Class 8 প্রাকৃতিক ঘটনা ও তার বিশ্লেষণ নোটস ও সমাধান
WBBSE Class 8 Paribesh O Bigyan Chapter 5 Solution | প্রাকৃতিক ঘটনা ও তার বিশ্লেষণ
1) পেন্টোগ্রাফ
উত্তর : - বৈদ্যুতিক ট্রেনের উপরে থাকা যে ত্রিভুজাকৃতি ধাতব পাত উচ্চ বিভবযুক্ত ওভারহেড তারে সাথে ট্রেনের তড়িৎ সংযোগ তৈরি করে, তাকে পেন্টোগ্রাফ বলে।
2) আয়ন কাকে বলে? ধনাত্মক আয়ন (+) এবং ঋণাত্মক (-) আয়ন কিভাবে গঠিত হয়?
উত্তর : - যদি কোন কারনে কোনো পরমাণুতে প্রোটনের সংখ্যা ও ইলেকট্রন এর সংখ্যা সমান না থাকে, তাহলে সেই পরমাণুকে আয়ন বলা হয়।
ধনাত্মক (+) আয়ন বা ক্যাটায়নঃ কোনো পরমাণু থেকে এক বা একাধিক ইলেকট্রন বেরিয়ে গেলে পরমাণুটিতে ইলেকট্রন সংখ্যার তুলনায় প্রোটন সংখ্যা বেশি হয়ে যায়। তখন পরমাণুটি ধনাত্মক (+) আয়ন ও ক্যাটায়ন এ পরিণত হয়।
ঋণাত্মক আয়ন (-) বা অ্যানায়নঃ কোনো পরমাণুতে এক বা একাধিক ইলেকট্রন যুক্ত হলে পরমাণুটিতে প্রোটন সংখ্যার তুলনায় ইলেকট্রন সংখ্যা বেশি হয়ে যায়। তখন পরমাণুটি ঋণাত্মক (-) আয়নে বা অ্যানায়নে পরিণত হয়।
3) বায়ুমন্ডলে প্রচুর পরিমাণে তড়িৎযুক্ত বা তড়িৎগ্রস্ত আয়ন ও পরমাণুর জোট, সূক্ষ্ম ধূলিকণা বা জলকণা ছড়িয়ে রয়েছে। বায়ুমন্ডলে এরা এলো কিভাবে?
উত্তর : - ধনাত্মক আয়ন গঠনের সময় পরমাণু থেকে বেরিয়ে যাওয়া ইলেকট্রন অন্য কোনো পরমাণু বা পরমাণু জোটের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তাদের ঋণাত্মক (-) আধানগ্রস্ত করে দেয়। আবার এই বেরিয়ে যাওয়া ইলেকট্রন অথবা অন্য কোনো আয়ন অনেকসময় বায়ুতে ভাসমান খুব সূক্ষ্ম ধূলিকণা বা জলকণার গায়ে আশ্রয় নিতে পারে। ফলস্বরূপ সেই কণাটিও তখন তড়িৎগ্রস্ত হয়ে পড়ে। এইভাবে বায়ুমন্ডলে তড়িৎযুক্ত বা তড়িৎগ্রস্ত আয়ন, পরমাণুর জোট, ধূলিকণা বা জলকণার সৃষ্টি হয়।
4) শীতকালে চুল আঁচড়ানোর ফলে প্লাস্টিকের চিরুনিতে কি প্রকার তড়িদাধান জমে? এই ঘটনাটি থেকে 'তড়িৎ আবেশ' ও 'আধান ক্ষরণ' হওয়া ব্যাখ্যা করো।
উত্তর : - শীতকালে প্লাস্টিকের চিরুনি দিয়ে শুকনো চুল আঁচড়ালে চিরুনিতে ঋণাত্মক(-) তড়িদাধান জমে।
এই অবস্থায় চিরুনিটিকে ছোটো ছোটো কাগজের টুকরোর কাছে নিয়ে গেলে কাগজের টুকরো আকৃষ্ট হয়। আহিত চিরুনির প্রভাবে কাগজের টুকরোর যে দিকটি চিরুনির কাছে আছে সেই অংশে ধনাত্মক (+) আধান জমে। একেই তড়িৎ আবেশ বলে।
চুল আঁচড়ে চিরুনিটিকে বেশ কিছুক্ষণ রেখে দিলে, চিরুনির আকর্ষণ ধর্ম থাকে না বললেই চলে। সময় যথেষ্ট বেশি হলে চিরুনির আধান হয় বাইরে বেরিয়ে যায়, নয় বাইরে থেকে বিপরীত আধান চিরুনিতে চলে আসে। এই ঘটনায় হলো চিরুনির আধান ক্ষরণ হওয়া।
5) LED র পুরো অর্থ কি?
