ক্লাস 6 ইতিহাস তৃতীয় পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন প্রশ্নপত্র ২০২৬
WBBSE Class 6 History 3rd Unit Test Question Paper 2026
এই পোস্টে Class 6 History 3rd Unit Test 2026 পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নপত্র এবং প্রয়োজনীয় প্রশ্নোত্তর দেওয়া হয়েছে। WBBSE Class 6 History 3rd Unit Test Question Paper 2026 অনুসারে ছাত্রছাত্রীরা বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন অনুশীলন করতে পারবে। পরীক্ষার আগে প্রশ্নপত্রটি ভালোভাবে পড়লে প্রশ্নের ধরন, গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং উত্তর লেখার পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা তৈরি হবে।
West Bengal Class 6 History Question Answer 2026
Class 6 History Question Answer 2026 পরীক্ষার প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বাংলা মাধ্যমের ছাত্রছাত্রীদের সুবিধার জন্য ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলির উত্তর সহজ ও পরিষ্কার ভাষায় দেওয়া হয়েছে। যারা WBBSE Class 6 History Solution in Bengali Medium 2026 অথবা Class 6 History Answer 2026 খুঁজছেন, তারা এখান থেকে প্রয়োজনীয় প্রশ্নোত্তর অনুশীলন করতে পারবে।
Class 6 History 3rd Unit Test Suggestion 2026
পরীক্ষার আগে Class 6 History 3rd Unit Test Suggestion 2026 এবং Class 6 History Third Summative Test Question and Answer দেখে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি পুনরায় অনুশীলন করা যেতে পারে। এর মধ্যে সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, বড়ো প্রশ্ন, সংজ্ঞা, কারণ লেখো, পার্থক্য লেখো, টীকা লেখো এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। তবে শুধু সাজেশনের ওপর নির্ভর না করে পাঠ্যবইয়ের সম্পূর্ণ বিষয় ভালোভাবে পড়া উচিত।
ষষ্ঠ শ্রেণি ইতিহাস তৃতীয় পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন প্রশ্নপত্র ও সাজেশন ২০২৬
WBBSE Class 6 History 2026 পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য নিয়মিত পাঠ্যবই পড়া, গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর লেখা এবং পূর্ববর্তী প্রশ্নপত্র অনুশীলন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। West Bengal Class 6 History Question Paper 2026 এবং Class 6 History 3rd Summative Question Paper 2026 অনুশীলনের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের প্রস্তুতি যাচাই করতে পারবে।
Class 6 History 3rd Unit Test Question Paper 2026, প্রশ্নোত্তর এবং সাজেশন নিয়মিত অনুশীলন করে ষষ্ঠ শ্রেণির ইতিহাস পরীক্ষার প্রস্তুতি আরও ভালোভাবে নেওয়া সম্ভব। পরীক্ষার আগে প্রতিটি অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ও প্রশ্নোত্তর ভালোভাবে দেখে নেওয়া উচিত।
ষষ্ঠ শ্রেণির তৃতীয় পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়নের ইতিহাস প্রশ্নপত্র
CLASS – VI
Sub – History
Time – 2 hours 30 minutes
F.M. – 70
১. সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করে লেখো : 1 × 10 = 10
