ক্লাস 6 বিজ্ঞান তৃতীয় পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন প্রশ্নপত্র ২০২৬
২০২৬ শিক্ষাবর্ষে পশ্চিমবঙ্গের ক্লাস 6 বিজ্ঞান তৃতীয় পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীরা। তাদের পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সাহায্য করার জন্য এই পোস্টে দেওয়া হলো Class 6 Science Third Unit Test Question Paper 2026, গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, উত্তর এবং পরীক্ষার উপযোগী সাজেশন। যারা ক্লাস 6 বিজ্ঞান তৃতীয় ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র ২০২৬, Class 6 Science Question Answer 2026, WBBSE Class 6 Science Question Paper 2026 অথবা ষষ্ঠ শ্রেণির বিজ্ঞান প্রশ্ন ও উত্তর ২০২৬ খুঁজছেন, তাদের জন্য এই পোস্টটি বিশেষভাবে সহায়ক।
WBBSE Class 6 Science 3rd Unit Test Question Paper 2026
এই পোস্টে Class 6 Science 3rd Unit Test 2026 পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নপত্র এবং প্রয়োজনীয় প্রশ্নোত্তর দেওয়া হয়েছে। WBBSE Class 6 Science 3rd Unit Test Question Paper 2026 অনুসারে ছাত্রছাত্রীরা বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন অনুশীলন করতে পারবে। পরীক্ষার আগে প্রশ্নপত্রটি ভালোভাবে পড়লে প্রশ্নের ধরন এবং উত্তর লেখার পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা তৈরি হবে।
West Bengal Class 6 Science Question Answer 2026
Class 6 Science Question Answer 2026 পরীক্ষার প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বাংলা মাধ্যমের ছাত্রছাত্রীদের সুবিধার জন্য বিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলির উত্তর সহজ ও পরিষ্কার ভাষায় দেওয়া হয়েছে। যারা WBBSE Class 6 Science Solution in Bengali Medium 2026 অথবা Class 6 Science Answer 2026 খুঁজছেন, তারা এখান থেকে প্রয়োজনীয় প্রশ্নোত্তর অনুশীলন করতে পারবে।
Class VI Science 3rd Unit Test Suggestion 2026
পরীক্ষার আগে Class 6 Science 3rd Unit Test Suggestion 2026, Class Six Science Third Summative Test Question and Answer দেখে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি পুনরায় অনুশীলন করা যেতে পারে। এর মধ্যে সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, বড়ো প্রশ্ন, সংজ্ঞা, কারণ লেখো, পার্থক্য লেখো, চিত্রভিত্তিক প্রশ্ন এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তবে শুধু সাজেশনের ওপর নির্ভর না করে পাঠ্যবইয়ের সম্পূর্ণ বিষয় ভালোভাবে পড়া উচিত।
ষষ্ঠ শ্রেণি বিজ্ঞান তৃতীয় পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন প্রশ্নপত্র ও সাজেশন ২০২৬
WBBSE Class 6 Science 2026 পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য নিয়মিত পাঠ্যবই পড়া, গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর লেখা এবং পূর্ববর্তী প্রশ্নপত্র অনুশীলন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। West Bengal Class 6 Science Question Paper 2026 এবং Class 6 Science 3rd Summative Question Paper 2026 অনুশীলনের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের প্রস্তুতি যাচাই করতে পারবে। Class 6 Science 3rd Unit Test Question Paper 2026, প্রশ্নোত্তর এবং সাজেশন নিয়মিত অনুশীলন করে ষষ্ঠ শ্রেণির বিজ্ঞান পরীক্ষার প্রস্তুতি আরও ভালোভাবে নেওয়া সম্ভব।