উত্তর : - Light Emitting Diode.
6) প্রাকৃতিক তড়িৎপ্রবাহ কাকে বলে?
উত্তর : - বায়ুমন্ডলে ভাসমান আধানযুক্ত সূক্ষ্ম ধূলিকণা, বিভিন্ন আয়ন ও জলীয় বাষ্পের অবিরাম নিম্ন অভিমুখী প্রবাহের ফলে ভূপৃষ্ঠ সংলগ্ন বায়ুর মধ্যে দিয়ে সারাক্ষণই যে তড়িৎপ্রবাহ হয়, তাকে প্রাকৃতিক তড়িৎপ্রবাহ বলে।
7) প্রাকৃতিক তড়িৎ প্রবাহ সৃষ্টির কারণ কী?
উত্তর : - প্রায় 50 কিলোমিটার উপরের আকাশ আর ভূপৃষ্ঠের মধ্যে প্রায় চার লক্ষ ভোল্ট পার্থক্য আছে। এই বিভব পার্থক্যের জন্যই বায়ুতে উপস্থিত আধানযুক্ত সূক্ষ্ম ধূলিকণা ও বিভিন্ন আয়ন অবিরাম চলাচল করে। ফলে প্রাকৃতিক তড়িৎপ্রবাহ হয়।
8) ঝড়ের মেঘের উচ্চতা 12-13 কিলোমিটার বা তার চেয়েও বেশি হয় কেন?
উত্তর : - বায়ুমণ্ডলের উপরের দিকে বায়ুর উষ্ণতা ও চাপ কম থাকায় জলীয় বাষ্পভরা বায়ু উপরে উঠে ঠান্ডা হয়। এর ফলে জলীয় বাষ্প জমে জলকণা তৈরি হয়। বায়ু জমে জল হলে লীন তাপ বেরিয়ে আসে। এই লীন তাপের প্রভাবে বাষ্প ও জল ভরা বায়ু আশেপাশের বায়ুর তুলনায় গরম ও হালকা থাকে। এইজন্য এই বায়ু আরো উপরে উঠতে থাকে। তাই ঝড়ের মেঘের উচ্চতা 12 - 13 কিলোমিটার বা তার চেয়েও বেশি হয়।
9) ভূপৃষ্ঠে ঝড়-বৃষ্টি কিভাবে শুরু হয়?
উত্তর : - সূর্যের তাপে ভূপৃষ্ঠের কোন বিস্তৃত অঞ্চলের জলীয় বাষ্প ভরা বায়ু উপরের দিকে উঠতে থাকে। আশেপাশের অঞ্চল থেকেও বায়ু ওই অঞ্চলের দিকে ছুটে আসে ও উপরের দিকে উঠতে থাকে। ওপরের বায়ুর উষ্ণতা উচ্চচাপ অপেক্ষাকৃত কম থাকায় জলীয় বাষ্প ভরা বায়ু ওপরে উঠে শীতল হয়। এর ফলে জলীয় বাষ্প জমে জলকনা তৈরি হয়। বাষ্প জমে জল হলে লীন তাপ নির্গত হয়। এই লীন তাপের প্রভাবে বাষ্প ও জলঘকনা পূর্ণ বায়ু আশেপাশের বায়ুর তুলনায় গরম ও হালকা হয়ে আরো উপরে উঠতে থাকে। একসময় জলকণাগুলি এতটাই ভারী হয়ে যায় যে বায়ুমন্ডলে আর ভেসে থাকতে পারেনা, মাধ্যাকর্ষণের প্রভাবে নিচে নামতে থাকে বায়ুর ঊর্ধ্বমুখী গতিও জলকণাগুলির নিচে পড়া আটকাতে পারেনা। এই অবস্থায় ঝড়ের মেঘের গঠন সম্পূর্ণ হয়। একটা সময় পরে বায়ুও হঠাৎ করে নিচে নামতে শুরু করে। এর ফলে ভূপৃষ্ঠে ঝড় বৃষ্টি শুরু হয়।
10) ঝড়ের মেঘের উপরে ওঠা বা নিচে নামার সময় জল কনা গুলি তড়িৎগ্রস্ত হয় কিভাবে?
