ও তার উপনিবেশ থেকে আসা কোনো জাহাজকে ফ্রান্সের নিয়ন্ত্রণাধীন ইউরোপীয় বন্দরে প্রবেশ করতে নিষেধ করা হয়। ইংল্যান্ডের পণ্যও নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয় এবং ইউরোপে পাওয়া ইংরেজ পণ্য বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

দ্বিতীয়ত, অর্ডারস-ইন-কাউন্সিল : নেপোলিয়নের বার্লিন ডিক্রির প্রতিক্রিয়ায় ইংল্যান্ড ১৮০৭ সালে Orders-in-Council জারি করে। এর মাধ্যমে নিরপেক্ষ ও ইউরোপীয় জাহাজের ওপরও নানা বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। ইংল্যান্ডের অনুমতি বা লাইসেন্স ছাড়া নির্দিষ্ট বন্দরগুলিতে বাণিজ্য করা কঠিন হয়ে পড়ে।

তৃতীয়ত, মিলান ডিক্রি : ইংল্যান্ডের অর্ডারস-ইন-কাউন্সিলের জবাবে নেপোলিয়ন ১৮০৭ সালে মিলান ডিক্রি (Milan Decree) জারি করেন। এতে বলা হয়, যে নিরপেক্ষ জাহাজ ইংল্যান্ডের কাছ থেকে লাইসেন্স গ্রহণ করবে বা ইংরেজ নিয়ম মেনে চলবে, তাকে শত্রু জাহাজ হিসেবে গণ্য করে বাজেয়াপ্ত করা হবে।

চতুর্থত, অন্যান্য ডিক্রি ও সামরিক ব্যবস্থা : নেপোলিয়ন অবরোধকে আরও কঠোর করার জন্য ওয়ারশ ডিক্রি এবং ফঁতেনব্লো ডিক্রি (Fontainebleau Decree) জারি করেন। অবরোধ অমান্য করে ইংরেজ পণ্য আমদানি করলে সেই পণ্য বাজেয়াপ্ত ও ধ্বংস করার নির্দেশ দেওয়া হয়। ইউরোপের বিভিন্ন দেশকে অবরোধ মানতে বাধ্য করার জন্য নেপোলিয়ন সামরিক শক্তিও ব্যবহার করেন। পর্তুগাল অবরোধ মানতে অস্বীকার করলে তিনি সেখানে অভিযান চালান। স্পেনেও ফরাসি হস্তক্ষেপের ফলে দীর্ঘ Peninsular War শুরু হয়। রাশিয়া প্রথমে অবরোধ মেনে নিলেও পরে তা অমান্য করে। ফলে ১৮১২ সালে নেপোলিয়ন রাশিয়া আক্রমণ করেন।

সুতরাং, বিভিন্ন ডিক্রি, বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা এবং সামরিক শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে নেপোলিয়ন মহাদেশীয় অবরোধ কার্যকর করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু ইউরোপীয় দেশগুলির ইংরেজ পণ্যের ওপর নির্ভরতা, চোরাচালান, নেপোলিয়নের সামরিক অভিযানের বিস্তার এবং রাশিয়ার অবরোধ থেকে সরে যাওয়ার ফলে শেষ পর্যন্ত এই ব্যবস্থা সম্পূর্ণ সফল হয়নি।


খ) ইংল্যাণ্ডে সর্বপ্রথম শিল্পবিপ্লবের কারণগুলি কী ছিল?

Ans : -  শিল্পবিপ্লব বলতে মূলত অষ্টাদশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি থেকে যন্ত্রনির্ভর শিল্পভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তরকে বোঝায়। ইংল্যাণ্ডেই সর্বপ্রথম শিল্পবিপ্লবের সূচনা হয়। এর পেছনে একাধিক অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, প্রাকৃতিক ও বৈজ্ঞানিক কারণ একত্রে কাজ করেছিল।

১. কৃষি বিপ্লব : অষ্টাদশ শতকে ইংল্যাণ্ডে কৃষিক্ষেত্রে নতুন পদ্ধতি ও প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি পায়। কৃষি উৎপাদন বাড়ার ফলে শিল্পের জন্য কাঁচামাল, শ্রমিকদের জন্য খাদ্য এবং শিল্পপণ্যের জন্য অভ্যন্তরীণ বাজারের প্রসার ঘটে।