i) জনপদ হল — (কৃষিভিত্তিক / শিল্পভিত্তিক / শ্রমিকভিত্তিক) গ্রামীন এলাকা।
ii) মৌর্য আমলে অর্থনীতি মূলত — (শিল্পের / কৃষির / ব্যাবসা বাণিজ্যের) উপরে নির্ভর করে।
iii) গুপ্ত ও গুপ্ত-পরবর্তী আমলে ধর্মীয় উদ্দেশ্যে জমিদানকে বলা হয় — (সামন্ত / বেগার / অগ্রহার) ব্যবস্থা।
iv) হেরোডোটাসের মতে ইন্দুস ছিল পারসিক সাম্রাজ্যের একটি — (প্রদেশ / দেশ / জেলা)।
v) ইন্দো-গ্রিক বলা হত — (শকদের / কুষাণদের / ব্যাকট্রিয়ার অধিবাসীদের)।
vi) সেন্ট থমাস খ্রিস্টধর্ম প্রচারের জন্য ভারতীয় উপমহাদেশে এসেছিলেন — (আলেকজান্ডার / মিনান্দার / গন্ডোফারনেস) এর আমলে।
vii) মিনান্দারের রাজধানী ছিল — (সাকল / পাটলিপুত্র / দিল্লি)।
viii) জীবকের গুরু ছিলেন — (দ্রোণাচার্য / আত্রেয় / পাণিনি)।
ix) মথুরা রীতির ভাস্কর্যে লাল — (চুনাপাথরের / বেলে পাথরের / কাদাপাথরের) ব্যবহার দেখা যায়।
x) বেশিরভাগ মহাজনপদ — (গঙ্গা / যমুনা / কৃষ্ণা) নদীর উপত্যকায় অবস্থিত ছিল।
২. শূণ্যস্থান পূরণ করো : 1 × 5 = 5
i) ‘ওয়াড়’ কথার অর্থ _________ দেশ বলেছেন।
ii) ফাসিয়ান কে _________ বলা হত।
iii) সুয়ান জাং ‘ইন-তু’ কে _________ দেশ বলেছেন।
iv) ‘পুরাণ’ শব্দের অর্থ _________।
v) মিশরীয় লিপিকে _________ বলা হত।
৩. বেমানান শব্দটি খুঁজে বার করো : 1 × 5 = 5
i) নালন্দা, তক্ষশিলা, বলভী, পাটলিপুত্র।
ii) ব্রাহ্মী, সংস্কৃত, খরোষ্ঠী, দেবনাগরী।
iii) ভৃগুকচ্ছ, কল্যাণ, সোপারা, তাম্রলিপ্ত।
iv) আলেকজান্ডার, সেলিউকাস, মিনান্দার, কণিষ্ক।
v) বুদ্ধযশ, কুমারজীব, পরমার্থ, সুয়ান জং।
৪. নীচের কোনটি ঠিক কোনটি ভুল বেছে নাও : 1 × 5 = 5
i) নালন্দা মহাবিহারে কেবল ব্রাহ্মণ ছাত্ররাই পড়তে পারত।
ii) বাণভট্ট ছিলেন একজন চিকিৎসক।
iii) কুষাণ আমলে গান্ধার শিল্পের বিকাশ ঘটেছিল।
iv) রামায়ন লিখেছেন কবি বাল্মীকি।
v) অর্থশাস্ত্র লেখেন পাণিনি।
৫. ক-স্তম্ভের সঙ্গে খ-স্তম্ভ মিলিয়ে লেখো : 1 × 5 = 5
ক-স্তম্ভ - খ-স্তম্ভ
A. মহাবলীপুরম 1. কুষাণ যুগ
B. গান্ধার শিল্পরীতি 2. নাগার্জুন
C. গণিতবিদ 3. তামিল মহাকাব্য
D. মণিমেখলাই 4. গুহাচিত্র
E. অজন্তা 5. রথের মতো মন্দির
৬. এক কথায় উত্তর দাও : (৪টি) 1 × 8 = 8
i) মগধের পাশ্ববর্তী অঞ্চলে কোন ধানের চাষ বেশি হত?
ii) মৌর্য আমলের ঘরবাড়ি কী কী দিয়ে তৈরি হত?
iii) গান্ধার মহাজনপদের রাজধানী কী ছিল?
iv) পাণিনির লেখা ব্যাকরণের নাম কী?
v) ‘মৃচ্ছকটিকম’ কথার অর্থ কী?
vi) মিশরকে কে ‘নীলনদের দান’ বলেছিলেন?
vii) সুমেরীয় লিপিকে ইংরেজীতে কী বলে?
viii) কোন রাজা প্রথম লিখিত আইন চালু করেন?
ix) কুষাণ আমলে জলসেচ প্রকল্পগুলি কী নামে পরিচিত ছিল?
x) বিশাখাদত্তের লেখা দুটি বিখ্যাত নাটকের নাম করো।
৭. দু-তিনটি বাক্যে উত্তর দাও : (6টি) 2 × 6 = 12
i) প্রাচীন ভারতে জলসেচ ব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল কেন?
ii) অগ্রহার ব্যবস্থা বলতে কী বোঝায়?
iii) ‘গুরুকুল ব্যবস্থা’ বলতে কী বোঝায়?
iv) ‘বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি’ কথার অর্থ কী?
v) রেশম পথ কী?
vi) সুমেরীয় সভ্যতা সম্পর্কে কী জানা যায়?
vii) মিনান্দার কে ছিলেন?
viii) বৈদিক যুগে কারিগরি শিক্ষা কী রকম ছিল?