ষষ্ঠ শ্রেণির তৃতীয় পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়নের বিজ্ঞান প্রশ্নপত্র
CLASS – VI
Sub – Science
Time – 2 hours 30 minutes
F.M. – 70
১. সঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখো : 1 × 10 = 10
i) সেলাইমেশিন একটি – (সরল যন্ত্র / জটিল যন্ত্র / মিশ্রযন্ত্র)।
ii) একটি নততলের উদাহরণ হলো – (ড্রাম / বাঁশ / হেলিয়ে রাখা মই)।
iii) সরাসরি বাচ্চা প্রসব করে – (চন্দ্রবোড়া / কেউটে / গোখরো)।
iv) ছত্রাক প্রিয় খাবার – (চাষি পিঁপড়ে / যাযাবর পিঁপড়ে / লাল পিঁপড়ে)দের।
v) তিমির সাঁতার কাটার অঙ্গের নাম – (উইংস / ফ্লিপার / টেইল)।
vi) সী হর্স আসলে – (ঘোড়া / মাছ / পাখি)।
vii) ম্যালেরিয়া রোগ ছড়ায় – (কিউলেক্স / ইডিস্ / অ্যানোফিলিস)।
viii) একটি জলজ স্তন্যপায়ী প্রাণী – (সী-হর্স / তিমি / তেলাপিয়া)।
ix) _____-এর বিখ্যাত গবেষণা ও আবিষ্কার পাখিদের বোকামি।
x) জেন গুডাল _____-দের আচরণ নিয়ে গবেষণা করেছেন।
২. শূন্যস্থান পূরণ করো : (যে কোনো ৮টি) 1 × 8 = 8
i) পৃথিবীর সবচেয়ে বড় প্রাণী _____।
ii) বিজ্ঞানীদের পরীক্ষায় দেখা গেছে, কাকরা প্রায় _____ যতই বুদ্ধিমান।
iii) খঞ্জনা, কাজল পাখি _____ পাখির উদাহরণ।
iv) পরিযায়ী _____ মৌচাক দিয়ে তৈরী।
v) _____ পিঁপড়েরা যুদ্ধে পটু।
vi) কেঁচো, জোঁক _____ জাতীয় প্রাণী।
vii) যে সব প্রাণীর চুনজাতীয় পদার্থের খোলকের দেহ, তাদের বলে _____।
viii) জলজ রেশম এক জাতীয় _____-এ মাকড়সা।
ix) একটি ব্যক্তবীজী উদ্ভিদের উদাহরণ _____।
x) ঢেঁকিশাক জাতীয় উদ্ভিদের উদাহরণ _____।
৩. বামস্তম্ভের সঙ্গে ডানস্তম্ভ মিলিয়ে লেখো : (দাগ কেটে না, পাশাপাশি লিখতে হবে) 1 × 8 = 8
বামস্তম্ভ - ডানস্তম্ভ
i) ইডিস মশা (a) আম, জাম, কাঁঠাল
ii) দ্বিতীয় শ্রেণীর লিভার (b) পরজীবী প্রাণী
iii) আর্থ্রোপোডা (c) বাঘ
iv) আমপাতা (d) সুপারি কাটার জাঁতি
v) বাংলার কীটপতঙ্গ (e) ডেঙ্গি
vi) কৃমি (f) মাকড়সা, চিংড়ি, কাঁকড়া
vii) গুপ্তবীজী উদ্ভিদ (g) জালিকাকার শিরাবিন্যাস
viii) প্যানথেরা টাইগ্রিস (h) গোপালচন্দ্র ভট্টাচার্য
৪. পূর্ণবাক্যে উত্তর দাও : (১০টি) 1 × 10 = 10
i) আলম্ব কাকে বলে?
উত্তর: যে স্থির বিন্দু বা অক্ষকে কেন্দ্র করে কোনো লিভার বা দণ্ড ঘোরে, তাকে আলম্ব বলে। লিভারের কাজ করার সময় আলম্ব লিভারকে নির্দিষ্ট অবস্থানে ধরে রাখে এবং তার চারদিকে লিভার ঘুরতে পারে। যেমন—কাঁচির ক্ষেত্রে মাঝখানের পিন বা স্ক্রুটি আলম্বের কাজ করে। আবার মানুষের হাতের ক্ষেত্রে কনুইয়ের জয়েন্ট আলম্ব হিসেবে কাজ করে। লিভারে বল ও বাধার অবস্থানের সঙ্গে আলম্বের অবস্থান পরিবর্তিত হওয়ার কারণে লিভারকে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণিতে ভাগ করা হয়।
ii) বাঘ অল্প আলোতেও ভালো দেখতে পায় কেন?
