Class 7 History First Unit Test Question Paper with Answers 2026 । সপ্তম শ্রেণীর ইতিহাস প্রথম ইউনিট টেস্ট

0

WB Class 7 History 1st Unit Test Question Paper 2026 – Suggestion & Answer

Class 7 History First Unit Test Question Paper with Answers 2026 । সপ্তম শ্রেণীর ইতিহাস প্রথম ইউনিট টেস্ট


Info Educations ওয়েবসাইটে তোমাদের সবাইকে স্বাগত। তোমরা কি WB Class 7 History 1st Unit Test Question Paper PDF Download খুঁজছো? তাহলে তোমরা একদম সঠিক জায়গায় এসেছো। এখানে তোমরা পাবে WBBSE Class 7 History First Unit Test Model Question Paper with Answers 2026 এবং সম্পূর্ণ সাজেশন। পশ্চিমবঙ্গ মধ্য শিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) পরিচালিত Class 7 1st Unit Test History Question Paper 2026 খুব শীঘ্রই বিভিন্ন বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। পরীক্ষার আগে সঠিক প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজন নির্ভরযোগ্য Class 7 History 1st Unit Test Question 2026 এবং তার সঠিক উত্তর।


সপ্তম শ্রেণী ইতিহাস প্রথম ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র ও উত্তর

প্রিয় ছাত্রছাত্রী, আশা করি তোমরা সবাই ভালো আছো। আজ তোমাদের জন্য Info Educations নিয়ে এসেছে সপ্তম শ্রেণী প্রথম ইউনিট টেস্ট ইতিহাস নমুনা প্রশ্নপত্র ও গুরুত্বপূর্ণ সাজেশন। এখানে তোমরা পাবে সপ্তম শ্রেণী ইতিহাস প্রথম পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন প্রশ্নপত্র ও উত্তর, যা তোমাদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য খুবই সহায়ক হবে। এই Class Seven Itihas 1st Unit Test Suggestion 2026 এবং Class VII History Question Answer First Unit Test 2026 ভালোভাবে অনুশীলন করলে পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যাবে।

তোমাদের সুবিধার জন্য এখানে দেওয়া হয়েছে সপ্তম শ্রেণী ইতিহাস প্রশ্ন উত্তর প্রথম ইউনিট টেস্ট ২০২৬, যাতে তোমরা সহজেই প্রশ্নের ধরণ বুঝতে পারো। পাশাপাশি তোমরা এখান থেকে Class 7 First Unit Test History Question Paper 2026 PDF আকারেও ডাউনলোড করতে পারবে। অভিজ্ঞ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের দ্বারা তৈরি এই Class 7 History 1st Unit Test Question 2026 ও সাজেশন নিয়মিত প্র্যাকটিস করলে পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করা অনেক সহজ হবে।


West Bengal Board Class 7 History 1st Unit Test Syllabus 2026

WBBSE Class VII History 1st Unit Test Syllabus 2026 / সপ্তম শ্রেণীর ইতিহাস প্রথম পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন ২০২৬ এর সিলেবাস এ থাকছে তোমাদের প্রথম অধ্যায় : ইতিহাসের ধারণা। (প্রথম অধ্যায় থেকে পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়নে কোনো প্রশ্ন রাখা যাবে না ) দ্বিতীয় অধ্যায় : ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসের কয়েকটি ধারা = খ্রিস্টীয় সপ্তম থেকে দ্বাদশ শতক। তৃতীয় অধ্যায় : ভারতের সমাজ, অর্থনীতি ও সংস্কৃতির কয়েকটি ধারা খ্রিস্টীয় সপ্তম থেকে দ্বাদশ শতক । Class 7 ইতিহাস প্রথম পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন ২০২৬ পূর্ণমান - 30 লিখিত।  যার জন্য সময় 60 মিনিট বরাদ্দ করে হয়েছে।



Class VII First Summative Unit Test Question Paper with Answers 2026 


১) সঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখ : 1 × 6 = 6


ক) ‘বঙ্গ’ নামটির প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় — (রামায়ণে / ঐতরেয় আরণাকে / পুরাণে)

উত্তর : - ঐতরেয় আরণাকে

খ) উত্তর ও দক্ষিণ রাঢ়ের মাঝের সীমানা ছিল — (অজয় নদ / দামোদর নদ / দ্বারকেশ্বর নদ)