উত্তর : - বায়ুতে উপস্থিত বিভিন্ন ধরনের আহিত কণা জল কনার গায়ে জমে জলকণাগুলিকে তড়িৎগ্রস্ত করে। যে জলকণাগুলি নিচের দিকে নামছে সেগুলোই সাধারণত ঋণাত্মক (-) আধান জমা হয়, আর যে জলকণাগুলি উপরের দিকে উঠছে সেগুলোই ধনাত্মক (+) আধান জমে।
11) বজ্রপাত কিভাবে ঘটে?
উত্তর : - সাধারণ সময় মাটি ঋণাত্মক (-) তড়িৎগ্রস্ত হলেও ঝড়ের মেঘের নীচের দিক প্রবল ঋণাত্মক (-) তড়িৎগ্রস্ত হওয়ায় আবেশ এর ফলে মাটিতে ধনাত্মক (+) তড়িৎ জমে। এইভাবে তড়িৎ জমতে জমতে মেঘ ও মাটির বিভবপার্থক্য খুব বেশি হলে অত্যন্ত বড় স্ফুলিঙ্গের আকারে ঋণাত্মক তড়িৎ আধান মেঘ থেকে মাটিতে চলে আসে। এর ফলে ক্ষণস্থায়ী কিন্তু প্রবল তড়িৎ প্রবাহ সৃষ্টি হয়। এটি হলো বজ্রপাত। এর ফলে বায়ু অত্যন্ত গরম হয়ে ওঠে এবং আলো বিকিরণ করে। এই সময় বাতাসে সাময়িক শূন্যতার সৃষ্টি হয়। এজন্যই বায়ুতে প্রবল কম্পন তৈরি হয় বজ্রপাতের সময় শব্দ উৎপন্ন করে।
12) বজ্র নিরোধক কী?
উত্তর : - বজ্র নিরোধক হল ধাতুর তৈরি একটি সরু শক্ত দণ্ড, যার মাথায় সরু সরু কয়েকটা ছোট ছোট ধাতব শলাকা থাকে। একটি বাড়ির সবচেয়ে উঁচু স্থানে লাগানো থাকে। এছাড়া মাটির মধ্যে 5-6 ফুট নীচে একটি ধাতব চওড়া পাত পুঁতে রাখা হয়। একটি মোটা সুপরিবাহী তার দিয়ে ওপরের দণ্ডটি এবং মাটিতে পোঁতা পাতটি যুক্ত করা হয়। এই ব্যবস্থাকে বজ্র নিরোধক বলে।
কলেরা : -
কলেরা একটি মারাত্মক সংক্রামক রোগ, যা সাধারণত দূষিত পানি, মাছি-বসা বা না-ঢাকা খাবার এবং নোংরা পরিবেশের কারণে হয়। এই রোগে শরীর থেকে দ্রুত পানি বেরিয়ে যায়, ফলে তীব্র বমি ও ডায়রিয়া হয়। শরীরের অম্ল-ক্ষার ও লবণের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায় এবং ত্বক নীলচে দেখাতে পারে।
এই রোগের জীবাণু হলো Vibrio cholerae। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা না করলে এটি প্রাণঘাতী হতে পারে।
উনিশ শতকে গাঙ্গেয় বদ্বীপ অঞ্চলে প্রথম এই রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা যায় এবং পরে এটি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।
ম্যালেরিয়া : -
“ম্যালেরিয়া” শব্দের অর্থ ‘খারাপ বায়ু’। এটি একটি মশাবাহিত রোগ, যা স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশার মাধ্যমে ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তে থাকা Plasmodium vivax বা Plasmodium falciparum নামক প্রোটোজোয়া মশার দেহে প্রবেশ করে এবং পরে সুস্থ মানুষকে কামড়ালে সেই জীবাণু তার শরীরে ঢুকে পড়ে।
বর্ষাকাল, গরম ও স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশে এই রোগ বেশি হয়। এর লক্ষণ হলো কাঁপুনি দিয়ে জ্বর, ঘাম, মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা এবং যকৃৎ ও প্লীহা বড় হয়ে যাওয়া।
চিকিৎসা না করলে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। ২০১২ সালে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৬ লক্ষ ৬০ হাজার মানুষ এই রোগে মারা যায়। প্রতি বছর ২৫ এপ্রিল বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস পালিত হয়।
ডেঙ্গি : -
