নবম শ্রেণির বাংলা ৩য় ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র ও সাজেশন ২০২৬
নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য এই পোস্টে WBBSE Class 9 Bengali 3rd Unit Test Question Paper 2026, প্রশ্নোত্তর, গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, বাংলা নোটস এবং Class 9 Bengali 3rd Unit Test Suggestion 2026 দেওয়া হলো। যারা Class 9 Bengali 3rd Unit Test Question 2026, WBBSE Class 9 Bengali Question Paper 2026 অথবা Class 9 Bengali 3rd Summative Evaluation Question Paper with Answers খুঁজছো, তাদের জন্য এই পোস্টটি উপযোগী।
Class 9 Bengali 3rd Unit Test 2026 / Bengali Suggestion 2026 PDF
Class 9 Bengali 3rd Unit Test 2026 পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য গদ্য, পদ্য, ব্যাকরণ, রচনা, প্রতিবেদন, পত্রলিখন এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ভালোভাবে অনুশীলন করা জরুরি। এই পোস্টে দেওয়া Class 9 Bengali Question Answer 2026 এবং Bengali Suggestion 2026 পরীক্ষার আগে দ্রুত Revision ও Practice করতে সাহায্য করবে।
Class 9 Bengali Suggestion 2026 / Class 9 Bengali Question Paper PDF 2026
এখানে Class 9 Bengali Important Questions 2026 / নবম শ্রেণির তৃতীয় ইউনিট টেস্টের বাংলা প্রশ্নপত্র, গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর, সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, বড়ো প্রশ্ন, ব্যাকরণ এবং লেখার প্রশ্ন দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে পরীক্ষার প্রস্তুতি আরও সহজে সম্পন্ন করতে পারবে। তবে শুধুমাত্র Suggestion-এর উপর নির্ভর না করে সম্পূর্ণ পাঠ্যসূচি ও পাঠ্যবই ভালোভাবে পড়া উচিত। যারা Class 9 Bengali 3rd Unit Test Question Paper PDF, WBBSE Class 9 Bengali Question Paper with Answers PDF অথবা Class 9 Bengali 3rd Summative Evaluation 2026 / নবম শ্রেণির বাংলা তৃতীয় পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন 2026 খুঁজছো, তারা এই পোস্ট থেকে প্রয়োজনীয় প্রশ্নপত্র, প্রশ্নোত্তর, গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এবং পরীক্ষার প্রস্তুতির উপকরণ পেতে পারবে।
WBBSE Class 9 Bengali 3rd Unit Test Question Paper with Answers | Bengali Suggestion 2026 PDF
WBBSE Class 9 Bengali 3rd Unit Test Question Paper with Answers 2026 এবং Bengali Suggestion 2026 পরীক্ষার্থীদের Revision ও Practice-এর জন্য সহায়ক হবে। এখানে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, উত্তর, ব্যাকরণ, রচনা, প্রতিবেদন, পত্রলিখন এবং পরীক্ষার প্রয়োজনীয় বিষয়গুলি একসঙ্গে পাওয়া যাবে। Class 9 Bengali 3rd Unit Test Question Paper 2026-এর সঙ্গে এখানে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর ও সাজেশনও দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার আগে এই প্রশ্নগুলি ভালোভাবে অনুশীলন করে নিজেদের প্রস্তুতি যাচাই করতে পারবে।
Class IX Bengali 3rd Unit Test Question Paper 2026
১। সঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখো : ১ × ১৮ = ১৮
১.১ একদল আত্মীয় অনেক দূর থেকে এসে তার বাড়িতে অতিথি হল কার কাছে আত্মীয় এসেছিল ?
(ক) ইলিয়াসের কাছে
(খ) শালুক ফুলের মতো
(গ) মহম্মদ শার কাছে
(ঘ) ইলিয়াসের মেয়ের কাছে
১.২ এবার তার স্বরে কাতরতা—কার স্বরে কাতরতা ?
(ক) শোভনের বাবার
(খ) শোভনের
(গ) সোমেশের
(ঘ) শোভনের মায়ের
১.৩ 'কামরাঙা লালমেঘ – কার মতো গঙ্গাসাগরের ঢেউয়ে ডুবে গেছে ?