২. কাঁচামালের সহজলভ্যতা : ইংল্যাণ্ডের বিস্তৃত ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্য থেকে তুলা, চিনি, রং এবং অন্যান্য কাঁচামাল সহজে সংগ্রহ করা সম্ভব ছিল। ফলে শিল্প উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের অভাব হয়নি।

৩. বিস্তৃত বাজার : ইংল্যাণ্ডের নিজস্ব বাজারের পাশাপাশি উত্তর আমেরিকা, এশিয়া, আফ্রিকা ও অন্যান্য উপনিবেশে ইংরেজ শিল্পপণ্যের বিশাল বাজার গড়ে উঠেছিল। বিদেশি বাণিজ্য থেকে প্রচুর মুনাফা অর্জিত হওয়ায় শিল্পের প্রসার ত্বরান্বিত হয়।

৪. মূলধনের জোগান : ইংল্যাণ্ডের উন্নত ব্যাঙ্কিং ও আর্থিক ব্যবস্থা শিল্পে বিনিয়োগের জন্য পর্যাপ্ত মূলধন সরবরাহ করেছিল। বিদেশি বাণিজ্য ও উপনিবেশ থেকে অর্জিত বিপুল মুনাফাও শিল্পে বিনিয়োগ করা হয়।

৫. সস্তা শ্রমিক : কৃষিক্ষেত্রে ভূমি ব্যবস্থার পরিবর্তন ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে বহু মানুষ জীবিকার সন্ধানে শহরে আসতে বাধ্য হয়। ফলে কলকারখানাগুলির জন্য প্রচুর সস্তা শ্রমিক পাওয়া যায়।

৬. সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা : ব্রিটিশ সরকার দেশীয় শিল্প ও বাণিজ্যের স্বার্থ রক্ষায় বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল। বিদেশি পণ্যের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ করে দেশীয় শিল্পকে প্রতিযোগিতা থেকে সুরক্ষা দেওয়া হয়।

৭. প্রাকৃতিক সম্পদ : ইংল্যাণ্ডে প্রচুর কয়লা ও লোহা পাওয়া যেত, যা বাষ্পীয় ইঞ্জিন, যন্ত্রপাতি ও লৌহশিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রাকৃতিক বন্দর, নদী ও খালও পরিবহনে সাহায্য করেছিল।

৮. বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার ও প্রযুক্তিগত উন্নতি : শিল্পবিপ্লবের প্রধান চালিকাশক্তি ছিল বিভিন্ন যন্ত্রের আবিষ্কার। জন কে-এর ‘ফ্লাইং শাটল’, হারগ্রিভসের ‘স্পিনিং জেনি’, আর্করাইটের ‘ওয়াটার ফ্রেম’ এবং জেমস ওয়াটের উন্নত বাষ্পীয় ইঞ্জিন শিল্প উৎপাদনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনে। পরবর্তীকালে বাষ্পচালিত রেল ও জাহাজ পরিবহন ব্যবস্থাকেও দ্রুত উন্নত করে।

৯. উন্নত যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থা : ইংল্যাণ্ডের শক্তিশালী নৌবাহিনী এবং উন্নত বন্দরব্যবস্থা বিদেশি বাণিজ্যকে সহজ করে তোলে। নদী, খাল ও সড়কপথের উন্নতির ফলে দেশের অভ্যন্তরেও কাঁচামাল ও শিল্পপণ্য দ্রুত পরিবহন করা সম্ভব হয়।

১০. বাণিজ্যের প্রসার : সপ্তদশ শতক থেকেই ইংল্যাণ্ড আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ শক্তিতে পরিণত হয়। বিদেশি বাণিজ্য থেকে অর্জিত সম্পদ শিল্প প্রতিষ্ঠা ও নতুন প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করে।

