ক্লাস 6 ভূগোল তৃতীয় পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন প্রশ্নপত্র ২০২৬
২০২৬ শিক্ষাবর্ষে পশ্চিমবঙ্গের ক্লাস 6 ভূগোল তৃতীয় পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীরা। তাদের পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সাহায্য করার জন্য এই পোস্টে দেওয়া হলো Class 6 Geography 3rd Unit Test Question Paper 2026, গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, উত্তর এবং পরীক্ষার উপযোগী সাজেশন। যারা ক্লাস 6 ভূগোল তৃতীয় ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র ২০২৬, Class 6 Geography Question Answer 2026, WBBSE Class 6 Geography Question Paper 2026 অথবা ষষ্ঠ শ্রেণির ভূগোল প্রশ্ন ও উত্তর ২০২৬ খুঁজছেন, তাদের জন্য এই পোস্টটি বিশেষভাবে সহায়ক।
WBBSE Class 6 Geography 3rd Unit Test Question Paper 2026
এই পোস্টে Class 6 Geography 3rd Unit Test 2026 পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নপত্র এবং প্রয়োজনীয় প্রশ্নোত্তর দেওয়া হয়েছে। WBBSE Class 6 Geography 3rd Unit Test Question Paper 2026 অনুসারে ছাত্রছাত্রীরা বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন অনুশীলন করতে পারবে। পরীক্ষার আগে প্রশ্নপত্রটি ভালোভাবে পড়লে প্রশ্নের ধরন এবং উত্তর লেখার পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা তৈরি হবে।
West Bengal Class 6 Geography Question Answer 2026
Class 6 Geography Question Answer 2026 পরীক্ষার প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বাংলা মাধ্যমের ছাত্রছাত্রীদের সুবিধার জন্য ভূগোলের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলির উত্তর সহজ ও পরিষ্কার ভাষায় দেওয়া হয়েছে। যারা WBBSE Class 6 Geography Solution in Bengali Medium 2026 অথবা Class 6 Geography Answer 2026 খুঁজছেন, তারা এখান থেকে প্রয়োজনীয় প্রশ্নোত্তর অনুশীলন করতে পারবে।
Class 6 Geography 3rd Unit Test Suggestion 2026
পরীক্ষার আগে Class 6 Geography 3rd Unit Test Suggestion 2026, Class Six Vugol Titiyo Summtive Test Proshno o Uttor দেখে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি পুনরায় অনুশীলন করা যেতে পারে। এর মধ্যে সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, বড়ো প্রশ্ন, সংজ্ঞা, কারণ লেখো, পার্থক্য লেখো এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তবে শুধু সাজেশনের ওপর নির্ভর না করে পাঠ্যবইয়ের সম্পূর্ণ বিষয় ভালোভাবে পড়া উচিত।
ষষ্ঠ শ্রেনী ভূগোল তৃতীয় পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন প্রশ্নপত্র ও সাজেশন ২০২৬
WBBSE Class 6 Geography 2026 পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য নিয়মিত পাঠ্যবই পড়া, গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর লেখা এবং পূর্ববর্তী প্রশ্নপত্র অনুশীলন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। West Bengal Class 6 Geography Question Paper 2026 এবং Class 6 Geography 3rd Summative Question Paper 2026 অনুশীলনের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের প্রস্তুতি যাচাই করতে পারবে। Class 6 Geography 3rd Unit Test Question Paper 2026, প্রশ্নোত্তর এবং সাজেশন নিয়মিত অনুশীলন করে ষষ্ঠ শ্রেণির ভূগোল পরীক্ষার প্রস্তুতি আরও ভালোভাবে নেওয়া সম্ভব।