(ক) সাদা বকের মতো
(খ) মৃত মনিয়ার মতো
(গ) মাছরাঙা পাখির মতো
(ঘ) চারমিনারের ভিত্তি
১.৪ নটে গাছটি বুড়িয়ে ওঠে , কিন্তু --
ক) মরে না।
খ) মুড়য় না।
গ) ফুরোয় না।
ঘ) নেভে না।
উত্তর: খ) মুড়য় না।
১.৫ বাঙালির সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যসৃষ্টি তার—
(ক) বাউল গানে
(খ) পদাবলি কীর্তনে
(গ) সিনোজয়িক
(ঘ) ইওসিন
১.৬ ' ভুজঙ্গ ' শব্দের অর্থ --
ক) ব্যাঙ
খ) সাপ
গ) টিকটিকি
ঘ) পাখি
১.৭ আত্মনির্ভরশীল ভাষা হলো --
ক) বাংলা
খ) হিব্রু
গ) হিন্দি
ঘ) ইংরেজি
১.৮ চোখ ধাঁধানো সবুজ আলো আর বিকট শব্দ—কী দিয়ে পরীক্ষার সময় প্রফেসর শঙ্কুর এমন অভিজ্ঞতা হয়েছিল ?
(ক) ট্যানট্রাম বোরোপ্যাক্সিনেট
(খ) একুইয়স্
১.৯ নভেম্বর মাসে সারা বিশ্বের পক্ষীবিজ্ঞানীদের কনফারেন্স হওয়ার কথা যে শহরে-
(ক) প্যারিস
(খ) বার্লিন
১.১০ প্রফেসর শঙ্কুর বন্ধু সন্ডার্স কোন্ রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন ?
(ক) লিউকোমিয়া
(খ) মেনেনজাইটিস্
১.১১ কণ্ঠ্যতালব্য স্বরধ্বনিটি হল-
(ক) 'এ'
(খ) ফুসফুসের ক্যান্সার
(গ) যকৃতের ক্যান্সার
(ঘ) উ
১.১২ স্পর্ধা> আস্পর্ধা -- এখানে কোন জাতীয় ধ্বনি পরিবর্তন ঘটেছে ?
ক) আদি স্বরাগম
খ) মধ্য স্বরাগম
গ) অন্ত স্বরাগম
ঘ) ব্যঞ্জনালোপ
১.১৩ ‘বাগাড়ম্বর' শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ হল—
(ক) বাগ + আড়ম্বর
(খ) বাগা + ডুম্বর
(গ) বাক্ + ডুম্বর
(ঘ) বাক + আড়ম্বর
১.১৪ তির্যক বিভক্ত হল --
ক) ই
খ) অ
গ) এ
ঘ) র
১.১৫ একটি তামিল শব্দ হল—
(ক) ঘুগনি
(খ) বর্গি
(গ) কচুরি
(ঘ) চুরুট
১.১৬ ‘সেদিন কোথায় তুমি হে ভাবুক, হে বীর মারাঠী। —ভাবুক শব্দটি—
(ক) বিশেষ্যের বিশেষণ
(খ) বিশেষণের বিশেষণ
(গ) সর্বনামের বিশেষণ
(ঘ) সংখ্যা বিশেষণ
১.১৭ সমুদ্রের ঢেউয়ের মতন তার মন—নিম্নরেখ পদটি কী জাতীয় অব্যয় ?
(ক) উপমাদ্যোতক
(খ) হেতুবাচক
(গ) যত
(ঘ) সংশয়বাচক
১.১৮ ‘সামীপ্যবাচক নির্দেশক সর্বনাম পদের উদাহরণ—
(ক) ওদের
(খ) কারা
(গ) অন্যথাসূচক
(ঘ) এদের
২। কমবেশি ১৫টি শব্দের মধ্যে নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর লেখো : ১ × ১৮ = ১৮
২.১ ‘জমিদার নিজে তাঁকে কাতর অনুরোধ জানিয়েছেন'—কাতর অনুরোধটি কী ছিল ?
২.২ চন্দ্রনাথ পরীক্ষার সময় হিরুকে কীভাবে সাহায্য করেছিল ?