উত্তর : - অজয় নদ

গ) প্রথম খলিফা ছিলেন — (হজরত ওমর / হজরত ওসমান / হজরত আবুবকর)

উত্তর : - হজরত আবুবকর

ঘ) রাজা মুট্টাবাইয়াকে সরিয়ে চোল রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন — (প্রথম রাজেন্দ্র চোল / বিজয়ালয় / কুলোতুঙ্গ)

উত্তর : - বিজয়ালয়

ঙ) ‘রামচরিত’ কাব্যের রচয়িতা হলেন — (সন্ধ্যাকর নন্দী / রামপাল / বল্লালসেন)

উত্তর : - সন্ধ্যাকর নন্দী

চ) ‘নাস্তিক পণ্ডিতের ভিটা’ নামে পরিচিত — (জয়দেব / শীলভদ্র / অতীশ দীপঙ্কর)

উত্তর : - অতীশ দীপঙ্কর


২) নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও : 1 × 4 = 4


ক) শশাঙ্কের রাজধানী কোথায় ছিল?

উত্তর : - কর্ণসুবর্ণ।

খ) তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধ কত খ্রিষ্টাব্দে হয়েছিল?

উত্তর : - উত্তর : - ১১৯২ খ্রিষ্টাব্দে।

গ) বিক্রমশীল মহাবিহার কে প্রতিষ্ঠা করেন?

উত্তর : - ধর্মপাল।

ঘ) বোরোবোদুরের বৌদ্ধমন্দির কোথায় অবস্থিত?

উত্তর : - ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপে।


৩) নীচের প্রশ্নগুলির দু-তিনটি বাক্যে উত্তর দাও : (যে কোন দুটি) 2 × 2 = 4


ক) বর্ণ হরিকেল বলতে কোন অঞ্চলকে বোঝায়?

উত্তর : প্রাচীন বাংলার দক্ষিণ-পূর্ব অংশকে হরিকেল বলা হত। ঐতিহাসিকদের মতে বর্তমান বাংলাদেশের চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চল নিয়ে হরিকেল গঠিত ছিল। এই অঞ্চলটি প্রাচীনকালে বাণিজ্য ও সংস্কৃতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল।


খ) ত্রিশক্তি সংগ্রাম বলতে কী বোঝ?

উত্তর : উত্তর ভারতের কানৌজ শহরের অধিকার লাভের জন্য পাল, প্রতিহার এবং রাষ্ট্রকূট—এই তিনটি শক্তিশালী রাজবংশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে যে যুদ্ধ ও সংঘর্ষ চলেছিল তাকে ত্রিশক্তি সংগ্রাম বলা হয়। এই সংঘর্ষ মূলত অষ্টম থেকে দশম শতাব্দীর মধ্যে সংঘটিত হয়েছিল।


গ) ব্রহ্মদেয় ব্যবস্থা বলতে কী বোঝ?

উত্তর : প্রাচীন ও মধ্যযুগে রাজারা ব্রাহ্মণদের জীবিকা নির্বাহের জন্য করমুক্ত জমি দান করতেন। এই ধরনের দানকৃত জমিকে ব্রহ্মদেয় বলা হত। ব্রাহ্মণরা এই জমি ভোগ করতেন এবং অনেক সময় গ্রাম পরিচালনারও অধিকার পেতেন।


ঘ) বল্লালসেনের লেখা দুটি বইয়ের নাম লেখ।

উত্তর : সেনবংশের রাজা বল্লালসেন ছিলেন একজন পণ্ডিত ও সাহিত্যপ্রেমী শাসক। তিনি দুটি বিখ্যাত গ্রন্থ রচনা করেন— দানসাগর এবং অদ্ভুতসাগর। এই গ্রন্থগুলিতে ধর্মীয় আচরণ, দান-পুণ্য এবং সমাজব্যবস্থার বিভিন্ন দিকের উল্লেখ পাওয়া যায়।


৪) নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও : (যে কোন দুটি) 3 × 2 = 6