৮. চার-পাঁচটি বাক্যে উত্তর দাও : টীকা লেখ : (পাঁচটি) 3 × 5 = 15
i) সুদর্শন হ্রদ
উত্তর : - সুদর্শন হ্রদ ছিল প্রাচীন ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ কৃত্রিম জলাধার। এটি বর্তমান গুজরাটের গিরনার অঞ্চলে অবস্থিত ছিল। মৌর্য সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের আমলে তাঁর প্রাদেশিক শাসক পুষ্যগুপ্ত এই জলাধার নির্মাণ করেছিলেন বলে জানা যায়। পরে সম্রাট অশোকের সময়ে এর জলসেচ ব্যবস্থার উন্নতি করা হয়। সুদর্শন হ্রদের জল কৃষিকাজে ব্যবহার করা হত এবং এর ফলে কৃষির উন্নতি হয়েছিল।
পরবর্তীকালে শক শাসক রুদ্রদামন-এর আমলে প্রবল বন্যায় হ্রদের বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রুদ্রদামন বাঁধটি সংস্কার ও মেরামত করান। এই ঘটনার বিবরণ গিরনারের শিলালিপিতে পাওয়া যায়। গুপ্তযুগেও সুদর্শন হ্রদের সংস্কার করা হয়েছিল। এই হ্রদ থেকে বোঝা যায় যে প্রাচীন ভারতে শাসকেরা কৃষির উন্নতির জন্য জলসেচ ও জলসংরক্ষণের ব্যবস্থা করতেন। তাই সুদর্শন হ্রদ প্রাচীন ভারতের জলসেচ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।
ii) ‘ইন-তু’ কী?
উত্তর : - ‘ইন-তু’ ছিল প্রাচীন ভারতের জন্য চীনা পর্যটকদের ব্যবহৃত একটি নাম। প্রাচীনকালে ভারত সম্পর্কে জানার জন্য বহু চীনা বৌদ্ধ ভিক্ষু ও পর্যটক ভারত ভ্রমণ করেছিলেন। তাঁদের ভ্রমণবৃত্তান্তে ভারতীয় সমাজ, ধর্ম, শিক্ষা, রাজনীতি ও সংস্কৃতির নানা তথ্য পাওয়া যায়। চীনা পর্যটক হিউয়েন সাঙ তাঁর ভ্রমণবৃত্তান্তে ভারতকে ‘ইন-তু’ নামে উল্লেখ করেছিলেন।
‘ইন-তু’ শব্দটির অর্থ হিসেবে ভারতকে বোঝানো হয়েছে। হিউয়েন সাঙ সপ্তম শতকে ভারতে আসেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন অঞ্চল ভ্রমণ করেন। তিনি নালন্দা মহাবিহারে পড়াশোনা করেন এবং ভারতীয় শিক্ষা ও বৌদ্ধধর্ম সম্পর্কে বিস্তারিত জ্ঞান লাভ করেন। তিনি ভারতের বিভিন্ন রাজ্য, নগর, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, মানুষের জীবনযাত্রা এবং শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন। তাঁর বিবরণ থেকে তৎকালীন ভারতের ইতিহাস সম্পর্কে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানা যায়। তাই ‘ইন-তু’ নামটি প্রাচীন ভারত সম্পর্কে চীনা পর্যটকদের ধারণা ও বিবরণের সঙ্গে বিশেষভাবে যুক্ত।
iii) জীবক কেন বিখ্যাত?