ডেঙ্গি একটি মশাবাহিত রোগ, যা Aedes aegypti মশার মাধ্যমে ছড়ায়। এর জীবাণু ফ্ল্যাভিভাইরাস।
এর লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে তীব্র জ্বর, মাথাব্যথা, গাঁটে গাঁটে ব্যথা, রক্তক্ষরণ এবং রক্তের প্লেটলেট কমে যাওয়া। এটি শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।
সঠিক সময়ে চিকিৎসা না হলে এই রোগ প্রাণঘাতী হতে পারে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় প্রতি বছর বহু মানুষ এই রোগে মারা যায়।
প্লেগ : -
প্লেগ রোগটি ইঁদুর থেকে মানুষের শরীরে ছড়ায়। এর জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়া হলো Yersinia pestis।
এই রোগে ফুসফুসে সংক্রমণ, রক্তক্ষরণ, লসিকাগ্রন্থি ফুলে যাওয়া, মাথাব্যথা, বমি এবং কাশির সঙ্গে রক্ত বের হওয়া দেখা যায়।
Xenopsylla cheopis নামক মাছি আক্রান্ত ইঁদুর থেকে এই জীবাণু বহন করে মানুষের শরীরে ছড়ায়।
১৮৯৭ সালে বোম্বেতে বিজ্ঞানী ভালডেমার হাফকিন প্লেগের টিকা আবিষ্কার করেন। সচেতনতা ও দ্রুত চিকিৎসার মাধ্যমে এই রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।
স্মল পক্স (গুটি বসন্ত) : -
স্মল পক্স একটি ভাইরাসজনিত মারাত্মক রোগ, যাকে “রেড প্লেগ”ও বলা হয়। এতে শরীরে ফোসকা পড়ে এবং ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
১৭৯৬ সালে বিজ্ঞানী এডওয়ার্ড জেনার টিকা আবিষ্কার করেন, যার ফলে এই রোগ নিয়ন্ত্রণে আসে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উদ্যোগে বর্তমানে এই রোগ সম্পূর্ণ নির্মূল হয়েছে।
কালাজ্বর : -
কালাজ্বর বা দমদম জ্বর একটি প্রোটোজোয়া-জনিত রোগ, যার জীবাণু Leishmania donovani। এটি বেলেমাছির মাধ্যমে ছড়ায়।
এর লক্ষণ হলো দীর্ঘদিন জ্বর, ওজন কমে যাওয়া, খিদে কমে যাওয়া, অ্যানিমিয়া এবং প্লীহা বড় হয়ে যাওয়া।
১৯২২ সালে ভারতীয় বিজ্ঞানী উপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারী এই রোগের ওষুধ আবিষ্কার করেন, যার ফলে বহু মানুষের জীবন রক্ষা সম্ভব হয়েছে।
SARS (Severe Acute Respiratory Syndrome) : -
এটি একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা ২০০৩ সালে এশিয়ায় প্রথম দেখা যায় এবং পরে ইউরোপ ও আমেরিকায় ছড়িয়ে পড়ে।
লক্ষণ: জ্বর, মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা। এটি অত্যন্ত সংক্রামক ছিল এবং বহু মানুষের মৃত্যু ঘটায়। মানুষ মাস্ক ব্যবহার করে নিজেকে রক্ষা করার চেষ্টা করত।
যক্ষ্মা (Tuberculosis / TB) : -
যক্ষ্মা একটি ব্যাকটেরিয়াজনিত বায়ুবাহিত রোগ। এর জীবাণু হলো Mycobacterium tuberculosis।
এটি প্রধানত ফুসফুসে আক্রমণ করে, তবে হাড় ও অন্যান্য অঙ্গেও হতে পারে।
সংক্রমণ: কাশি, কফ, থুতু বা লালার মাধ্যমে।
লক্ষণ: দীর্ঘদিন কাশি, কাশির সঙ্গে রক্ত, রাতের ঘাম, ওজন কমে যাওয়া।
DOTS পদ্ধতির মাধ্যমে এই রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে।
হেপাটাইটিস : -
হেপাটাইটিস একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা যকৃতকে আক্রান্ত করে। এর পাঁচটি ধরন রয়েছে—A, B, C, D ও E।
A ও E: দূষিত পানি ও খাবার থেকে ছড়ায়
B, C ও D: রক্ত ও দেহরসের মাধ্যমে ছড়ায়