২.৩ 'আছুক শস্যের কার্য হেজ্যা গেল ঘর'—কলিঙ্গ দেশে কত দিনের ‘নিরন্তর বৃষ্টিতে এমনটা হয়েছিল?
২.৪ ‘এ তরীতে মাথা ঠুকে সমুদ্রের দিকে তারা ছোটে। কবি কাদের কথা বলেছেন ?
২.৫ – ভুটায়ানিরা কী বলে নিজেদের পরিচয় দেয় ?
২.৬ এত ভালো, এত স্নেহময়ী তিনি—স্বামী বিবেকানন্দ কার সম্পর্কে এই মন্তব্য করেছেন ?
২.৭ 'আমি একজন জেলে'—জেলেটি কোথায় থাকে ?
২.৮ 'হাইনরিখ স্টাইনারের' পরিচয় কী?
২.৯ প্রফেসর শঙ্কু এবং গ্রেনফেল, জাদুকর আর্গাসের ম্যাজিক কোন্ থিয়েটারে দেখতে গিয়েছিলেন ?
২.১০ “বিভং ভীবং বিভং”—বক্তা কে ?
২.১১ 'বে' উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয় ?
২.১২ কোন্ অনুসর্গ পদগুলি দিয়ে অপাদান কারক বোঝানো যায় ?
২.১৩ ‘যোগরুঢ়' শব্দ বলতে কী বোঝো ?
২.১৪ 'নবিশ' প্রত্যয় (বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়) কোন্ অর্থে ব্যবহৃত হয় ? উদাহরণ দাও।
২.১৫ ‘অপিনিহিতি” কাকে বলে ?
২.১৬ সন্ধিবিচ্ছেদ করো : নদ্যম্বু।
২.১৭ একটি শব্দদ্বৈতাশ্রয়ী বিশেষণকে বাক্যে প্রয়োগ করো।
২.১৮ ‘ভিক্ষা করে ফিরিতেছিলাম গ্রামের পথে পথে।—বাক্যের ক্রিয়ার কালটি নির্ধারণ করো।
৩। কমবেশি ৬০টি শব্দে নীচের যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও : ৩ × ১ = ৩
৩.১ ‘এইটেই আমার কাছে তার স্মৃতিচিহ্ন'—কীসের কথা বলা হয়েছে? সেটাই শেষ স্মৃতিচিহ্ন কেন ?
৩.২ ‘অগত্যা রাধারানী কাঁদিতে কাঁদিতে ফিরিল'—রাধারানী কোথা থেকে, কেন কেঁদে কেঁদে ফিরেছিল ?
৪। কমবেশি ৬০টি শব্দে নীচের যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও : ৩ × ১ = ৩
৪.১ ‘বিষম ধাতুর মিলন ঘটায়ে বাঙালি দিয়েছে বিয়া—কবি কোন্ বাঙালির, কোন্ কৃতিত্বের কথা তুলে ধরেছেন ?
৪.২ ‘ফুরয় না সেই একগুঁয়েটার দুরস্ত পিপাসা–কোন্ পিপাসাকে, কেন দুরন্ত বলা হয়েছে ?
৫। কমবেশি ৬০টি শব্দে নীচের যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও : ৩ × ১ = ৩
৫.১ ‘চেষ্টাটার ফল আমি হয়তো দেখে যেতে পারব না'—লেখক কোন চেষ্টাকে, কেন কটাক্ষ করেছেন ?
৫.২ ‘মিস্ মুলার কিংবা অন্য কারও পক্ষপুটে আশ্রয় নিলে চলবে না—স্বামী বিবেকানন্দ কেন মিস্ নোবলকে মিস্ মুলার সম্পর্কে সতর্ক করেছেন ?
৬। কমবেশি ৬০টি শব্দে নীচের যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও : ৩ × ১ = ৩
৬.১ 'দামি রত্ন বসানো বলেই আংটিটা রাজার কাছে মূল্যবান মনে হয়েছে—এমনটা আমার মনে হয় না–কার, কেন এরকম ধারণা হয়েছে ?
৬.২ 'চলরে গাঁটকাটা'—বক্তা কারা ? উদ্দীষ্ট ব্যক্তির প্রকৃত জীবিকা কীভাবে জানা গেছে ?
