WBBSE Class 7 Science 3rd Summative Question Paper 2026
২০২৬ শিক্ষাবর্ষে পশ্চিমবঙ্গের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের তৃতীয় পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন ও বার্ষিক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য এই পোস্টে দেওয়া হলো Class 7 Science 3rd Summative Question Paper 2026, Class 7 Science Question Answer 2026, WBBSE Class 7 Science Suggestion 2026 এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর। বাংলা মাধ্যমের শিক্ষার্থীরা এখান থেকে সপ্তম শ্রেণির বিজ্ঞান প্রশ্ন ও উত্তর ২০২৬ এবং পরীক্ষার প্রস্তুতির প্রয়োজনীয় উপকরণ অনুশীলন করতে পারবে।
সপ্তম শ্রেণির বিজ্ঞান বার্ষিক পরীক্ষার প্রশ্ন ও উত্তর ২০২৬
Class 7 Science 3rd Summative Question Paper 2026 /সপ্তম শ্রেনী পরিবেশ ও বিজ্ঞান তৃতীয় পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন প্রশ্নপত্র ও সাজেশন,৭ম শ্রেণির বিজ্ঞান বার্ষিক পরীক্ষার প্রশ্ন ২০২৬ অনুশীলনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা প্রশ্নের ধরন, নম্বর বিভাজন এবং উত্তর লেখার পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা পেতে পারবে। গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের MCQ, সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, বড়ো প্রশ্ন, কারণ লেখো, পার্থক্য এবং অন্যান্য পরীক্ষোপযোগী প্রশ্ন এখানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
Class 7 Science Question Answer /সপ্তম শ্রেণীর বিজ্ঞান প্রশ্ন ও উত্তর
Class 7 Science Question Answer 2026 ,West Bengal Class 7 Science 3rd Unit Test Question Answer পরীক্ষার প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সপ্তম শ্রেণির পরিবেশ ও বিজ্ঞান প্রশ্ন উত্তর, Class 7 Bigyan Proshno o Uttor 2026 এবং Science Solution in Bengali অনুশীলন করলে কঠিন বিষয়গুলি সহজে বোঝা এবং নিজের ভাষায় উত্তর লেখার অভ্যাস তৈরি করা যায়।
Class 7 Enviroment and Science 3rd Summative Suggestion 2026
Class 7 Science 3rd Summative Suggestion 2026 ,Class 7 Science 3rd Unit Test Question 2026-এ গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও বিষয়গুলি পুনরাবৃত্তির জন্য সাজানো হয়েছে। তবে শুধু সাজেশনের ওপর নির্ভর না করে পাঠ্যবইয়ের সম্পূর্ণ অধ্যায় পড়া উচিত। পাশাপাশি Class 7 Enviroment and Science Annual Exam Question Paper 2026 এবং Soptom Shrenir Bigyan Titiyo Porjaikromik Mulyaon Proshno মডেল প্রশ্নপত্র নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমাধান করলে পরীক্ষার প্রস্তুতি ও সময় ব্যবস্থাপনা আরও ভালো হবে।
সপ্তম শ্রেণীর তৃতীয় ইউনিট টেস্টের বিজ্ঞান প্রশ্নপত্র
Class – VII
ENVIRONMENT & SCIENCE
Time – 2 Hours 30 Minutes
Full Marks – 70 (40+30)
('ক' বিভাগ ও 'খ' বিভাগের প্রশ্নের উত্তর আলাদা আলাদা উত্তরপত্রে করতে হবে।)