ষষ্ঠ শ্রেণির তৃতীয় পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়নের ভূগোল প্রশ্নপত্র
CLASS – VI
Sub – Geography
Time – 2 hours 30 minutes
F.M. – 70
1. ভারতের রেখা মানচিত্রে নিম্নলিখিত বিষয়গুলি উপযুক্ত প্রতীক চিহ্ন সহ বসিয়ে মানচিত্রটি উত্তরপত্রের সঙ্গে জুড়ে দাও :- 1 × 5 = 5
i) পশ্চিমঘাট পর্বতমালা।
ii) ভারতের রাজধানী।
iii) ভারতের একটি ম্যানগ্রোভ অরণ্য।
iv) গঙ্গা নদী।
v) পাক প্রণালী।
2. সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করে লেখো :- (যে কোনো 18টি) 1 × 18 = 18
i) নিরক্ষীয় তলের সঙ্গে পৃথিবীর অক্ষ – (23½° / 66½° / 90° / 180°) কোণ করে আছে।
ii) 0° দ্রাঘিমারেখার অপর নাম – (নিরক্ষরেখা / আন্তর্জাতিক তারিখরেখা / মূলমধ্যরেখা / কর্কটক্রান্তিরেখা)।
iii) সূর্যাস্তের পর, সন্ধ্যের আগের সময় হল – (ঊষা / সকাল / গোধূলি / রাত্রি)।
iv) পৃথিবীর আবর্তন বেগ সবচেয়ে বেশি – (নিরক্ষরেখায় / সুমেরু বিন্দুতে / কুমেরু বিন্দুতে / মূলমধ্যরেখায়)।
v) পৃথিবীর অ্যালবেডোর পরিমাণ – (51% / 66% / 35% / 14%)।
vi) বৃষ্টিপাতের পরিমাণ মাপার যন্ত্রের নাম – (ব্যারোমিটার / অ্যানিমোমিটার / রেনগজ / হাইগ্রোমিটার)।
vii) একটি গ্রিনহাউস গ্যাস হল – (নাইট্রাস অক্সাইড / নাইট্রোজেন / অক্সিজেন / হাইড্রোজেন)।
viii) প্রতি বছর ‘ধরিত্রী দিবস’ পালিত হয় – (21 মার্চ / 22 এপ্রিল / 1 মে / 5 জুন)।
ix) সাধারণ কথাবার্তায় শব্দের তীব্রতা – (20 / 65 / 70 / 90) ডেসিবেল।
x) ভারতের হিমালয়ের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ – (এভারেস্ট / কাঞ্চনজঙ্ঘা / গডউইন অস্টিন / অন্নপূর্ণা)।
xi) ভারতের দীর্ঘতম হিমবাহের নাম – (জেমু / গঙ্গোত্রী / চেমায়ুং দুং / সিয়াচেন)।
xii) কালো মাটির উত্তম ফসল – (ধান / গম / তুলো / পাট)।
xiii) নবীন পলিমাটিকে বলা হয় – (খাদার / ভাবর / তরাই / ভাঙ্গর)।
xiv) সিঙ্কোনা গাছ দেখা যায় প্রধানত পশ্চিমবঙ্গের – (বর্ধমান / পুরুলিয়া / দার্জিলিং / বাঁকুড়া) জেলাতে।
xv) পাট চাষের জন্য উপযুক্ত মৃত্তিকা হল – (বেলে মাটি / কালো মাটি / পলিযুক্ত কাদা মাটি / কোনোটিই নয়)।
xvi) ভারতের বৃহত্তম আদি জনগোষ্ঠীর নাম – (গোল্ড / ভিল / সাঁওতাল / টোডা)।
xvii) মানচিত্রে খেলার মাঠ বোঝানোর জন্য ব্যবহৃত রং – (সবুজ / বাদামি / হলুদ / খয়েরি)।
xviii) পৃথিবীর প্রাচীনতম মানচিত্র আবিষ্কৃত হয় – (ভারতে / ব্যাবিলনে / গ্রিসে / নেপালে)।
3. নীচের প্রশ্নগুলির নির্দেশমত উত্তর দাও :-
A. শূন্যস্থান পূরণ করো :- (যে কোনো তিনটি) 1 × 3 = 3
i) সবচেয়ে বড়ো অক্ষরেখার নাম হল – __________।
ii) বায়ুপ্রবাহের দিক মাপা হয় __________ দিয়ে।
iii) CFC-এর সম্পূর্ণ নাম হলো – __________।
iv) শব্দের তীব্রতা মাপক যন্ত্রের নাম – __________।
B. বামদিকের সঙ্গে ডানদিক মিলিয়ে লেখো :- 1 × 3 = 3
বামদিক ডানদিক
i) পৃথিবীর অভিকর্ষ a) সহ্যাদ্রি
ii) পশ্চিমঘাট পর্বত b) বিজ্ঞানী আইজ্যাক নিউটন
iii) কাজিরাঙা c) জাতীয় উদ্যান
C. নীচের বিবৃতিগুলি শুদ্ধ না অশুদ্ধ লেখো :- (যে কোনো তিনটি) 1 × 3 = 3
i) উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ বনভূমির প্রধান গাছ পাইন, ফার, বার্চ।
ii) মালাবার উপকূলের উপহ্রদগুলোকে কয়াল বলে।
iii) ভারতে উৎপাদিত তন্তুজাতীয় ফসল হল তুলো, পাট।
iv) বিশ্ব অরণ্য দিবস 21শে জুলাই।
D. নীচের প্রশ্নগুলির এককথায় উত্তর দাও :- (যে কোনো তিনটি) 1 × 3 = 3
i) কত সালে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন চালু হয়?