৭। নীচের যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও (কমবেশি ৬০টি শব্দে): ৩ × ১ = ৩
৭.১ ‘কাল টাফায় পৌঁছেছি'—টাফায় পৌঁছে প্রোফেসর শঙ্কু কী দেখলেন? টাফা গ্রহের বাসিন্দাদের কেমন দেখতে ছিল?
৭.২ ম্যালি-ফাউল পাখি ডিমে তা না দিয়েও ডিম ফোটায় কীভাবে? গ্রিরপাখিদের আচরণগত রহস্য উল্লেখ করো।
৮। নীচের যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও (কমবেশি ১৫০টি শব্দে): 5
৮.১ 'আমার ছাত্র আমাকে অমর করে দিয়েছে'—বক্তা কে? কীভাবে তিনি অমরত্ব লাভ করেছেন তা প্রসঙ্গ উল্লেখসহ আলোচনা করো।
৮.২ 'আমরাও ভিখারি হইয়াছি, দান গ্রহণ করিয়া খরচ করি'–কে এই উক্তিটি করেছেন? বক্তার এই মন্তব্যের প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য গল্পাংশ অবলম্বনে বিবৃত করো।
৯। নীচের যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও (কমবেশি ১৫০টি শব্দে): 5
৯.১ 'কারার ওই লৌহকপাট, ভেঙে ফেল কররে লোপাট'—কাজী নজরুল ইসলাম কোন্ পটভূমিতে এই আহ্বান জানিয়েছেন? 'ভাঙার গান' কবিতার এই অংশে কবির যে মানসিকতা প্রকাশ পেয়েছে তা আলোচনা করো।
৯.২ 'সকাল হইতে সন্ধ্যা করে আনাগোনা কারা কোথায় আনাগোনা করে?' এই আনাগোনার মধ্য দিয়ে কবি কোন্ সত্য প্রকাশ করতে চেয়েছেন?
১০। নীচের যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও (কমবেশি ১৫০টি শব্দে): 5
১০.১ ‘বাঙালির চরিত্রে বিদ্রোহ বিদ্যমান’–কে, কোন্ প্রবন্ধে এই মন্তব্য করেছেন? তিনি তাঁর মন্তব্যের জন্য কী কী যুক্তি উল্লেখ করেছেন?
১০.২ ‘ঈশ্বরই প্রশংসার যোগ্য। তিনিই ধন্য'—কে, কেন এই মন্তব্য করেছেন?
১১। নীচের যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও (কমবেশি ১৫০টি শব্দে): 5
১১.১ “কীভাবে এই আংটি আমার কাছে এল—তা বললাম।” -কার আংটি, কে পেয়েছিল? সে কীভাবে পেয়েছিল?
১১.২ 'প্রভু, আজ আমার সংসার চলবে কী করে?'–কে, কাকে একথা বলেছে? বক্তা কোন্ কাজের জন্য কী উপহার পেয়েছিল?
১২। নীচের যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও (কমবেশি ১৫০টি শব্দে): 5
১২.১ 'আমি শার্ট বদল করতে উপরে যাচ্ছি'—বক্তা কে? তার হাত থেকে প্রফেসর শঙ্কু কীভাবে মুক্তি পেল তা বিবৃত করো।
১২.২ 'শঙ্কু—দ্যাট বার্ড ইজ হিয়ার'–কে, কোন্ বার্ডের কথা বলেছেন? পাখিটি কীভাবে ওখানে গেল?