উত্তর: বাঘ নিশাচর বা কম আলোতে সক্রিয় থাকতে সক্ষম এমন প্রাণী। তার চোখ অল্প আলোতে দেখার জন্য বিশেষভাবে উপযোগী। বাঘের চোখের পিছনে ট্যাপেটাম লুসিডাম নামে একটি প্রতিফলক স্তর থাকে। এই স্তর চোখে প্রবেশ করা আলোকে আবার রেটিনার দিকে প্রতিফলিত করে। ফলে কম আলোতেও চোখের আলোকসংবেদনশীল কোশগুলি বেশি আলো পায় এবং বাঘ তুলনামূলকভাবে ভালো দেখতে পারে। অন্ধকারে বাঘের চোখ জ্বলজ্বল করার অন্যতম কারণও এই প্রতিফলক স্তর।
iii) দুটি ব্যক্তবীজী উদ্ভিদের নাম লেখো।
উত্তর: যেসব উদ্ভিদের বীজ ফলের আবরণের মধ্যে আবৃত না থেকে উন্মুক্ত অবস্থায় থাকে, তাদের ব্যক্তবীজী উদ্ভিদ বলে। এই উদ্ভিদের বীজ সাধারণত শঙ্কু বা অন্যান্য গঠনের উপর উন্মুক্ত অবস্থায় থাকে। ব্যক্তবীজী উদ্ভিদের দুটি উদাহরণ হলো পাইনগাছ ও সাইকাস। এদের মধ্যে পাইনগাছ একটি পরিচিত শঙ্কুবৃক্ষ। ব্যক্তবীজী উদ্ভিদের অধিকাংশই কাঠজাতীয় এবং এদের মধ্যে অনেক প্রজাতি চিরসবুজ প্রকৃতির।
iv) তিমিরা কীভাবে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করে?
উত্তর: তিমিরা জলের মধ্যে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষার জন্য বিভিন্ন ধরনের শব্দ ও সংকেত ব্যবহার করে। তারা নিচু কম্পাঙ্কের শব্দ, ডাক এবং অন্যান্য শব্দ তৈরি করতে পারে। এই শব্দ জলীয় পরিবেশের মধ্য দিয়ে অনেক দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। এর সাহায্যে তিমিরা দলটির অন্যান্য সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে, একে অপরকে খুঁজে পেতে পারে এবং বিপদ বা অবস্থান সম্পর্কে সংকেত দিতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘ দূরত্বে যোগাযোগের ক্ষেত্রে শব্দ তিমিদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
v) নেকটার কী?
উত্তর: ফুলের মধু বা নেকটার হলো ফুলের বিভিন্ন অংশে অবস্থিত মিষ্টি রস, যা সাধারণত ফুলের নেকটারি নামক গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়। মৌমাছি, প্রজাপতি, পাখি এবং অন্যান্য কিছু প্রাণী নেকটার খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। নেকটারে থাকা চিনি তাদের শক্তি জোগায়। ফুল থেকে নেকটার সংগ্রহ করার সময় এই প্রাণীদের দেহে পরাগরেণু লেগে যায় এবং অন্য ফুলে যাওয়ার সময় সেই পরাগরেণু স্থানান্তরিত হয়। ফলে উদ্ভিদের পরাগায়নে নেকটারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
vi) জীবরাজ্যে ভাইরাসের ঠাঁই হয়নি কেন?