ii) জারোয়া জনগোষ্ঠী কোন্ ভাষায় কথা বলে?
iii) বর্তমানে মানচিত্র বইকে কী বলা হয়?
iv) পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কোন্টি?
4. অনধিক 30টি শব্দের মধ্যে নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও :- (যে কোনো চারটি) 2 × 4 = 8
i) অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখার মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো।
Ans : - অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখা পৃথিবীর অবস্থান নির্ণয়ের জন্য ব্যবহৃত কাল্পনিক রেখা। এদের মধ্যে প্রধান পার্থক্য হল—
প্রথমত, অক্ষরেখাগুলি পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তৃত এবং নিরক্ষরেখার সমান্তরাল; অন্যদিকে দ্রাঘিমারেখাগুলি উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত বিস্তৃত।
দ্বিতীয়ত, অক্ষরেখার সাহায্যে কোনো স্থানের উত্তর বা দক্ষিণ অবস্থান এবং অক্ষাংশ নির্ণয় করা হয়; দ্রাঘিমারেখার সাহায্যে কোনো স্থানের পূর্ব বা পশ্চিম অবস্থান এবং দ্রাঘিমাংশ নির্ণয় করা হয়।
ii) শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের তিনটি উপায়ের কথা উল্লেখ করো।
Ans : - শব্দদূষণ মানুষের স্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন। প্রথমত, অপ্রয়োজনীয়ভাবে গাড়ির হর্ন বাজানো, মাইক বা লাউডস্পিকার ব্যবহার এবং উচ্চ শব্দে গান বাজানো নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, কলকারখানার যন্ত্রপাতি ও যানবাহনের শব্দ কমানোর জন্য উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে এবং শিল্পাঞ্চল ও জনবসতির মধ্যে উপযুক্ত দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। তৃতীয়ত, রাস্তার ধারে ও শিল্পাঞ্চলের আশেপাশে বেশি করে গাছ লাগাতে হবে, কারণ গাছপালা শব্দের তীব্রতা কিছুটা কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি শব্দদূষণ সম্পর্কিত আইন মেনে চলা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করাও জরুরি।
iii) কোন্ নদীকে ‘দক্ষিণ ভারতের গঙ্গা’ বলা হয়? নদীটির উৎসস্থল ও মিলনস্থানের (মোহনার) পরিচয় দাও।