১৩। নীচের যে-কোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো (কমবেশি ৩০০টি শব্দে): 10
১৩.১ পরিবেশদূষণ ও তার প্রতিকার।
১৩.২ যুগনায়ক বিবেকানন্দ।
১৩.৩ 'চন্দ্রযান-৩'—মহাকাশবিজ্ঞানে ভারতের সাফল্য।
১৩.৪ দেশভ্রমণ—শিক্ষার অঙ্গ।
১৪। নির্দেশ অনুসারে একটি প্রশ্নের উত্তর দাও: 4 x 1 = 4
১৪.১ ভাবসম্প্রসারণ করো:
"পথের প্রান্তে আমার তীর্থ নয়, পথের দুধারে আছে মোর দেবালয়।”
Ans : - মানুষ সাধারণত জীবনের শেষ লক্ষ্য বা সফলতার একটি নির্দিষ্ট গন্তব্যকে বড় করে দেখে। সে মনে করে, সেই গন্তব্যে পৌঁছাতে পারলেই তার জীবন সার্থক হবে। কিন্তু আলোচ্য পংক্তিটিতে এক গভীর জীবনদর্শন প্রকাশ পেয়েছে। কবি বোঝাতে চেয়েছেন যে, কেবল সমাপ্তি বা অন্তিম ফলই সব নয়; বরং যে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে সেখানে পৌঁছাতে হয়, সেই যাত্রাপথের অভিজ্ঞতা অনেক বেশি মূল্যবান।পথ চলার সময় দু’ধারে ছড়িয়ে থাকা প্রকৃতি, মানুষের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা এবং প্রতিদিনের ছোট ছোট প্রাপ্তিই আসল উপাসনার জায়গা বা দেবালয়। তীর্থস্থান বলতে আমরা যেখানে ঈশ্বরকে খুঁজতে যাই, তার চেয়েও বড় তীর্থ হলো আমাদের চারপাশের চেনা পৃথিবী ও কর্মক্ষেত্র। মানুষের সেবা করা, চারপাশের সৌন্দর্য উপভোগ করা এবং চলার পথের প্রতিটি মানুষকে ভালোবাসা ও আপন করে নেওয়ার মধ্যেই জীবনের সার্থকতা নিহিত।অতএব, জীবনের শেষ পরিণতি বা সাফল্যের চেয়ে যাত্রাপথের সংগ্রাম, কর্মনিষ্ঠা এবং মানবপ্রেমই অধিক তাৎপর্যপূর্ণ। পথ চলার মধ্যেই জীবনের সত্য ও সুন্দর রূপটি উন্মোচিত হয়।
১৪.২ সারাংশ লেখো : 8×১=৪
পাপীকে সাধু করা বড় সহজ কথা নয়। ইহাতে অনেক যত্ন, অনেক সতর্কতা, মানব প্রকৃতির অনেক জ্ঞান থাকা চাই। এমনকি, কিছু কালের নিমিত্ত আপনার স্বার্থ পর্যন্ত বিস্মৃত হতে হয়। এ সংসারে প্রেমই হৃদয়রাজ্যের অদ্বিতীয় ঈশ্বর। কি শিশু, কি প্রবীণ, কি বৃদ্ধ, কি ধনী, কি নির্ধন, কি পাপী, কি সাধু সকলেই এক বাক্যে ভালোবাসার দাস। অন্যের অন্তঃকরণে প্রভুত্ব করিতে হইলে প্রথমত ভালোবাসার দ্বারাই তাহার পথ প্রস্তুত করিতে হয়। এইরূপ পরোক্ষ শিক্ষাদানেরও উদ্দেশ্য ভালোবাসার দ্বারা কার্যকরী হয়। বস্তুত সহৃদয়তা ছাড়া যে পরের উপকার করা যায় না এবং সর্বসময় স্নেহের অভাবে যে সর্বপ্রকার সদ্গুণও থাকা না থাকা সমান তাহাতে আর সন্দেহ কি!