ক) কৈবর্ত বিদ্রোহের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।

উত্তর : - পালশাসনে একাদশ শতকের দ্বিতীয়ভাগে বাংলায় কৈবর্ত বিদ্রোহ ঘটেছিল। কৈবর্তরা ছিল সম্ভবত নৌকার মাঝি বা জেলে। সে সময়ে বাংলার উত্তর ভাগে কৈবর্তদের যথেষ্ট প্রভাব ছিল। সন্ধ্যাকর নন্দীর রামচরিত কাব্যে কৈবর্ত বিদ্রোহের বিবরণ আছে। এই বিদ্রোহের তিনজন নেতা ছিলেন: দিব্য (দিব্বোক), রুদোক এবং ভীম। দ্বিতীয় মহীপালের শাসনকালে (আনুমানিক ১০৭০-'৭১ খ্রিঃ) দিব্য ছিলেন পালরাষ্ট্রেরই কর্মচারী। পালদের দুর্বলতার সুযোগে তিনি বিদ্রোহ করেন। মহীপাল বিদ্রোহ দমন করতে গিয়ে নিহত হন। দিব্য বরেন্দ্র দখল করে সেখানকার রাজা হয়ে বসেন। এই বিদ্রোহ কত বড়ো আকার ধারণ করেছিল, বা দিব্যর সঙ্গে কতজন সামন্ত যোগ দিয়েছিল সে সম্বন্ধে বিশদ জানা যায় না। মহীপালের ছোটো ভাই রামপাল দিব্যকে দমন করে বরেন্দ্র উদ্ধার করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু সফল হননি। কৈবর্ত রাজা ভীমও জনপ্রিয় শাসক ছিলেন। এ সময়ে পাল রাজাদের শাসন উত্তর বিহার ও উত্তর-পশ্চিম বাংলায় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছিল। রামপাল বাংলা এবং বিহারের বিভিন্ন সামন্ত-নায়কদের সাহায্য নিয়ে ভীমকে পরাজিত এবং হত্যা করেন। তারপর তিনি বরেন্দ্র-সহ বাংলার কামরূপ এবং ওড়িশার একাংশে পাল শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। বরেন্দ্র অঞ্চলে রামাবতী নগরে রামপালের রাজধানী স্থাপিত হয়। এই বিদ্রোহ পাল শাসনের শেষ দিকে কেন্দ্রীয় শক্তির দুর্বলতা স্পষ্ট করে দিয়েছিল। কৈবর্ত বিদ্রোহের কথা জানা যায় রামচরিত কাব্য থেকে। 


খ) খলিফা ও খিলাফৎ বলতে কী বোঝায়?

উত্তর : - খলিফা শব্দটি আরবি ভাষা থেকে এসেছে। এর অর্থ প্রতিনিধি বা উত্তরাধিকারী। মহানবী হজরত মহম্মদের মৃত্যুর পর ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতৃত্ব যিনি গ্রহণ করেন তাকে খলিফা বলা হয়। প্রথম খলিফা ছিলেন হজরত আবু বকর।

খিলাফৎ বলতে খলিফার শাসিত অঞ্চল বা সাম্রাজ্যকে বোঝায়। অর্থাৎ যে অঞ্চলে খলিফা শাসন করতেন এবং ইসলাম ধর্মের প্রভাব বিস্তার করেছিল সেই অঞ্চলকে খিলাফৎ বলা হয়।


গ) চর্যাপদ বলতে কী বোঝায়? কে চর্যাপদের পুঁথি উদ্ধার করেন?

উত্তর : - চর্যাপদ হলো খ্রিস্টীয় অষ্টম থেকে দ্বাদশ শতকের মধ্যে রচিত বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যদের আধ্যাত্মিক সাধনা ও ধর্মীয় ভাবনা প্রকাশের কবিতা ও গানের সংকলন। এই পদগুলি সহজ ও প্রতীকী ভাষায় রচিত এবং এতে তৎকালীন সমাজজীবন, ধর্মীয় চিন্তা ও সাধনার কথা জানা যায়। চর্যাপদের ভাষাকে আদি বা প্রাচীন বাংলা ভাষার নিদর্শন হিসেবে ধরা হয় এবং এটি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শনগুলির একটি।

চর্যাপদের পুঁথি উদ্ধার করেন বিখ্যাত পণ্ডিত আচার্য হরপ্রসাদ শাস্ত্রী। তিনি নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে ১৯০৭ সালে এই পুঁথিটি আবিষ্কার করেন।


ঘ) পঞ্চরত্ন কাদের বলা হয়?