Ans : - গোদাবরী নদীকে ‘দক্ষিণ ভারতের গঙ্গা’ বলা হয়। এটি দক্ষিণ ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও দীর্ঘ নদী। গোদাবরী নদীর উৎপত্তি মহারাষ্ট্রের নাসিক জেলার ত্র্যম্বকেশ্বরের কাছে পশ্চিমঘাট পর্বতমালা থেকে। এরপর নদীটি প্রধানত পূর্বদিকে প্রবাহিত হয়ে মহারাষ্ট্র, তেলেঙ্গানা ও অন্ধ্রপ্রদেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। পথে এর সঙ্গে বিভিন্ন উপনদী মিলিত হয়েছে। অবশেষে গোদাবরী নদী অন্ধ্রপ্রদেশের পূর্ব উপকূলে একটি বিস্তৃত বদ্বীপ সৃষ্টি করে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে। এর মোহনা বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত। দীর্ঘ গতিপথ, বিশাল জলপ্রবাহ এবং কৃষিক্ষেত্রে গুরুত্বের কারণে গোদাবরীকে দক্ষিণ ভারতের গঙ্গা বলা হয়।
iv) টোডা জনগোষ্ঠীর বাসস্থান, ভাষা ও প্রধান জীবিকার পরিচয় দাও।
Ans : - টোডা একটি আদিবাসী জনগোষ্ঠী। এদের প্রধান বাসস্থান দক্ষিণ ভারতের নীলগিরি পাহাড়ি অঞ্চল, বিশেষত তামিলনাড়ু রাজ্যের নীলগিরি জেলায়। পাহাড়ি পরিবেশের সঙ্গে টোডা জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। তারা টোডা ভাষায় কথা বলে, যা দ্রাবিড় ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। টোডাদের প্রধান ঐতিহ্যগত জীবিকা হল পশুপালন, বিশেষ করে মহিষ পালন। মহিষ তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পাশাপাশি দুধ ও দুগ্ধজাত সামগ্রী তাদের জীবিকার সঙ্গে যুক্ত। বর্তমানে শিক্ষা, সরকারি পরিষেবা ও অন্যান্য পেশার প্রভাবেও তাদের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এসেছে। তবুও পশুপালন তাদের ঐতিহ্যবাহী জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
v) ‘আঁধি’ কী?
Ans : - আঁধি হল উত্তর-পশ্চিম ভারতের একটি স্থানীয় প্রবল ধূলিঝড়, যা সাধারণত গ্রীষ্মকালে দেখা যায়। বিশেষ করে রাজস্থান, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, দিল্লি ও উত্তর ভারতের কিছু অঞ্চলে এর প্রভাব বেশি দেখা যায়। প্রচণ্ড গরমের সময় বায়ুচাপের পার্থক্যের কারণে হঠাৎ প্রবল বায়ুপ্রবাহ সৃষ্টি হলে ধুলিকণা ও বালুকণা বাতাসে উঠে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে আকাশ ধুলায় আচ্ছন্ন হয়ে যায় এবং দৃশ্যমানতা অনেক কমে যায়। কখনও কখনও আঁধির সঙ্গে বজ্রপাত ও বৃষ্টিও হতে পারে। আঁধি সাধারণত স্বল্পস্থায়ী হলেও এর বেগ অনেক বেশি হতে পারে এবং জনজীবন, কৃষিকাজ ও পরিবহণে সাময়িক বিঘ্ন ঘটাতে পারে।
5. অনধিক 50টি শব্দের মধ্যে নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও :- (যে কোনো চারটি) 3 × 4 = 12
i) নিরক্ষীয় তল ও কক্ষতল কাকে বলে?
ii) আন্তর্জাতিক তারিখরেখা সম্পর্কে যা জানো লেখো।
iii) a.m. ও p.m. বলতে কী বোঝো?
iv) বায়ুদূষণের কারণগুলি লেখো।
v) মানচিত্র অঙ্কন বিদ্যাকে কী বলে? ‘বড়ো স্কেল মানচিত্র’ বলতে কী বোঝ?