উত্তর: ভাইরাসকে জীব ও জড়ের মধ্যবর্তী অবস্থার বলে মনে করা হয়। ভাইরাসের নিজস্ব কোশীয় গঠন নেই এবং নিজেরা স্বাধীনভাবে খাদ্য গ্রহণ, শ্বাসক্রিয়া বা বংশবৃদ্ধি করতে পারে না। জীবন্ত কোশের বাইরে ভাইরাস অনেকটা জড় পদার্থের মতো নিষ্ক্রিয় থাকে। কিন্তু কোনো জীবন্ত কোশের ভিতরে প্রবেশ করলে তারা সেই কোশের উপাদান ব্যবহার করে নিজেদের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে পারে। এই কারণে ভাইরাসকে সম্পূর্ণ জীব বা সম্পূর্ণ জড়—কোনোটির মধ্যেই সহজে শ্রেণিবদ্ধ করা যায় না এবং প্রচলিত জীবরাজ্যে তাদের আলাদা স্থান নেই।
vii) কোশ বলতে কী বোঝ?
উত্তর: কোশ হলো জীবদেহের গঠন ও কাজের মৌলিক একক। উদ্ভিদ ও প্রাণীসহ অধিকাংশ জীবের দেহ অসংখ্য কোশ দিয়ে গঠিত। একটি কোশের মধ্যে বিভিন্ন অঙ্গাণু থাকে, যারা নির্দিষ্ট কাজ সম্পন্ন করে। যেমন, কোশের কেন্দ্রকে নিউক্লিয়াস বলা হয় এবং এটি কোশের বিভিন্ন কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিছু জীব মাত্র একটি কোশ দিয়ে গঠিত এবং তাদের এককোশী জীব বলে। আবার মানুষের মতো জীবের দেহ বহু কোশ দিয়ে গঠিত বলে তাদের বহুকোশী জীব বলা হয়।
viii) রতনলাল ব্রহ্মচারী কী বিষয় নিয়ে গবেষণা করেছেন?
উত্তর: রতনলাল ব্রহ্মচারী ছিলেন একজন বিশিষ্ট ভারতীয় প্রাণীবিজ্ঞানী ও পাখিবিশারদ। তিনি বিশেষভাবে পাখিদের আচরণ ও জীবনযাপন নিয়ে গবেষণা করেছিলেন। পাখিদের স্বভাব, খাদ্যাভ্যাস, বাসা তৈরি, ডাক এবং বিভিন্ন আচরণ তাঁর গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল। বাংলার পাখিদের সম্পর্কে জ্ঞান ও গবেষণায় তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তাঁর গবেষণার মাধ্যমে পাখিদের জীবন ও আচরণ সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে আগ্রহও বৃদ্ধি পায়। তাই তাঁকে পাখি নিয়ে গবেষণার ক্ষেত্রে একজন উল্লেখযোগ্য বিজ্ঞানী হিসেবে স্মরণ করা হয়।
ix) উইপোকারা মাটির সুড়ঙ্গের মধ্য দিয়ে যাতায়াত করে কেন?
উত্তর: উইপোকার দেহ নরম এবং তারা সাধারণত আলো ও খোলা পরিবেশ এড়িয়ে চলে। তাই তারা মাটির সুড়ঙ্গ তৈরি করে তার মধ্য দিয়ে যাতায়াত করে। সুড়ঙ্গ তাদের শত্রু, অতিরিক্ত আলো, তাপ ও শুষ্কতা থেকে সুরক্ষা দেয়। মাটির ভিতর বা তৈরি করা সুড়ঙ্গের মধ্যে আর্দ্রতা তুলনামূলকভাবে বজায় থাকে, যা উইপোকার বেঁচে থাকার পক্ষে উপযোগী। এছাড়া সুড়ঙ্গের মাধ্যমে তারা তাদের বাসা থেকে খাদ্যের উৎস পর্যন্ত নিরাপদে যাতায়াত করতে পারে। এই কারণে উইপোকার জীবনে সুড়ঙ্গের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
x) ক্যানাইন কী?