ক—বিভাগ
(মোট নম্বর – 40)
1. সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করে (√) চিহ্ন দাও : 1 × 8 = 8
1.1 এক গামলা গরম জল থেকে এক গ্লাস জল তুলে নিলে উভয় পাত্রের যেটি একই থাকবে সেটি হল—
(a) তাপ
(b) উষ্মতা
(c) জলের পরিমাণ
(d) তাপ ও উষ্মতা উভয়ই
1.2 ঘন মাধ্যম থেকে লঘু মাধ্যমে আলোর প্রতিসরণের সময় প্রতিসৃত রশ্মি—
(a) অভিলম্ব থেকে দূরে সরে যায়
(b) অভিলম্বের দিকে সরে আসে
(c) সোজা নির্গত হয়
(d) বক্রপথে গমন করে
1.3 সরলরেখা বরাবর চলন্ত সাইকেলের চাকার গতি হল—
(a) চলন গতি
(b) ঘূর্ণন গতি
(c) মিশ্র গতি
(d) সবক-টিই
1.4 বস্তুর জাড্যধর্ম নির্ভর করে—
(a) বেগের ওপর
(b) ত্বরণের ওপর
(c) ভরের ওপর
(d) সবগুলির ওপর
1.5 জিঙ্ক আয়ন (Zn²⁺) ও ফসফেট মূলক (PO₄³⁻) দিয়ে গঠিত যৌগের সংকেত হবে—
(a) ZnPO₄
(b) Zn₂(PO₄)
(c) Zn₃(PO₄)₂
(d) Zn₂(PO₄)₂
1.6 KCl + AgNO₃ → KNO₃ + AgCl—এই রাসায়নিক বিক্রিয়াটি হল—
(a) অ্যাসিড-ক্ষার বিক্রিয়া
(b) প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া
(c) বিনিময় বিক্রিয়া
(d) প্রত্যক্ষ সংযোগ বিক্রিয়া
1.7 ঝিনুকের দেহের শক্ত খোলসটি তৈরি হয়—
(a) ক্যালশিয়াম কার্বনেট দিয়ে
(b) ম্যাগনেশিয়াম কার্বনেট দিয়ে
(c) ক্যালশিয়াম সালফেট দিয়ে
(d) ম্যাগনেশিয়াম সালফেট দিয়ে
1.8 পাতিলেবুর রসে থাকে—
(a) অ্যাসিটিক অ্যাসিড
(b) ল্যাকটিক অ্যাসিড
(c) টারটারিক অ্যাসিড
(d) সাইট্রিক অ্যাসিড
2. নির্দেশ মতো নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলির উত্তর দাও : 1 × 11 = 11
2.1 বিসদৃশ শব্দটি নির্ণয় করো :
পদার্থের উপাদান, ভর, তাপমাত্রা বৃদ্ধি বা হ্রাস, পদার্থের ঘনত্ব।
2.2 শূন্যস্থান পূরণ করো :
প্রচ্ছায়ায় কোনো ______ পড়ে না।
2.3 সত্য/মিথ্যা নির্বাচন করো :
বল প্রয়োগে বস্তুর সরণ হলে কাজ করা হয়।
2.4 নিউটনের তৃতীয় গতিসূত্রটি লেখো।
অথবা,
দ্রুতি কাকে বলে?
2.5 তোমার বাড়ি থেকে স্কুলের দূরত্ব 500 m। তুমি বাড়ি থেকে স্কুলে গিয়ে আবার বাড়ি ফিরে এলে। তোমার মোট সরণ কত হল?
2.6 পরমাণুর নিউক্লিয়াসে কী কণা থাকে?
অথবা,
পাথুরে চুনে জল দিলে কোন্ যৌগ উৎপন্ন হয়?
2.7 সত্য/মিথ্যা নির্বাচন করো :
বিভিন্ন মৌলিক পদার্থের পরমাণুর ওজন ও ধর্ম বিভিন্ন হয়।
2.8 “আমি কে” লেখো :
(i) আমি সারাক্ষণ তোমাদের চারপাশেই আছি।
(ii) চুনাপাথরকে উত্তপ্ত করলে আমাকে পাবে।
(iii) আমি বিশ্ব উষ্মায়নের অন্যতম কারণ।
(iv) আমার সাহায্যে গাছেরা খাবার তৈরি করে।
2.9 সালফিউরিক অ্যাসিডের সংকেত লেখো।
অথবা,
সিনেমার পর্দায় আলোর কোন্ ধরনের প্রতিফলন ঘটে?
2.10 বিসদৃশ শব্দটি চিহ্নিত করো :
লিটমাস, ফেনলপথ্যালিন, ডিটারজেন্ট, মিথাইল অরেঞ্জ।
2.11 একজোড়া শব্দের সম্পর্কের ভিত্তিতে অপর জোড়ার শূন্যস্থান পূরণ করো :
চটের বস্তা : জৈব ভঙ্গুর :: ______ : জৈব অভঙ্গুর।
3. নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলির উত্তর দাও : 2 × 3 = 6
3.1 ত্বরণ কাকে বলে? SI পদ্ধতিতে ত্বরণের একক কী?