6. অনধিক 40টি শব্দের মধ্যে নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও :- (যে কোনো তিনটি) 5 × 3 = 15
i) আবহাওয়া ও জলবায়ুর মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখো। সিক্স-এর থার্মোমিটার কী কাজে ব্যবহৃত হয়? (৪ + ১)
উত্তর : আবহাওয়া ও জলবায়ু উভয়ই কোনো স্থানের বায়ুমণ্ডলের অবস্থা বোঝায়, কিন্তু তাদের সময়কাল ও বৈশিষ্ট্যের মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে। আবহাওয়া বলতে কোনো নির্দিষ্ট স্থানের নির্দিষ্ট সময়ে, যেমন কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক দিনের, বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা, বায়ুচাপ, আর্দ্রতা, বায়ুপ্রবাহ, মেঘাচ্ছন্নতা ও বৃষ্টিপাতের সামগ্রিক অবস্থাকে বোঝায়। অন্যদিকে, জলবায়ু বলতে কোনো বিস্তীর্ণ অঞ্চলের দীর্ঘ সময় ধরে, সাধারণত বহু বছর ধরে, আবহাওয়ার বিভিন্ন উপাদানের গড় অবস্থা ও স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্যকে বোঝায়।
আবহাওয়া ও জলবায়ুর মধ্যে প্রধান পার্থক্যগুলি হল—
প্রথমত, সময়ের পার্থক্য : আবহাওয়া অল্প সময়ের জন্য পরিবর্তিত হয়। যেমন, আজ সকালে আকাশ মেঘলা এবং বিকেলে বৃষ্টি হতে পারে। কিন্তু জলবায়ু নির্ধারণের জন্য দীর্ঘ সময়ের আবহাওয়ার তথ্য বিবেচনা করা হয়।
দ্বিতীয়ত, পরিবর্তনশীলতার পার্থক্য : আবহাওয়া খুব দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। একই দিনে রোদ, মেঘ ও বৃষ্টি দেখা যেতে পারে। কিন্তু জলবায়ুর পরিবর্তন তুলনামূলকভাবে ধীর এবং দীর্ঘমেয়াদি।
তৃতীয়ত, বিস্তৃতির পার্থক্য : আবহাওয়া সাধারণত কোনো নির্দিষ্ট স্থান বা ছোট অঞ্চলের তাৎক্ষণিক বায়ুমণ্ডলীয় অবস্থা প্রকাশ করে। জলবায়ু সাধারণত বৃহত্তর অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি আবহাওয়ার বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে।
এ ছাড়াও আবহাওয়ার পূর্বাভাস সাধারণত স্বল্প সময়ের জন্য দেওয়া হয়, যেমন আগামীকাল বৃষ্টি হবে কি না। জলবায়ুর ক্ষেত্রে কোনো অঞ্চলে সাধারণত গ্রীষ্ম কেমন, বর্ষাকালে কতটা বৃষ্টি হয় বা শীতকাল কেমন—এই ধরনের দীর্ঘমেয়াদি বৈশিষ্ট্য আলোচনা করা হয়।
সিক্স-এর থার্মোমিটার (Six's thermometer)-এর ব্যবহার :
সিক্স-এর থার্মোমিটার একটি বিশেষ ধরনের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন থার্মোমিটার। এটি কোনো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোনো স্থানের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা পরিমাপ করতে ব্যবহৃত হয়। আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ও জলবায়ু সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহে এই থার্মোমিটার গুরুত্বপূর্ণ।
ii) ভারতের জলবায়ুতে মৌসুমী বায়ুর প্রভাব আলোচনা করো। সংরক্ষিত অরণ্য কাকে বলে? (৩ + ২)
উত্তর : ভারতের জলবায়ুর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হল মৌসুমী বায়ুর প্রভাব। ‘মৌসুমী’ শব্দের অর্থ ঋতু অনুযায়ী পরিবর্তনশীল। ভারতীয় উপমহাদেশে ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মৌসুমী বায়ুর দিক পরিবর্তিত হয়। এই বায়ু ভারতের তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত, আর্দ্রতা এবং কৃষিকাজের উপর গভীর প্রভাব বিস্তার করে।