উত্তর : - সেন যুগে রাজা লক্ষ্মণসেনের রাজসভায় পাঁচজন বিশিষ্ট কবি ও পণ্ডিত ছিলেন। তাঁদের অসাধারণ প্রতিভা ও সাহিত্যকীর্তির জন্য সম্মান করে একত্রে “পঞ্চরত্ন” বলা হত।

এই পাঁচজন কবি হলেন — জয়দেব, ধোয়ী, গোবর্ধন আচার্য, উমাপতি ধর এবং শরণ। তাঁরা সংস্কৃত ভাষায় নানা কাব্য ও সাহিত্য রচনা করেছিলেন এবং রাজা লক্ষ্মণসেনের সভাকে সাহিত্য ও সংস্কৃতির কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন।

এই কারণে ইতিহাসে তাঁরা লক্ষ্মণসেনের সভার পঞ্চরত্ন নামে পরিচিত।


৫) নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও : (যে কোন দুটি) 5 × 2 = 10


ক) সুলতান মামুদ ভারত থেকে লুঠ করা ধনসম্পদ কীভাবে ব্যবহার করেছিলেন?

উত্তর : - সুলতান মাহমুদ গজনি ভারতের ইতিহাসে একজন বিখ্যাত আক্রমণকারী হিসেবে পরিচিত। তিনি বহুবার ভারতে আক্রমণ করে প্রচুর ধনসম্পদ লুঠ করেন এবং সেই ধনসম্পদ নিজের রাজ্যের উন্নতির কাজে ব্যয় করেন।

মাহমুদ তাঁর রাজধানী গজনি ও অন্যান্য শহরকে সুন্দরভাবে সাজিয়ে তোলেন। তিনি সেখানে বহু প্রাসাদ, মসজিদ, গ্রন্থাগার, বাগিচা, জলাধার ও খাল নির্মাণ করান। এছাড়াও আমু দরিয়া নদীর উপর বাঁধ তৈরি করে সেচ ব্যবস্থার উন্নতি করেন।

তিনি শিক্ষা ও সংস্কৃতির উন্নতির জন্য গজনিতে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। সেখানে শিক্ষকদের বেতন দেওয়া হত এবং ছাত্রদের জন্য বৃত্তির ব্যবস্থা ছিল। ফলে গজনি শহরটি শিক্ষা, সংস্কৃতি ও স্থাপত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠে।

এইভাবে সুলতান মাহমুদ ভারতের থেকে লুঠ করা ধনসম্পদ নিজের রাজ্যের উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহার করেছিলেন।


খ) মাৎস্যন্যায় কী? শশাঙ্ক বৌদ্ধ বিদ্বেষী বলা হয় কেন?

উত্তর : - মাৎস্যন্যায় শব্দের অর্থ হলো “মাছের ন্যায় অবস্থা”। অর্থাৎ যেখানে বড় মাছ ছোট মাছকে খেয়ে ফেলে, সেই অবস্থাকে মাৎস্যন্যায় বলা হয়। ইতিহাসে মাৎস্যন্যায় বলতে এমন এক সময়কে বোঝায় যখন কোনো শক্তিশালী শাসক বা কেন্দ্রীয় ক্ষমতা ছিল না এবং সমাজে অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।

শক্তিশালী শাসকের অভাবে দুর্বলরা শক্তিশালীদের অত্যাচারের শিকার হত। বাংলার ইতিহাসে শশাঙ্কের মৃত্যুর পর এমন অরাজক অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল। সেই সময় রাজ্যে আইনশৃঙ্খলার অভাব ছিল এবং শক্তিশালী ব্যক্তিরা দুর্বলদের উপর অত্যাচার করত। এই অবস্থাকেই ইতিহাসে মাৎস্যন্যায় বলা হয়।


শশাঙ্ক বৌদ্ধ বিদ্বেষী বলা হয় : - 

গৌড়ের রাজা শশাঙ্ককে অনেক ঐতিহাসিক বৌদ্ধ বিদ্বেষী বলে মনে করেন। কারণ তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে যে তিনি বৌদ্ধ ধর্মের বিরোধিতা করেছিলেন।