লক্ষণ: জন্ডিস, বমি, পেটব্যথা
প্রতি বছর বহু মানুষ এই রোগে আক্রান্ত ও মৃত্যুবরণ করে। ২৮ জুলাই বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস পালিত হয়।
ইনফ্লুয়েঞ্জা (ফ্লু) : -
এটি একটি ভাইরাসজনিত শ্বাসরোগ, যা খুব দ্রুত ছড়ায়।
সংক্রমণ: হাঁচি, কাশি ও কফের মাধ্যমে
লক্ষণ: জ্বর, কাঁপুনি, মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা, দুর্বলতা, বমি, ডায়ারিয়া
অ্যান্টিবায়োটিক এতে কার্যকর নয়। বিশ্রাম ও প্রচুর পানি পান করলে উপকার পাওয়া যায়।
শিশু, বৃদ্ধ ও স্বাস্থ্যকর্মীদের টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
এইডস (AIDS) : -
AIDS-এর পূর্ণরূপ Acquired Immuno Deficiency Syndrome। এর জন্য দায়ী ভাইরাস হলো HIV।
এই ভাইরাস শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়, ফলে রোগী সহজেই বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়।
সংক্রমণ: রক্ত, দেহরস ও অনিরাপদ সংস্পর্শের মাধ্যমে
এখনও পর্যন্ত এই রোগ সম্পূর্ণ নিরাময়ের উপায় পাওয়া যায়নি, তাই সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি।
ডায়ারিয়া : -
ডায়ারিয়া শব্দের অর্থ ‘প্রবাহিত হওয়া’। দিনে তিনবারের বেশি পাতলা পায়খানা হলে সতর্ক হওয়া দরকার। এতে শরীর থেকে প্রচুর পানি বেরিয়ে যায় এবং পাচকরস নষ্ট হয়। কখনও মলের সঙ্গে রক্তও যেতে পারে। ফলে শরীরের জল, লবণ ও অম্ল-ক্ষারের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়।
দূষিত পানি ও অস্বাস্থ্যকর খাবার এই রোগের প্রধান কারণ। সাধারণত রোটাভাইরাস এর জন্য দায়ী।
বাড়িতে তৈরি ওআরএস খাওয়ালে উপকার পাওয়া যায়, তবে উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসাকেন্দ্রে যাওয়া জরুরি।
সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০১১ সালে বিশ্বে প্রায় ১ লক্ষ ৬০ হাজার মানুষ ডায়ারিয়ায় আক্রান্ত হয়, যাদের বেশিরভাগই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু।
13) ইনফ্লুয়েঞ্জা রোগের কী কী লক্ষণ দেখা যায়?
উত্তরঃ- ইনফ্লুয়েঞ্জা একটি ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগ, যা হাঁচি, কাশি ও কফের মাধ্যমে দ্রুত ছড়ায়। এই রোগে সাধারণত উচ্চ জ্বর, শরীরে কাঁপুনি, অতিরিক্ত ঘাম, তীব্র মাথাব্যথা, গাঁটে ব্যথা, দুর্বলতা, বমি এবং ডায়ারিয়ার মতো লক্ষণ দেখা যায়।
14) যক্ষ্মা রোগের লক্ষণ কী কী?
উত্তরঃ- যক্ষ্মা বা টিবি একটি ব্যাকটেরিয়াজনিত বায়ুবাহিত রোগ, যা প্রধানত ফুসফুসকে আক্রান্ত করে। এর লক্ষণের মধ্যে রয়েছে দীর্ঘদিন কাশি হওয়া, কাশির সঙ্গে রক্ত বের হওয়া, রাতে বেশি কষ্ট অনুভব করা, অতিরিক্ত ঘাম এবং ধীরে ধীরে শরীরের ওজন কমে যাওয়া।
15) ডায়ারিয়া হলে কী কী সমস্যা দেখা দিতে পারে?
উত্তরঃ- ডায়ারিয়া হলে বারবার পাতলা পায়খানা হয়, ফলে শরীর থেকে প্রচুর পানি বেরিয়ে যায়। এতে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে এবং পাচনক্রিয়া ব্যাহত হয়। কখনও মলের সঙ্গে রক্তও যেতে পারে। এর ফলে শরীরের জল, লবণ ও অম্ল-ক্ষারের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়।
16) কলেরা রোগের লক্ষণ কী কী?