অথবা,
কোনো গতিশীল বস্তুর বেগ কী শূন্য হওয়া সম্ভব? ব্যাখ্যা করো।
3.2 একটি রাসায়নিক সার ও একটি কীটনাশকের নাম লেখো।
অথবা,
পলিমার কী? একটি উদাহরণ দাও।
3.3 ভরসংখ্যা কাকে বলে? পারমাণবিক সংখ্যার সঙ্গে ভরসংখ্যার সম্পর্ক কী?
অথবা,
A মৌলটির একটি পরমাণুর পরমাণু ক্রমাঙ্ক ৪ এবং ভরসংখ্যা 16। পরমাণুটির গঠন চিত্র অঙ্কন করো।
4. নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলির উত্তর দাও : 3 × 5 = 15
4.1 প্রাণীর শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়াগুলির ওপর তাপের প্রভাব উল্লেখ করো।
4.2 একটি পরীক্ষার সাহায্যে প্রমাণ করো যে, আলো সরলরেখায় চলে।
অথবা,
একটি পরীক্ষা দ্বারা প্রমাণ করো যে, সাদা আলো মৌলিক আলো নয়।
4.3 নিউটনের দ্বিতীয় গতিসূত্র থেকে বল পরিমাপের সমীকরণ নির্ণয় করো।
অথবা,
পাখি উড়তে উড়তে ডানা ঝাপটানো বন্ধ করে দিয়েও ডানা মেলে বাতাসে ভাসতে ভাসতে অনেকটা এগিয়ে যায় কেন? SI পদ্ধতিতে কাজের একক কী?
4.4 অ্যাসিড ও ক্ষারের ধর্মের তুলনা করো।
অথবা,
রক্তের চাপ যদি স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যায় তাহলে আমাদের শরীরে কী কী ঘটতে পারে?
4.5 রাসায়নিক সমীকরণ সমতা বিধান করা হয় কেন? নিম্নলিখিত সমীকরণটি সমতা বিধান করো—
Cu(NO₃)₂ → CuO + NO₂ + O₂
খ—বিভাগ
(মোট নম্বর – 30)
1. সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করে বাক্য সম্পূর্ণ করো : 1 × 3 = 3
1.1 ‘হোয়াইট ডেথ’ নামে পরিচিত ছিল যে রোগটি সেটি হল—
(যক্ষ্মা / প্লেগ / ম্যালেরিয়া)।
1.2 পেশিতে—
(অ্যাকটিন ও মায়োসিন / কেরাটিন ও কোলাজেন / ফাইব্রিনোজেন ও প্রোথ্রবিন) থাকে।
1.3 ভিটামিন-D-এর অভাবে—
(বেরিবেরি / রিকেট / অ্যানিমিয়া) রোগ হয়।
2. একটি বাক্যে উত্তর দাও (যে-কোনো তিনটি) : 1 × 3 = 3
2.1 কোন্ বিপন্ন প্রাণী থেকে ‘মৃগনাভি’ পাওয়া যায়?
2.2 একটি জলবাহিত রোগের নাম লেখো।
2.3 কোন্ ভিটামিনের অভাবে স্নায়ুর দুর্বলতা, অ্যানিমিয়া, স্মৃতিভ্রংশ দেখা দেয়?
2.4 ম্যালেরিয়া রোগের জীবাণুর নাম কী?
3. শূন্যস্থানে উপযুক্ত শব্দ বসাও (যে-কোনো তিনটি) : 1 × 3 = 3
3.1 WHO-এর প্রধান কার্যালয় ______ শহরে অবস্থিত।
3.2 অস্ট্রেলিয়ার কোয়ালা ভালুকের প্রিয় ও প্রধান খাদ্য ______।
3.3 সস্তা বিরিয়ানিতে ______ নামক ক্ষতিকারক পদার্থ মিশে থাকে।
3.4 পোলিয়ো একটি ______ রোগ।
4. বুঝে নিয়ে পরিচয় দাও : 1 × 2 = 2
4.1 আমি একটি মশকি। আমি দিনের বেলায় বাইরে আসি এবং ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া রোগ ছড়াই। আমি কে?