গ্রীষ্মকালে ভারতীয় ভূখণ্ড বিশেষ করে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল প্রচণ্ড উত্তপ্ত হয়ে নিম্নচাপের সৃষ্টি করে। অন্যদিকে সমুদ্রের উপর তুলনামূলকভাবে উচ্চচাপ বজায় থাকে। ফলে সমুদ্র থেকে আর্দ্র দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু স্থলভাগের দিকে প্রবাহিত হয়। এই বায়ু ভারতে প্রবেশ করে প্রচুর জলীয়বাষ্প নিয়ে আসে এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাত ঘটায়। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর কারণে ভারতের অধিকাংশ বার্ষিক বৃষ্টিপাত ঘটে। এই বৃষ্টির উপর ভারতের কৃষি, বিশেষ করে ধান, পাট, চা ও বিভিন্ন খরিফ ফসলের উৎপাদন অনেকাংশে নির্ভরশীল।
মৌসুমী বায়ুর প্রভাব সর্বত্র সমান নয়। পশ্চিমঘাট পর্বতের পশ্চিম ঢালে এবং উত্তর-পূর্ব ভারতে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়, আবার রাজস্থানের মতো কিছু অঞ্চলে তুলনামূলকভাবে কম বৃষ্টিপাত হয়। শীতকালে মৌসুমী বায়ুর দিক পরিবর্তিত হয়ে স্থলভাগ থেকে সমুদ্রের দিকে প্রবাহিত হয়। তবে দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে উত্তর-পূর্ব মৌসুমী বায়ুর কারণে শীতকালেও বৃষ্টিপাত হয়। তাই ভারতের জলবায়ুকে অনেক সময় মৌসুমী জলবায়ু বলা হয়।
সংরক্ষিত অরণ্য কাকে বলে :
যে অরণ্যকে সরকার আইন করে সংরক্ষণ করে এবং যেখানে বনজ সম্পদ আহরণ, গাছ কাটা, পশুচারণ ও অন্যান্য মানবিক কার্যকলাপের উপর নির্দিষ্ট নিয়ম ও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়, তাকে সংরক্ষিত অরণ্য বলে। এই অরণ্যের প্রধান উদ্দেশ্য হল বনভূমি, বন্যপ্রাণী, উদ্ভিদ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা। প্রয়োজন অনুযায়ী অনুমতি নিয়ে কিছু সীমিত কার্যকলাপ করা যেতে পারে, কিন্তু বনসম্পদের নির্বিচার ব্যবহার সাধারণত নিষিদ্ধ বা নিয়ন্ত্রিত থাকে। ভারতের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সংরক্ষিত অরণ্যের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
iii) গম চাষের জন্য অনুকূল জলবায়ু ও মৃত্তিকা সম্পর্কে আলোচনা করো। গম উৎপাদক দুটি রাজ্যের নাম লেখো। (৪ + ১)
উত্তর :
গম ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ রবিশস্য। প্রধানত শীতকালে গমের চাষ করা হয়। গম চাষের জন্য এমন জলবায়ু প্রয়োজন যেখানে ফসলের বৃদ্ধির সময় ঠান্ডা ও অপেক্ষাকৃত শুষ্ক আবহাওয়া এবং শস্য পাকার সময় উষ্ণ ও শুষ্ক আবহাওয়া বিরাজ করে। ভারতের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ সমভূমি গম চাষের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী।
জলবায়ু :
গম চাষের জন্য সাধারণত শীতল ও শুষ্ক জলবায়ু উপযোগী। বীজ বপনের সময় আবহাওয়া ঠান্ডা থাকা প্রয়োজন। গমের গাছের বৃদ্ধি ও শস্য গঠনের সময় মৃদু শীতল আবহাওয়া উপকারী। গম পাকার সময় উষ্ণ, শুষ্ক ও পরিষ্কার আবহাওয়া দরকার। অতিরিক্ত বৃষ্টি বা আর্দ্রতা গমের শস্য পাকার সময় ক্ষতিকর হতে পারে। সাধারণভাবে গম চাষের জন্য মাঝারি পরিমাণ বৃষ্টিপাত উপযুক্ত। তবে যেখানে প্রাকৃতিক বৃষ্টিপাত কম, সেখানে সেচের সাহায্যে গমের চাষ করা হয়। শীতকালে হালকা বৃষ্টি গমের বৃদ্ধির পক্ষে উপকারী। কিন্তু শিলাবৃষ্টি, অতিরিক্ত বৃষ্টি বা দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা ফসলের ক্ষতি করতে পারে।