উত্তরঃ- কলেরা রোগে হঠাৎ তীব্র ডায়ারিয়া ও বমি শুরু হয়, যার ফলে শরীর থেকে দ্রুত পানি বেরিয়ে যায়। এতে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে এবং লবণ ও অম্ল-ক্ষারের ভারসাম্য নষ্ট হয়। অনেক সময় ত্বক ফ্যাকাশে বা নীলচে হয়ে যায়। এটি একটি গুরুতর ও প্রাণঘাতী রোগ।
17) কলেরা রোগটি কীভাবে ছড়ায়?
উত্তরঃ- কলেরা সাধারণত দূষিত পানি পান করা, অস্বাস্থ্যকর বা খোলা খাবার খাওয়া এবং অপরিষ্কার পরিবেশের কারণে ছড়ায়। এছাড়া মাছির মাধ্যমে জীবাণু এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
18) ম্যালেরিয়া রোগের দুটি প্রতিরোধ পদ্ধতি লেখো। চিকিৎসাবিজ্ঞানে উপেন্দ্রনাথ ব্রম্ভচারীর ভূমিকা লেখো।
উত্তরঃ- ম্যালেরিয়া যেহেতু মশাবাহিত রোগ, তাই এর প্রতিরোধে মশার বংশবিস্তার রোধ করা জরুরি।
(১) কোথাও যেন নোংরা বা জমে থাকা পানি না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
(২) রাতে ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহার করা উচিত।
চিকিৎসাবিজ্ঞানে উপেন্দ্রনাথ ব্রম্ভচারীর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তিনি ১৯২২ সালে কালাজ্বরের কার্যকর ওষুধ আবিষ্কার করেন, যার ফলে অসংখ্য মানুষের জীবন রক্ষা সম্ভব হয়েছে।
19) কোন মশা ডেঙ্গি রোগের জীবাণু বহন করে? এই রোগের যে-কোনো দুটি লক্ষণ লেখো।
উত্তরঃ- ডেঙ্গি রোগের জীবাণু বহন করে এডিস মশা।
এই রোগের লক্ষণগুলির মধ্যে—
(১) হঠাৎ তীব্র জ্বর ও মাথাব্যথা দেখা যায়।
(২) শরীরের গাঁটে গাঁটে ব্যথা হয় এবং কখনও রক্তক্ষরণ হতে পারে।
20) ম্যালেরিয়া রোগ কোন মশা ছড়ায়? এই রোগের দুটি লক্ষণ লেখো।
উত্তরঃ- ম্যালেরিয়া রোগ স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশার মাধ্যমে ছড়ায়।
এই রোগের লক্ষণ হলো—
(১) কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসা।
(২) মাথাব্যথা ও সারা শরীরে ব্যথা অনুভব হওয়া।
21) প্লেগ রোগের চারটি উপসর্গ লেখো।
উত্তরঃ- প্লেগ একটি সংক্রামক রোগ, যা ইঁদুর থেকে মানুষের শরীরে ছড়ায় এবং এর জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়া হলো Yersinia pestis।
এই রোগের প্রধান উপসর্গগুলির মধ্যে রয়েছে—
(১) ফুসফুসে সংক্রমণ
(২) রক্তক্ষরণ
(৩) লসিকাগ্রন্থি ফুলে যাওয়া ও তীব্র ব্যথা
(৪) মাথাব্যথা ও বমি
(এছাড়াও কাশির সঙ্গে রক্ত বের হতে পারে।)
22) একটি সাধারণ রোগ কী কী অবস্থায় মহামারিতে পরিণত হতে পারে? অথবা, কোনো রোগ মহামারিতে পরিণত হবে কিনা তা কী করে বোঝা সম্ভব?
উত্তরঃ- কোনো রোগ যখন অল্প সময়ের মধ্যে অনেক মানুষের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক ক্ষতি করে, তখন তাকে মহামারি বলা হয়।
মহামারিতে পরিণত হওয়ার লক্ষণগুলো হলো—
(১) রোগটি সহজে প্রতিরোধ করা না গেলে
(২) একসঙ্গে প্রচুর মানুষ আক্রান্ত ও মৃত্যুবরণ করলে
(৩) রোগের বিস্তার, লক্ষণ ও আক্রান্ত ব্যক্তিদের সঠিকভাবে শনাক্ত করা কঠিন হলে


Enter Your Comment