4.2 আমি একটি খনিজ মৌল। মানবদেহে পেশি সংকোচন স্বাভাবিক রাখতে ও ক্ষতস্থান থেকে বেরিয়ে যাওয়া রক্ত জমাট বাঁধানোয় সাহায্য করি। আমি কে?
5. সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও (যে-কোনো চারটি) : 2 × 4 = 8
5.1 ‘এক্স-রশ্মি’র ব্যবহার ও কু-প্রভাব উল্লেখ করো।
5.2 ‘পাস্তুরাইজেশন’ বলতে কী বোঝো?
5.3 উদাহরণসহ খাদ্যশৃঙ্খলের সংজ্ঞা দাও।
5.4 একজন মানুষের উচ্চতা 1.60 মিটার এবং ওজন 75 কেজি হলে তার স্থূলত্বের সম্ভাবনা নির্ণয় করো।
5.5 ভিটামিন A এবং আয়োডিনের অভাবে কী কী রোগ হতে পারে?
6. সংক্ষেপে উত্তর দাও (যে-কোনো দুটি) : 3 × 2 = 6
6.1 পৃথিবীর উষ্মতা বৃদ্ধির একটি কারণ এবং দুটি প্রভাব উল্লেখ করো। 1 + 2
উত্তর : পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাওয়াকে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বা পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধি বলা হয়। এর একটি প্রধান কারণ হলো গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ বৃদ্ধি। কয়লা, পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসের মতো জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাইঅক্সাইডসহ বিভিন্ন গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। এছাড়া বনভূমি ধ্বংসের ফলেও কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ বাড়তে পারে।
পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধির দুটি উল্লেখযোগ্য প্রভাব হলো—
প্রথমত, মেরু অঞ্চলের বরফ গলে যাওয়া ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি। তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে হিমবাহ ও মেরু অঞ্চলের বরফ গলতে থাকে। এর ফলে সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধি পেয়ে উপকূলবর্তী নিচু অঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
দ্বিতীয়ত, জলবায়ুর পরিবর্তন ও চরম আবহাওয়ার ঘটনা বৃদ্ধি। উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন, তাপপ্রবাহ, খরা, অতিবৃষ্টি ও কিছু অঞ্চলে শক্তিশালী ঝড়ের মতো ঘটনা দেখা দিতে পারে। এর প্রভাব কৃষি, জীবজগৎ ও মানুষের জীবনযাত্রার ওপর পড়ে।
6.2 কোয়াশিওরকর ও ম্যারাসমাস রোগের মধ্যে কারণ ও উপসর্গগত পার্থক্য নির্ণয় করো। 1 + 2
উত্তর : কোয়াশিওরকর ও ম্যারাসমাস উভয়ই অপুষ্টিজনিত রোগ। তবে এদের প্রধান কারণ ও উপসর্গের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
কারণগত পার্থক্য :
কোয়াশিওরকর প্রধানত খাদ্যে প্রোটিনের অভাবের কারণে হয়, যদিও মোট শক্তির ঘাটতিও থাকতে পারে। অন্যদিকে, ম্যারাসমাস মূলত খাদ্যে শক্তি ও প্রোটিন উভয়েরই দীর্ঘস্থায়ী ঘাটতির ফলে দেখা দেয়।
উপসর্গগত পার্থক্য :
কোয়াশিওরকর রোগে শিশুর শরীরে ফোলা বা শোথ দেখা দিতে পারে, বিশেষ করে পা ও মুখে। পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যেতে পারে এবং চুলের স্বাভাবিক রং ও গঠনে পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। শিশুর বৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং দুর্বলতা দেখা দেয়।