মূল্যায়ন : সুতরাং বলা যায়, কোনো একটি কারণে নয়, বরং কৃষি বিপ্লব, কাঁচামাল ও বাজারের প্রাচুর্য, মূলধন ও সস্তা শ্রমিক, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, প্রাকৃতিক সম্পদ, বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার এবং উন্নত যোগাযোগ ও বাণিজ্যব্যবস্থার সম্মিলিত প্রভাবে ইংল্যাণ্ডে সর্বপ্রথম শিল্পবিপ্লবের সূচনা হয়েছিল।


গ) বিশ্ব ইতিহাসে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রভাব সম্পর্কে যা জান লেখ।

Ans : - 

১৯৩৯ থেকে ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সংঘটিত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ছিল মানব ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ ও সুদূরপ্রসারী ঘটনা। এই যুদ্ধে অক্ষশক্তির পরাজয় এবং মিত্রশক্তির জয় হলেও এর প্রভাব শুধু যুদ্ধক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ ছিল না। বিশ্বের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে এর ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে।

১. ব্যাপক ধ্বংসলীলা :
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ইউরোপ ও এশিয়ার বহু শহর, শিল্পকেন্দ্র, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং জনপদ ধ্বংস হয়ে যায়। যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে ১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট হিরোশিমা এবং ৯ আগস্ট নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ করা হয়। এর ফলে বিপুল প্রাণহানি ঘটে এবং পারমাণবিক যুদ্ধের ভয়াবহতা বিশ্ববাসীর সামনে প্রকাশ পায়।

২. আমেরিকা ও সোভিয়েত রাশিয়ার উত্থান :
যুদ্ধের পর ইউরোপের বহু দেশ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। বিপরীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত রাশিয়া দুটি প্রধান বিশ্বশক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। ফলে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তাদের প্রভাব ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়।

৩. ঠান্ডা যুদ্ধের সূত্রপাত :
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাদী-গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা এবং সোভিয়েত রাশিয়ার সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার মধ্যে আদর্শগত ও রাজনৈতিক বিরোধ তীব্র হয়। বিশ্ব ক্রমশ দুটি প্রধান শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়ে এবং তাদের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধ না হলেও দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু হয়, যা ঠান্ডা যুদ্ধ নামে পরিচিত।

৪. সাম্রাজ্যবাদের পতন ও উপনিবেশগুলির স্বাধীনতা :
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলে ব্রিটেন, ফ্রান্সসহ ইউরোপীয় ঔপনিবেশিক শক্তিগুলি অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। একই সময়ে এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে জাতীয়তাবাদী আন্দোলন শক্তিশালী হয়। ফলে পরবর্তী কয়েক দশকে ভারতসহ বহু উপনিবেশ স্বাধীনতা লাভ করে।

৫. জার্মানির বিভক্তি :
যুদ্ধের পর পরাজিত জার্মানি মিত্রশক্তির নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন অঞ্চলে বিভক্ত হয়। পরবর্তীকালে জার্মানি পূর্ব জার্মানি ও পশ্চিম জার্মানি—এই দুটি পৃথক রাষ্ট্রে বিভক্ত হয়। ইউরোপের রাজনৈতিক মানচিত্রেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটে।

৬. সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের প্রতিষ্ঠা :
বিশ্বশান্তি ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা রক্ষার উদ্দেশ্যে ১৯৪৫ সালে সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ (United Nations) প্রতিষ্ঠিত হয়। আন্তর্জাতিক বিরোধ শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান এবং ভবিষ্যতে বিশ্বযুদ্ধ প্রতিরোধ করা ছিল এর অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।

৭. যুদ্ধাপরাধের বিচার :
যুদ্ধের পর নাৎসি জার্মানির নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার অনুষ্ঠিত হয়। ন্যুরেমবার্গ বিচার আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে যুদ্ধাপরাধের বিচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠে।

উপসংহার :
সুতরাং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী। এর ফলে একদিকে বিপুল ধ্বংস ও প্রাণহানি ঘটে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন শক্তির উত্থান, ঠান্ডা যুদ্ধ, উপনিবেশবাদের পতন, স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রসার এবং জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠার মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটে। তাই বিশ্ব ইতিহাসে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ একটি যুগান্তকারী ঘটনা হিসেবে বিবেচিত।





একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0মন্তব্যসমূহ

Enter Your Comment

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)