Ans : - সারাংশ:
পাপীকে সৎপথে ফিরিয়ে আনা বা মানুষের মন জয় করা একটি অত্যন্ত কঠিন কাজ, যার জন্য প্রয়োজন গভীর যত্ন, সতর্কতা, মানবপ্রকৃতির জ্ঞান এবং সাময়িক স্বার্থত্যাগ। এই সংসারে ভালোবাসা ও সহৃদয়তাই হৃদয় জয়ের একমাত্র মাধ্যম। প্রকৃত অর্থে ভালোবাসা ছাড়া মানুষের কল্যাণ করা অসম্ভব এবং স্নেহের অভাব ঘটলে সমস্ত সদ্গুণই মূল্যহীন হয়ে পড়ে।
১৪.৩ ভাবার্থ লেখো :
পদে পদে ছোটো ছোটো নিষেধের ডোরে
বেঁধে বেঁধে রাখিয়ো না ভালো ছেলে করে।
প্রাণ দিয়ে দুঃখ সয়ে, আপনার হাতে
সংগ্রাম করিতে দাও ভালো মন্দ সাথে।
শীর্ণ শান্ত সাধু তব পুত্রদের ধরে
দাও সবে গৃহছাড়া লক্ষ্মীছাড়া ক'রে।
সাতকোটি সন্তানেরে হে মুগ্ধা জননী
রেখেছ বাঙালি করে মানুষ করোনি।
Ans : - কবি মায়ের কাছে প্রার্থনা করেছেন, সন্তানদের ছোটো ছোটো নিষেধের বেড়াজালে আবদ্ধ করে রাখার জন্য নয়। তাদের জীবনের দুঃখ-কষ্ট নিজের শক্তিতে সহ্য করে ভালো-মন্দের সঙ্গে সংগ্রাম করে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিতে হবে। অতিরিক্ত শান্ত, দুর্বল ও সাধু স্বভাবের করে রাখলে তারা জীবনের বাস্তব সমস্যার মোকাবিলা করতে পারবে না। তাই কবি চান, মা যেন তাঁর সন্তানদের ঘর ও স্বাচ্ছন্দ্যের মোহ ত্যাগ করে সংগ্রামী, সাহসী ও কর্মক্ষম মানুষ হিসেবে গড়ে তোলেন। শুধুমাত্র বাঙালি পরিচয় নয়, প্রকৃত অর্থে মানুষ হয়ে ওঠাই হওয়া উচিত তাঁদের জীবনের লক্ষ্য।
১৪.৪ প্রদত্ত সূত্র অনুসারে গল্প লেখো : -
কাহিনি-সূত্র : তিনি লোকটিকে নিজের কাঁধে তুলে নিলেন—নীলরতন হাসপাতালে তাকে নিয়ে এলেন—ডাক্তাররা বিরক্ত—ছোঁয়াচে রোগ—প্রশ্ন করলেন—'তুমি কি বিদ্যাসাগর হয়ে গেছ ?—তিনি বললেন— 'আমিই বিদ্যাসাগর।
Ans : - মহৎ প্রাণের পরিচয়
একবার কলকাতার এক ব্যস্ত রাস্তায় এক মর্মান্তিক দৃশ্য দেখা গেল। রাস্তার ধারে এক হতদরিদ্র অসুস্থ মানুষ যন্ত্রণায় ছটফট করছে। তার শরীর থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছে এবং তার অবস্থা দেখে পথচলতি সাধারণ মানুষ ভয়ে নাক সিটকে দূরে সরে যাচ্ছে। কারোরই বুঝতে বাকি রইল না যে লোকটির রোগটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে।
ঠিক সেই সময় সেই পথ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন পন্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। সাধারণ মানুষের মতো মুখ ফিরিয়ে চলে না গিয়ে তিনি পরম মমতায় লোকটির কাছে এগিয়ে গেলেন। বিন্দুমাত্র দ্বিধা বা ঘৃণা না করে তিনি লোকটিকে নিজের কাঁধে তুলে নিলেন। সমাজের তথাকথিত ভয়ের পরোয়া না করে তিনি নিজ কাঁধে বহন করে নীলরতন হাসপাতালে তাকে নিয়ে এলেন।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত ডاک্টাররা বিরক্ত হলেন এবং ছোঁয়াচে রোগের রোগী হাসপাতালে আনার জন্য তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করতে লাগলেন। তাদের মধ্যে একজন উপহাসের সুরে প্রশ্ন করলেন— 'তুমি কি বিদ্যাসাগর হয়ে গেছ?'
সব শুনে বিন্দুমাত্র বিচলিত না হয়ে, অত্যন্ত শান্ত ও দৃঢ় কণ্ঠে তিনি উত্তর দিলেন— 'আমিই বিদ্যাসাগর।'
ডাক্তারবাবু ও উপস্থিত সকলে তাঁর এই নির্ভীক চিত্ত, সাধারণ মানুষের প্রতি অগাধ ভালোবাসা এবং মহান মানবিক রূপ দেখে বাকরুদ্ধ হয়ে গেলেন।


Enter Your Comment