অন্যদিকে, ম্যারাসমাসে শরীরে চর্বি ও পেশি খুব কমে যাওয়ায় শিশু অত্যন্ত রোগা ও শীর্ণ হয়ে যায়। শরীরের ওজন অনেক কমে যায় এবং পাঁজরের হাড় স্পষ্টভাবে দেখা যেতে পারে। সাধারণত কোয়াশিওরকরের মতো শরীরে শোথ দেখা যায় না। উভয় রোগেই শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি ও স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত হয়।
6.3 অ্যানোফিলিস ও কিউলেক্স মশার মধ্যে তিনটি পার্থক্য নির্ণয় করো।
উত্তর : অ্যানোফিলিস ও কিউলেক্স—উভয়ই মশার গণের অন্তর্ভুক্ত হলেও এদের কিছু বৈশিষ্ট্যে পার্থক্য রয়েছে।
১. বিশ্রামের ভঙ্গি : অ্যানোফিলিস মশা বসার সময় দেহটি মাটির সঙ্গে প্রায় কোণ করে বা তির্যকভাবে রাখে। অন্যদিকে, কিউলেক্স মশা বসার সময় দেহটি সাধারণত মাটির সমান্তরালভাবে রাখে।
২. ডিম পাড়ার ধরন : অ্যানোফিলিস মশার ডিম সাধারণত জলের উপর আলাদাভাবে ভাসে এবং ডিমের পাশে ভাসমান কাঠামো থাকে। অন্যদিকে, কিউলেক্স মশার ডিম সাধারণত গুচ্ছ বা নৌকার মতো ডিমের ভেলায় জলের উপর থাকে।
৩. রোগ বিস্তার : স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশা ম্যালেরিয়া রোগের জীবাণু বহন ও সংক্রমণ করতে পারে। অন্যদিকে, কিউলেক্স মশা ফাইলেরিয়াসিস বা গোদ রোগের জীবাণু সংক্রমণ করতে পারে।
এছাড়া অ্যানোফিলিসের লার্ভা সাধারণত জলের উপরিভাগের কাছাকাছি সমান্তরালভাবে থাকে এবং শ্বাস নেওয়ার জন্য আলাদা সাইফন থাকে না। কিউলেক্সের লার্ভা সাধারণত জলের উপর তির্যকভাবে অবস্থান করে এবং শ্বাস নেওয়ার জন্য একটি দীর্ঘ সাইফন ব্যবহার করে। এই বৈশিষ্ট্যগুলির সাহায্যে দুই ধরনের মশাকে আলাদা করে শনাক্ত করা যায়।
7. যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও : 5 × 1 = 5
7.1 সাধারণ মাছি, বালি মাছি এবং কালো মাছির বৈশিষ্ট্য লেখো এবং এরা কী কী রোগ ছড়ায় তা উল্লেখ করো। 3 + 2
Ans :-
সাধারণ মাছি, বালি মাছি ও কালো মাছি—তিন ধরনের মাছিই মানুষের স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর হতে পারে। সাধারণ মাছি সাধারণত বাড়িঘর, আবর্জনার স্তূপ, নোংরা জায়গা ও পচা খাবারের আশেপাশে দেখা যায়। এদের দেহে ও পায়ে রোগজীবাণু লেগে থাকে এবং খাবারের ওপর বসলে সেই জীবাণু খাবারে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এর ফলে আমাশয়, ডায়রিয়া, টাইফয়েড প্রভৃতি রোগ ছড়াতে পারে।
বালি মাছি আকারে খুব ছোট এবং সাধারণত বালুময় বা স্যাঁতসেঁতে জায়গায় দেখা যায়। এদের স্ত্রী মাছি রক্ত শোষণ করে। বালি মাছির কামড়ের মাধ্যমে কালাজ্বর (Leishmaniasis)-এর জীবাণু মানুষের দেহে প্রবেশ করতে পারে।
কালো মাছি ছোট আকারের এবং সাধারণত নদী বা দ্রুত প্রবাহিত জলের কাছাকাছি পাওয়া যায়। স্ত্রী কালো মাছি রক্ত শোষণ করে। এর মাধ্যমে অনকোসারকিয়াসিস (River blindness)-এর মতো রোগ ছড়াতে পারে।
তাই খাবার ঢেকে রাখা, বাড়ির আশেপাশে আবর্জনা না রাখা এবং পরিবেশ পরিষ্কার রাখা মাছিবাহিত রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ।