উত্তর : - জীবক ছিলেন প্রাচীন ভারতের একজন বিখ্যাত চিকিৎসক। তিনি বুদ্ধের সময়ে জীবিত ছিলেন এবং তাঁর চিকিৎসাবিদ্যার জন্য বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। জীবক তক্ষশিলায় গিয়ে বিখ্যাত চিকিৎসক আত্রেয়ের কাছে চিকিৎসাশাস্ত্র শিক্ষা লাভ করেন। সেখানে তিনি দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাবিদ্যার বিভিন্ন বিষয় অধ্যয়ন করেন এবং চিকিৎসাবিদ্যায় দক্ষ হয়ে ওঠেন।
শিক্ষা শেষ করার পর জীবক মগধের রাজা বিম্বিসারের রাজচিকিৎসক হিসেবে নিযুক্ত হন। তিনি রাজপরিবারের সদস্যদের চিকিৎসা করতেন। বৌদ্ধধর্মের প্রতিষ্ঠাতা গৌতম বুদ্ধের সঙ্গেও তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। জীবক বুদ্ধ এবং তাঁর শিষ্যদের চিকিৎসা করতেন বলে বৌদ্ধ গ্রন্থে উল্লেখ পাওয়া যায়। তিনি চিকিৎসার পাশাপাশি দরিদ্র ও সাধারণ মানুষেরও সেবা করতেন।
জীবকের চিকিৎসাজ্ঞান ও দক্ষতার নানা কাহিনি প্রাচীন বৌদ্ধ গ্রন্থে পাওয়া যায়। তাঁর জীবনের মাধ্যমে প্রাচীন ভারতে চিকিৎসাবিদ্যার উন্নতি এবং তক্ষশিলার মতো শিক্ষাকেন্দ্রে চিকিৎসাশিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে জানা যায়। তাই জীবক প্রাচীন ভারতের একজন উল্লেখযোগ্য চিকিৎসক হিসেবে স্মরণীয়।
iv) গান্ধার শিল্প
উত্তর : - গান্ধার শিল্প ছিল প্রাচীন ভারতের একটি বিখ্যাত ভাস্কর্যশিল্পের ধারা। কুষাণ যুগে, বিশেষ করে সম্রাট কণিষ্কের সময়ে এই শিল্পের বিশেষ বিকাশ ঘটে। বর্তমান পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের কিছু অঞ্চলকে কেন্দ্র করে গান্ধার শিল্পের বিকাশ হয়েছিল। এই শিল্পে ভারতীয় বৌদ্ধ বিষয়বস্তুর সঙ্গে গ্রিক ও রোমান শিল্পরীতির প্রভাব দেখা যায়।
গান্ধার শিল্পের প্রধান বিষয় ছিল বুদ্ধ ও বোধিসত্ত্বের মূর্তি নির্মাণ। এই শিল্পের মূর্তিগুলিতে মানুষের দেহের গঠন, পোশাক, চুল ও মুখের ভাব খুব বাস্তবভাবে ফুটিয়ে তোলা হত। বুদ্ধের মূর্তিতে ঢেউ খেলানো চুল, ভারী পোশাক এবং শান্ত মুখের অভিব্যক্তি দেখা যায়। ধূসর বা নীলচে পাথর ব্যবহার করে অনেক মূর্তি তৈরি করা হত।
গান্ধার শিল্পে বিদেশি ও ভারতীয় শিল্পরীতির সুন্দর সমন্বয় ঘটেছিল। তাই এটিকে অনেক সময় গ্রিক-বৌদ্ধ শিল্প বলা হয়। বৌদ্ধধর্মের প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে এই শিল্পরীতিও বিভিন্ন অঞ্চলে প্রভাব বিস্তার করেছিল। প্রাচীন ভারতীয় শিল্পের ইতিহাসে গান্ধার শিল্পের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
v) স্তূপ, চৈত্য ও বিহার বলতে কী বোঝায়?
উত্তর : - বৌদ্ধধর্মের বিকাশের সঙ্গে স্তূপ, চৈত্য ও বিহারের নির্মাণ শুরু হয়। স্তূপ হল সাধারণত অর্ধগোলাকার গম্বুজের মতো একটি ধর্মীয় স্থাপনা, যেখানে বুদ্ধের স্মৃতি বা তাঁর সঙ্গে সম্পর্কিত পবিত্র বস্তু সংরক্ষণ করা হত। স্তূপের চারদিকে প্রদক্ষিণ করার ব্যবস্থা থাকত।
চৈত্য হল বৌদ্ধদের প্রার্থনা বা উপাসনার স্থান। চৈত্যগৃহের ভিতরে সাধারণত একটি স্তূপ থাকত। এখানে বৌদ্ধ ভিক্ষু ও সাধারণ মানুষ ধর্মীয় প্রার্থনা ও উপাসনা করতেন। চৈত্যগৃহগুলির স্থাপত্যে বিশেষ ধরনের স্তম্ভ, ছাদ ও প্রবেশপথ দেখা যায়।
বিহার ছিল বৌদ্ধ ভিক্ষুদের থাকার ও অধ্যয়নের স্থান। বিহারে ভিক্ষুদের থাকার জন্য ছোট ছোট কক্ষ এবং মাঝখানে একটি খোলা প্রাঙ্গণ থাকত। নালন্দার মতো বড়ো মহাবিহার শিক্ষা ও ধর্মচর্চার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল।
এই তিন ধরনের স্থাপনা বৌদ্ধধর্মের ধর্মীয় জীবন, শিক্ষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত ছিল। এগুলি প্রাচীন ভারতের স্থাপত্য ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।
vi) তাম্রলিপ্ত বন্দর কেন বিখ্যাত ছিল?