মৃত্তিকা :
গম চাষের জন্য উর্বর, গভীর ও ভালো জলনিকাশযুক্ত মাটি প্রয়োজন। ভারতের উত্তর ভারতের নদীবাহিত সমভূমিতে গঙ্গা, যমুনা ও তাদের বিভিন্ন উপনদীর পলি দ্বারা গঠিত পলিমাটি গম চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এই মাটিতে উদ্ভিদের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন খনিজ ও পুষ্টি উপাদান থাকে। দোআঁশ ও এঁটেল-দোআঁশ মাটিতেও গম ভালো জন্মায়। মাটি যেন অতিরিক্ত জল ধরে না রাখে, সেদিকেও খেয়াল রাখা হয়।
গম চাষের জন্য উর্বর মাটি, পর্যাপ্ত সেচ, উন্নত বীজ ও উপযুক্ত শীতকালীন জলবায়ু একসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ।
গম উৎপাদক দুটি রাজ্য :
গম উৎপাদনে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যগুলির মধ্যে উত্তরপ্রদেশ ও পাঞ্জাব উল্লেখযোগ্য।
iv) ভারতের ভূ-প্রাকৃতিক অঞ্চলগুলিকে কয়টি ভাগে ভাগ করা যায় ও কী কী? উত্তরের নদীগঠিত সমভূমির ভূ-প্রকৃতি ব্যাখ্যা করো। (২ + ৩)
উত্তর :
ভারত একটি বৈচিত্র্যময় ভূপ্রকৃতির দেশ। দেশের বিভিন্ন অংশে পর্বত, সমভূমি, মালভূমি, মরুভূমি, উপকূলীয় সমভূমি ও দ্বীপ দেখা যায়। সাধারণভাবে ভারতের ভূ-প্রাকৃতিক অঞ্চলকে ছয়টি প্রধান ভাগে ভাগ করা যায়। এগুলি হল—
১. উত্তরের পার্বত্য অঞ্চল বা হিমালয় পর্বতমালা
২. উত্তরের নদীগঠিত সমভূমি
৩. দাক্ষিণাত্যের মালভূমি
৪. ভারতের মরুভূমি অঞ্চল
৫. উপকূলীয় সমভূমি
৬. দ্বীপপুঞ্জ
উত্তরের নদীগঠিত সমভূমির ভূ-প্রকৃতি :
হিমালয় থেকে উৎপন্ন গঙ্গা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র এবং তাদের বিভিন্ন উপনদী দীর্ঘকাল ধরে বিপুল পরিমাণ পলি বহন করে এনেছে। এই পলি জমে হিমালয়ের দক্ষিণে যে বিস্তীর্ণ সমভূমি গড়ে উঠেছে, তাকে উত্তরের নদীগঠিত সমভূমি বা উত্তর ভারতীয় সমভূমি বলা হয়। এটি মূলত পলিমাটি দ্বারা গঠিত এবং অত্যন্ত সমতল ও উর্বর।
এই সমভূমির পশ্চিম অংশে সিন্ধু নদী ও তার উপনদীগুলির পলি দ্বারা গঠিত অঞ্চল রয়েছে। মধ্যভাগে গঙ্গা ও তার উপনদীগুলির দ্বারা গঠিত বিস্তীর্ণ সমভূমি দেখা যায়। পূর্বদিকে গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র নদীর অববাহিকা বিস্তৃত হয়েছে। নদীর গতিপথের পরিবর্তন, পলি সঞ্চয় ও ক্ষয়ের ফলে এই অঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের ভূমিরূপ সৃষ্টি হয়েছে। নদীর কাছাকাছি অঞ্চলে নতুন পলি জমে খাদর এবং অপেক্ষাকৃত পুরোনো পলি দ্বারা গঠিত উঁচু অংশে ভাঙ্গর দেখা যায়। কোথাও কোথাও নদীর বন্যার জল ও পলি সঞ্চয়ের ফলে চর বা বালুচরও সৃষ্টি হয়।
উত্তরের নদীগঠিত সমভূমি অত্যন্ত উর্বর ও সমতল হওয়ায় এখানে কৃষিকাজের ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপ অঞ্চলে নদী ও পলি সঞ্চয়ের প্রভাবে বিস্তীর্ণ বদ্বীপ এবং জলাভূমিও গড়ে উঠেছে। এই সমভূমি ভারতের জনবসতি ও কৃষির দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

.jpg)
Enter Your Comment