7.2 জীববৈচিত্র্যের তিনটি গুরুত্ব লেখো। জীববৈচিত্র্য হ্রাসের দুটি কারণ উল্লেখ করো। 3 + 2
Ans :- পৃথিবীতে বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ, প্রাণী ও অণুজীবের বৈচিত্র্যকে জীববৈচিত্র্য বলা হয়। পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে জীববৈচিত্র্যের গুরুত্ব অপরিসীম।
প্রথমত, জীববৈচিত্র্য বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। খাদ্যশৃঙ্খল ও খাদ্যজালের মাধ্যমে বিভিন্ন জীব একে অপরের ওপর নির্ভরশীল থাকে। কোনো একটি প্রজাতি বিলুপ্ত হলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।
দ্বিতীয়ত, জীববৈচিত্র্য থেকে মানুষ খাদ্য, ওষুধ, কাঠ, তন্তু ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণ পায়। বহু উদ্ভিদ ও প্রাণী মানুষের খাদ্য ও চিকিৎসার গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
তৃতীয়ত, বিভিন্ন জীব মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি, পরাগায়ণ, বীজ বিস্তার এবং পরিবেশ পরিষ্কার রাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে।
জীববৈচিত্র্য হ্রাসের প্রধান কারণগুলির মধ্যে একটি হলো বনভূমি ধ্বংস ও প্রাকৃতিক আবাসস্থল নষ্ট করা। কৃষিজমি, রাস্তা ও বসতি তৈরির জন্য বন ধ্বংস করলে বহু প্রাণী ও উদ্ভিদের আবাসস্থল নষ্ট হয়। দ্বিতীয় কারণ হলো অতিরিক্ত শিকার ও অবৈধভাবে বন্যপ্রাণী সংগ্রহ। এছাড়া দূষণ, জলবায়ুর পরিবর্তন এবং বহিরাগত প্রজাতির বিস্তারও জীববৈচিত্র্য হ্রাসে ভূমিকা রাখে।
7.3 জীবদেহে জলের ভূমিকা উল্লেখ করো। মানবদেহ থেকে কোন্ কোন্ মাধ্যমে জল বের হয়ে যায়? 3 + 2
Ans :- জল জীবদেহের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। জীবদেহের অধিকাংশ বিপাকীয় কাজ জলীয় মাধ্যমে সংঘটিত হয়। জল খাদ্য হজম, পুষ্টি উপাদান পরিবহন এবং বর্জ্য পদার্থ অপসারণে সাহায্য করে। রক্তের প্রধান উপাদান জল হওয়ায় এটি দেহের বিভিন্ন অংশে অক্সিজেন, পুষ্টি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পদার্থ পৌঁছে দিতে সাহায্য করে। জল শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে তাপ বেরিয়ে যায় এবং দেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা বজায় থাকে। এছাড়া জল বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে এবং কোষের স্বাভাবিক কাজ বজায় রাখতে সাহায্য করে।
মানবদেহ থেকে প্রধানত মূত্র, ঘাম, শ্বাসবায়ু এবং মলের মাধ্যমে জল বের হয়ে যায়। কিডনি রক্ত থেকে অতিরিক্ত জল ও বর্জ্য পদার্থ ছেঁকে মূত্রের মাধ্যমে দেহের বাইরে বের করে দেয়। ত্বকের ঘর্মগ্রন্থি থেকে ঘামের সঙ্গে জল বের হয়। শ্বাস নেওয়া ও ছাড়ার সময় জলীয় বাষ্পও দেহ থেকে বেরিয়ে যায়। এছাড়া মলের সঙ্গেও কিছু পরিমাণ জল শরীর থেকে বের হয়ে যায়। তাই দেহে জলের ভারসাম্য বজায় রাখতে পর্যাপ্ত জল গ্রহণ করা প্রয়োজন।
CLASS 7 - 3RD UNIT TEST 2026
📚 সব বিষয়ের 4 টি করে প্রশ্নপত্রের SET
🔥 খুবই সুলভ মূল্যে!
📲 ONLY WHATSAPP - 8337875981
আজই সংগ্রহ করুন!

.jpg)
Enter Your Comment