উত্তর: ক্যানাইন হলো স্তন্যপায়ী প্রাণীদের এক ধরনের দাঁত, যা সাধারণত ইনসিসর বা কর্তন দাঁতের পাশে থাকে। ক্যানাইন দাঁত তুলনামূলকভাবে সরু, লম্বা ও সূচালো হয়। মানুষের মুখেও উপরের ও নিচের চোয়ালে ক্যানাইন দাঁত রয়েছে। মাংসাশী প্রাণীদের ক্ষেত্রে ক্যানাইন দাঁত বিশেষভাবে বিকশিত হয় এবং শিকারকে আঁকড়ে ধরা ও মাংস ছিঁড়তে সাহায্য করে। বাঘ, সিংহ প্রভৃতি প্রাণীর ক্যানাইন দাঁত মানুষের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী ও বড়।
xi) চাষের জমি থেকে পাওয়া একটি বর্জ্য পদার্থের নাম লেখো।
উত্তর: চাষের জমি থেকে পাওয়া একটি সাধারণ বর্জ্য পদার্থ হলো ধানের খড়। ধান কাটার পর জমিতে বা কৃষকের কাছে প্রচুর পরিমাণে খড় অবশিষ্ট থাকে। এটি উদ্ভিদজাত বা জৈব বর্জ্য হওয়ায় উপযুক্ত পরিবেশে অণুজীবের সাহায্যে ধীরে ধীরে পচে যেতে পারে। খড়কে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা যায়, যেমন গবাদি পশুর খাদ্য, জৈবসার তৈরির উপাদান এবং অন্যান্য কৃষিকাজে। তাই কৃষিজমি থেকে উৎপন্ন খড়কে একটি গুরুত্বপূর্ণ জৈব বর্জ্য পদার্থ হিসেবে ধরা হয়।
৫. একটি বা দুটি বাক্যে উত্তর দাও : 2 × 10 = 20
i) রোহোল কী?
উত্তর: রোহোল এক ধরনের মাছ। এটি সাধারণত মিষ্টি জলের নদী, পুকুর ও জলাশয়ে পাওয়া যায়। রোহোল মাছের দেহ লম্বাটে এবং এর শরীর আঁশ দিয়ে আবৃত। এটি মানুষের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ মাছ। রোহোল মাছ জলজ পরিবেশের সঙ্গে অভিযোজিত হয়ে জীবনযাপন করে। সাধারণত জলজ উদ্ভিদ, ছোট জলজ প্রাণী এবং অন্যান্য জৈব পদার্থ খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। বাংলার বিভিন্ন জলাশয়ে এই মাছ চাষও করা হয়।
ii) তোমার হাত একটি তৃতীয় শ্রেণীর লিভার। এর আলম্ব কোথায় আছে? তোমার শরীরের আর একটি তৃতীয় শ্রেণীর লিভারের নাম লেখো।
উত্তর: মানুষের হাত একটি তৃতীয় শ্রেণীর লিভারের উদাহরণ। হাতের ক্ষেত্রে কনুইয়ের জয়েন্টটি আলম্ব হিসেবে কাজ করে। বাইসেপস পেশি বল প্রয়োগ করে এবং হাতের যে অংশে ভার থাকে সেটি বাধা হিসেবে কাজ করে। অর্থাৎ আলম্ব, বল ও বাধার মধ্যে বলের অবস্থান মাঝখানে থাকে। মানুষের শরীরে পা ভাঁজ করার ব্যবস্থা-ও তৃতীয় শ্রেণীর লিভারের একটি উদাহরণ। এছাড়া চিমটা ও ঝাড়ুও তৃতীয় শ্রেণীর লিভারের উদাহরণ।
iii) তেলাপিয়া মাছের সঙ্গে ক্যাঙারুর একটা মিল আছে। সেটি কী?
উত্তর: তেলাপিয়া মাছ ও ক্যাঙারু সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের প্রাণী হলেও তাদের মধ্যে একটি বিশেষ মিল রয়েছে। উভয় প্রাণীর ক্ষেত্রেই শিশুর যত্ন ও সুরক্ষার বিশেষ ব্যবস্থা দেখা যায়। তেলাপিয়া মাছ তার পোনা বা ডিমকে শত্রুর হাত থেকে রক্ষা করে এবং অনেক সময় মুখের মধ্যে রেখে নিরাপদে রাখে। ক্যাঙারুর স্ত্রী প্রাণী তার বাচ্চাকে থলির মধ্যে বহন করে এবং সেখানে বাচ্চার যত্ন নেয়। তাই উভয়ের মধ্যেই বাচ্চাকে নিরাপদে রাখার প্রবণতা দেখা যায়।
iv) কোন্ মশা ডিম পাড়তে পারে না? কেন?