উত্তর : - তাম্রলিপ্ত ছিল প্রাচীন ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দর। এটি বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তমলুক অঞ্চলে অবস্থিত ছিল বলে মনে করা হয়। প্রাচীনকালে এই বন্দরের মাধ্যমে ভারতের সঙ্গে বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলের সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক যোগাযোগ গড়ে উঠেছিল। তাম্রলিপ্তের ভৌগোলিক অবস্থান সমুদ্রবাণিজ্যের জন্য বিশেষ সুবিধাজনক ছিল।
এই বন্দর দিয়ে বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি ও রপ্তানি করা হত। ব্যবসায়ী ও নাবিকরা তাম্রলিপ্ত বন্দর ব্যবহার করে ভারতের পূর্ব উপকূল এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। বৌদ্ধ ভিক্ষুরাও এই বন্দর ব্যবহার করে বিদেশে যাতায়াত করতেন। চীনা পর্যটক ও বৌদ্ধ ভিক্ষুদের বিবরণে তাম্রলিপ্ত বন্দরের উল্লেখ পাওয়া যায়।
তাম্রলিপ্ত শুধু বাণিজ্যের জন্য নয়, ধর্ম ও সংস্কৃতির আদান-প্রদানের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এই বন্দরের মাধ্যমে ভারতীয় বৌদ্ধধর্ম ও সংস্কৃতি বিদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে সাহায্য করেছিল। তাই প্রাচীন ভারতের সমুদ্রবাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের ইতিহাসে তাম্রলিপ্ত বন্দরের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
৯. আট-দশটি বাক্যে উত্তর দাও : (যে কোনো একটি) 5 × 1 = 5
i) নালন্দা মহাবিহার সম্পর্কে লেখো।
Ans : - নালন্দা মহাবিহার ছিল প্রাচীন ভারতের অন্যতম বিখ্যাত বৌদ্ধ শিক্ষাকেন্দ্র। বর্তমান বিহার রাজ্যের নালন্দায় এই মহাবিহার গড়ে উঠেছিল। গুপ্ত সম্রাট কুমারগুপ্ত প্রথমের আমলে পঞ্চম শতকে নালন্দা মহাবিহারের প্রতিষ্ঠা ও বিকাশ শুরু হয়। পরবর্তীকালে বিভিন্ন রাজা ও শাসকের পৃষ্ঠপোষকতায় এটি একটি বিশাল শিক্ষাকেন্দ্রে পরিণত হয়।
দেশ-বিদেশের বহু ছাত্র নালন্দায় পড়াশোনা করতে আসত। এখানে বৌদ্ধ দর্শনের পাশাপাশি ব্যাকরণ, যুক্তিবিদ্যা, চিকিৎসাবিদ্যা, জ্যোতির্বিদ্যা, সাহিত্য ও অন্যান্য বিষয় পড়ানো হত। নালন্দায় শিক্ষার্থীদের থাকার জন্য বিহার, প্রার্থনার জন্য চৈত্য এবং শিক্ষার জন্য বিভিন্ন কক্ষ ছিল। এখানে একটি বিশাল গ্রন্থাগারও ছিল বলে জানা যায়।
চীন থেকে আগত পর্যটক ফা-হিয়েন ও হিউয়েন সাঙ ভারত ভ্রমণের সময় বৌদ্ধ শিক্ষাকেন্দ্রগুলির কথা উল্লেখ করেছেন। বিশেষ করে হিউয়েন সাঙ নালন্দায় কিছুদিন অধ্যয়ন ও শিক্ষাদানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। নালন্দা মহাবিহারে দেশ-বিদেশের পণ্ডিতদের সমাগম ঘটত।
নালন্দা শুধু বৌদ্ধধর্মের শিক্ষা নয়, প্রাচীন ভারতের জ্ঞান-বিজ্ঞান ও সংস্কৃতির প্রসারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। তাই নালন্দা মহাবিহার প্রাচীন ভারতের গৌরবময় শিক্ষা-ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।
ii) কুমারজীব কে ছিলেন? তাঁর সম্পর্কে কী জানা যায়?