উত্তর: পুরুষ মশা ডিম পাড়তে পারে না, কারণ ডিম উৎপাদন ও পাড়ার জন্য প্রয়োজনীয় স্ত্রী প্রজননতন্ত্র পুরুষ মশার শরীরে থাকে না। স্ত্রী মশাই ডিম পাড়ে। স্ত্রী মশা সাধারণত রক্ত থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি সংগ্রহ করে ডিম উৎপাদনে সাহায্য করে। পুরুষ মশা সাধারণত ফুলের মধু ও উদ্ভিদের রস খেয়ে বেঁচে থাকে। তাই পুরুষ মশার ডিম পাড়ার ক্ষমতা নেই। মশার জীবনচক্রে ডিম থেকে লার্ভা, পিউপা এবং পরে পূর্ণাঙ্গ মশা তৈরি হয়।
v) হাতির সঙ্গে মানুষের সংঘাত বাড়ছে কেন?
উত্তর: মানুষের বসতি, কৃষিজমি, রাস্তা ও অন্যান্য নির্মাণের কারণে হাতির স্বাভাবিক বাসস্থান এবং চলাচলের পথ ক্রমশ পরিবর্তিত হচ্ছে। বনাঞ্চল কমে যাওয়ায় হাতিরা অনেক সময় খাদ্য ও জলের সন্ধানে লোকালয় বা চাষের জমির কাছাকাছি চলে আসে। তখন মানুষের চাষের ফসল নষ্ট হওয়া বা হাতির চলাচলে বাধা সৃষ্টি হওয়ার মতো ঘটনা ঘটে। এর ফলে মানুষ ও হাতির মধ্যে সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়। তাই হাতির আবাসস্থল ও চলাচলের পথ সংরক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ।
vi) শুকিয়ে যাওয়া কাঠগুলি পরিবেশে মিশে যেতে উইপোকারা সাহায্য করতে পারে কেন?
উত্তর: উইপোকা শুকনো কাঠ ও অন্যান্য উদ্ভিদজাত মৃত জৈব পদার্থ খেয়ে থাকে। তাদের দেহে থাকা বিশেষ অণুজীবের সাহায্যে কাঠের সেলুলোজ ভাঙতে পারে। ফলে শুকিয়ে যাওয়া কাঠ ধীরে ধীরে ছোট ছোট অংশে পরিণত হয় এবং সহজে পচন ও বিয়োজনের প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারে। এইভাবে উইপোকা মৃত কাঠ ও উদ্ভিদজাত বর্জ্যকে পরিবেশে মিশে যেতে সাহায্য করে। এর ফলে পুষ্টি উপাদান আবার পরিবেশে ফিরে আসে এবং প্রাকৃতিক পদার্থের পুনর্ব্যবহার ঘটে।
vii) হাতি সমাজের কড়া নিয়ম কী?
উত্তর: হাতিরা দলবদ্ধভাবে বা সমাজবদ্ধ হয়ে বসবাস করে এবং তাদের দলের মধ্যে নির্দিষ্ট সামাজিক নিয়ম দেখা যায়। হাতির দলে সাধারণত মাতৃতান্ত্রিক ব্যবস্থা দেখা যায়, অর্থাৎ অভিজ্ঞ স্ত্রী হাতি দলকে নেতৃত্ব দেয়। দলের সদস্যরা একে অপরের প্রতি সহযোগিতা করে এবং ছোট হাতিদের রক্ষা করে। দলের চলাফেরা, খাদ্য সংগ্রহ ও বিপদের সময় একসঙ্গে থাকার ক্ষেত্রে সামাজিক নিয়ম মেনে চলে। ছোট হাতির নিরাপত্তার বিষয়টিকে দলের অন্যান্য সদস্যরাও গুরুত্ব দেয়। এভাবেই হাতির সমাজে শৃঙ্খলা বজায় থাকে।
viii) একবীজপত্রী উদ্ভিদ কাকে বলে? একটি উদাহরণ দাও।
উত্তর: যে সমস্ত সপুষ্পক উদ্ভিদের বীজের মধ্যে একটি বীজপত্র থাকে, তাদের একবীজপত্রী উদ্ভিদ বলে। এই উদ্ভিদের পাতায় সাধারণত সমান্তরাল শিরাবিন্যাস দেখা যায় এবং মূল সাধারণত গুচ্ছমূল ধরনের হয়। এদের ফুলের বিভিন্ন অংশ সাধারণত তিন বা তিনের গুণিতকে থাকে। একবীজপত্রী উদ্ভিদের অনেক উদাহরণ রয়েছে। যেমন— ধান, গম, ভুট্টা, কলা ও নারকেল। এর মধ্যে ধান একটি পরিচিত একবীজপত্রী উদ্ভিদ।
ix) সমান্তরাল শিরাবিন্যাস কোন্ জাতীয় উদ্ভিদের পাতায় দেখা যায়?
উত্তর: সাধারণত একবীজপত্রী উদ্ভিদের পাতায় সমান্তরাল শিরাবিন্যাস দেখা যায়। এই ধরনের শিরাবিন্যাসে পাতার প্রধান শিরা থেকে অন্যান্য শিরাগুলি পরস্পরের সঙ্গে প্রায় সমান্তরালভাবে বিস্তৃত থাকে। ফলে পাতার শিরাগুলি জালের মতো না হয়ে পাশাপাশি অবস্থান করে। ধান, গম, ভুট্টা, ঘাস ইত্যাদি উদ্ভিদের পাতায় সমান্তরাল শিরাবিন্যাস দেখা যায়। এটি উদ্ভিদ চেনার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। অন্যদিকে দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের পাতায় সাধারণত জালিকাকার শিরাবিন্যাস দেখা যায়।
x) তোমার বাড়িতে ব্যবহার করা হয় এমন দুটি জিনিসের নাম লেখো যাকে নততল বলা যায়?
উত্তর: হেলানো মই এবং ঢালু তক্তা নততলের উদাহরণ। নততল হলো এমন একটি সরল যন্ত্র, যার একটি প্রান্ত অন্য প্রান্তের তুলনায় উঁচুতে থাকে এবং এটি ভারী বস্তুকে কম বল প্রয়োগ করে ওপরে তুলতে সাহায্য করে। বাড়িতে দেওয়ালে হেলিয়ে রাখা মই দিয়ে সহজে উঁচু জায়গায় ওঠা যায়। আবার কোনো ভারী জিনিস সরাসরি ওপরে তোলার পরিবর্তে ঢালু তক্তার ওপর দিয়ে ঠেলে তুললে তুলনামূলকভাবে কম বল প্রয়োগ করতে হয়। তাই এগুলিকে নততলের ব্যবহারিক উদাহরণ বলা যায়।
৬. প্রশ্নগুলির যথাযথ উত্তর দাও :
i) পেরেক ব্যবহারের তুলনায় স্ক্রু ব্যবহার বেশি সুবিধাজনক কেন? 2
Ans : - স্ক্রু ব্যবহারের সুবিধা হলো, এর খাঁজ বা প্যাঁচের কারণে এটি কাঠ বা অন্য বস্তুর মধ্যে সহজে প্রবেশ করে এবং শক্তভাবে আটকে থাকে। পেরেকের তুলনায় স্ক্রু সহজে খোলা ও পুনরায় ব্যবহার করা যায় এবং এটি জোড়কে বেশি মজবুত করে।