Ans : - কুমারজীব ছিলেন প্রাচীন ভারতের একজন বিখ্যাত বৌদ্ধ পণ্ডিত, দার্শনিক ও অনুবাদক। তিনি খ্রিস্টীয় চতুর্থ-পঞ্চম শতকে মধ্য এশিয়ার কুচা অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন কুমারায়ণ এবং মাতা জীবা। ছোটবেলা থেকেই তিনি বৌদ্ধধর্ম ও বিভিন্ন শাস্ত্রের শিক্ষা লাভ করেন। তিনি ভারতেও আসেন এবং এখানকার বিভিন্ন বৌদ্ধ শিক্ষাকেন্দ্রে অধ্যয়ন করেন।
কুমারজীব সংস্কৃত ভাষায় রচিত বহু বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থ চীনা ভাষায় অনুবাদ করেন। তাঁর অনুবাদের ফলে চীনে বৌদ্ধধর্মের বিভিন্ন মতবাদ ও ধর্মীয় গ্রন্থ সহজে ছড়িয়ে পড়ে। তিনি চীনের রাজধানী চাং-আনে গিয়ে অনুবাদের কাজে নিযুক্ত হন। সেখানে তাঁর নেতৃত্বে বহু বৌদ্ধ গ্রন্থ চীনা ভাষায় অনূদিত হয়।
কুমারজীবের অনুবাদগুলি ভাষার দিক থেকে সহজ, স্পষ্ট ও সাবলীল ছিল। তাঁর অনুবাদ করা উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলির মধ্যে ‘মধ্যমকশাস্ত্র’ ও ‘সদ্ধর্মপুণ্ডরীক সূত্র’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। চীন ও মধ্য এশিয়ায় বৌদ্ধধর্মের প্রসারে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। তাই তাঁকে প্রাচীন যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বৌদ্ধ অনুবাদক হিসেবে মনে করা হয়।
iii) গুপ্তযুগের মুদ্রা সম্পর্কে কী জানা যায়?
Ans : - গুপ্তযুগের ইতিহাস জানার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হল সেই সময়ের মুদ্রা। গুপ্ত রাজারা প্রচুর পরিমাণে সোনার মুদ্রা প্রচলন করেছিলেন। এই সোনার মুদ্রাগুলিকে সাধারণত ‘দিনার’ বলা হয়। এছাড়াও রুপো ও তামার মুদ্রার প্রচলন ছিল। গুপ্তযুগের মুদ্রাগুলিতে রাজাদের বিভিন্ন কৃতিত্ব, ধর্মীয় বিশ্বাস এবং রাজকীয় জীবনের নানা দিকের পরিচয় পাওয়া যায়।
গুপ্ত সম্রাটদের মধ্যে সমুদ্রগুপ্তের মুদ্রা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তাঁর মুদ্রায় তাঁকে বীণা বাজাতে দেখা যায়। আবার কিছু মুদ্রায় তাঁকে ধনুক-বাণ হাতে বা যুদ্ধের সাজে দেখা যায়। চন্দ্রগুপ্ত দ্বিতীয়ের মুদ্রায় তাঁকে সিংহ শিকার করতে দেখা যায়। তাঁর সময়ে রুপোর মুদ্রাও প্রচলিত হয়। মুদ্রার অপর পিঠে বিভিন্ন দেবদেবীর ছবি এবং ধর্মীয় প্রতীক দেখা যায়।
গুপ্তযুগের মুদ্রায় সংস্কৃত ভাষায় লেখা এবং বিভিন্ন প্রতীক ব্যবহৃত হয়েছে। মুদ্রার ছবি ও লেখার মাধ্যমে গুপ্ত সম্রাটদের উপাধি, ধর্মীয় ভাবনা, শিল্পরুচি এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। তাই গুপ্তযুগের মুদ্রা এই যুগের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক উৎস।
CLASS 6 - 3RD UNIT TEST 2026
📚 সব বিষয়ের 4 টি করে প্রশ্নপত্রের SET
🔥 খুবই সুলভ মূল্যে!
📲 ONLY WHATSAPP - 8337875981
আজই সংগ্রহ করুন!

.jpg)
Enter Your Comment