ii) প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণীর লিভারে বল, বাধা, আলম্ব কোথায় থাকে চিত্রের সাহায্যে দেখাও। 3
Ans : - ১. প্রথম শ্রেণীর লিভার:
এক্ষেত্রে আলম্ব থাকে বল ও বাধার মাঝখানে।
চিত্র:
বল (E) ─── আলম্ব (F) ─── বাধা (L)
উদাহরণ: কাঁচি, দোলনা।
২. দ্বিতীয় শ্রেণীর লিভার:
এক্ষেত্রে বাধা থাকে আলম্ব ও বলের মাঝখানে।
চিত্র:
আলম্ব (F) ─── বাধা (L) ─── বল (E)
উদাহরণ: ঠেলাগাড়ি, বাদাম ভাঙার যন্ত্র।
৩. তৃতীয় শ্রেণীর লিভার:
এক্ষেত্রে বল থাকে আলম্ব ও বাধার মাঝখানে।
চিত্র:
আলম্ব (F) ─── বল (E) ─── বাধা (L)
উদাহরণ: মানুষের হাত, চিমটা।
iii) 4R পদ্ধতিটি কী? 3
Ans : - বর্জ্য পদার্থের পরিমাণ কমানো এবং পরিবেশকে দূষণমুক্ত রাখার জন্য বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চারটি নীতিকে একসঙ্গে 4R পদ্ধতি বলা হয়। 4R-এর চারটি ধাপ হলো—
a. Refuse (প্রত্যাখ্যান): অপ্রয়োজনীয় এবং পরিবেশের ক্ষতি করে এমন জিনিস ব্যবহার না করা বা গ্রহণ না করা।
b. Reduce (কমানো): প্রয়োজনের অতিরিক্ত জিনিসের ব্যবহার কমিয়ে বর্জ্য উৎপাদন কমানো।
c. Reuse (পুনর্ব্যবহার): কোনো জিনিস ফেলে না দিয়ে একই জিনিসকে পুনরায় ব্যবহার করা।
d. Recycle (পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ): ব্যবহৃত ও ফেলে দেওয়া পদার্থকে প্রক্রিয়াজাত করে নতুন ব্যবহারযোগ্য জিনিস তৈরি করা।
এইভাবে Refuse, Reduce, Reuse ও Recycle অনুসরণ করলে বর্জ্য কমে এবং পরিবেশ রক্ষা করা যায়।
iv) জৈব ভঙ্গুর ও জৈব অভঙ্গুর বর্জ্য পদার্থ কাকে বলে উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়ে দাও। 1.5 + 1.5
Ans : - জৈব ভঙ্গুর বর্জ্য পদার্থ: যে সমস্ত বর্জ্য পদার্থ অণুজীবের ক্রিয়ায় সহজে পচে গিয়ে পরিবেশের সঙ্গে মিশে যায়, তাদের জৈব ভঙ্গুর বর্জ্য পদার্থ বলে। যেমন— সবজির খোসা, খাবারের উচ্ছিষ্ট, পাতা, কাগজ ইত্যাদি।
জৈব অভঙ্গুর বর্জ্য পদার্থ: যে সমস্ত বর্জ্য পদার্থ অণুজীবের ক্রিয়ায় সহজে পচে বা বিয়োজিত হয় না এবং দীর্ঘদিন পরিবেশে থেকে যায়, তাদের জৈব অভঙ্গুর বর্জ্য পদার্থ বলে। যেমন— প্লাস্টিক, পলিথিন, কাচ, ধাতু ইত্যাদি।
v) তিমি জলে ভেসে উঠলেই দূর থেকে ফোয়ারার মতো দেখায় কেন? 3
Ans : - তিমি স্তন্যপায়ী প্রাণী হওয়ায় তাকে ফুসফুসের সাহায্যে শ্বাস নিতে হয়। তিমি জলের নিচে থাকার সময় শ্বাস ধরে রাখে এবং কিছুক্ষণ পরপর জলের উপর ভেসে ওঠে। তখন তার মাথার উপরের শ্বাসছিদ্র দিয়ে জোরে বাতাস বাইরে বেরিয়ে আসে। এই বাতাসের সঙ্গে জলীয়বাষ্প মিশে উপরের দিকে উঠে ফোয়ারার মতো দেখা যায়। তাই দূর থেকে তিমিকে জলে ভেসে উঠলে ফোয়ারার মতো মনে হয়।

.jpg)

Enter Your Comment