কথিত আছে তিনি বোধগয়ার বোধিবৃক্ষ কেটে ফেলেছিলেন এবং বৌদ্ধদের বিভিন্ন মঠ ও বিহারের ক্ষতি করেছিলেন। এছাড়াও তিনি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের উপর অত্যাচার করেছিলেন বলে ঐতিহাসিক সূত্রে উল্লেখ পাওয়া যায়।

এই কারণেই অনেক ঐতিহাসিক শশাঙ্ককে বৌদ্ধ বিদ্বেষী শাসক বলে অভিহিত করেছেন।


গ) নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।

উত্তর : - প্রাচীন ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মধ্যে নালন্দাই ছিল সর্বাধিক খ্যাতিসম্পন্ন। শুধু ভারত নয়, এশিয়া মহাদেশের মধ্যেও এটি ছিল শ্রেষ্ঠ উচ্চশিক্ষার কেন্দ্র। সঠিক অর্থে এই বিশ্ববিদ্যালয়টি ছিল একটি বৃহৎ আকৃতির বৌদ্ধ মঠ। নীচে এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেওয়া হল —

[1] অবস্থান : বিহার রাজ্যের পাটনা শহরের রাজগীরের নিকটবর্তী বড়গাঁও নামক একটি স্থানে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ছিল। 

[2] প্রতিষ্ঠাকাল: ঐতিহাসিকদের মতে আনুমানিক 300 খ্রিস্টাব্দে নাগার্জুন নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করেন। 

[3] নামকরণ : নালন্দা নামকরণ বিষয়ে মতভেদ লক্ষ করা যায়। ফা-হিয়েন নালন্দাকে ‘নাল’ নামে অভিহিত করেছেন, ইৎ সিং-এর মতে নাগানন্দ সরােবর থেকে নালন্দা নামের উৎপত্তি ঘটেছে। তবে সর্বাধিক গ্রহণযােগ্য মত হল, ন + অলম + দ অর্থাৎ ‘অবিশ্রান্ত দাতা’–এই অর্থেই নালন্দা মহাবিহারের নামকরণ করা হয়েছে। 

[4] পাঠক্রম : নালন্দা মহাবিহারের পাঠক্রমে ব্রাহ্মণ্য-বৌদ্ধ, ধর্মীয়-লৌকিক, দার্শনিক-ব্যাবহারিক, কলা-বিজ্ঞান প্রভৃতি সব ধরনের বিষয়ে পাঠদানের ব্যবস্থা ছিল। এ ছাড়া পাঠক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল চতুর্বেদ, বৌদ্ধশাস্ত্র, চিকিৎসাশাস্ত্র, জ্যোতির্বিজ্ঞান, আইন প্রভৃতি বিষয়। এগুলি ছাড়া শব্দবিদ্যা, পাণিনি, সাংখ্যতত্ত্ব, সংস্কৃত, ভাষাতত্ত্ব, জাদুবিদ্যা এবং 18টি কলাবিদ্যা পঠনপাঠনের ব্যবস্থা ছিল। 

[5] গ্রন্থাগার : নালন্দা মহাবিহারে রত্নসাগর, রত্নদধি এবং রত্নরঞ্জক নামের তিনটি বিশাল গ্রন্থাগার ছিল।

[6] অধ্যাপকমণ্ডলী : শীলভদ্র, নাগার্জুন, ধর্মপাল, চন্দ্রপাল, গুণমতী প্রমুখ খ্যাতনামা অধ্যাপকগণ নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করতেন। 

[7] ধ্বংসকাল : দ্বাদশ শতাব্দীতে (1193 খ্রিস্টাব্দে) মুসলিম সেনাপতি বখতিয়ার খলজির আক্রমণে বিশ্ববিদ্যালয়টি ধ্বংস হয়।


ঘ) পাল ও সেনযুগে বাঙালির খাওয়াদাওয়া কী রকম ছিল?

উত্তর : - পাল ও সেন যুগে বাংলার মানুষের খাদ্যাভ্যাস মূলত কৃষিনির্ভর সমাজের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল। সে সময় বাংলার প্রধান ফসল ছিল ধান, তাই ভাতই ছিল বাঙালির প্রধান খাদ্য। প্রাচীন কাব্যে গরম ভাতের সঙ্গে ঘি, মৌরলা মাছ, পাটশাক, পোড়া দুধ এবং পাকা কলা দিয়ে খাবারের বর্ণনা পাওয়া যায়।

সাধারণ মানুষের খাদ্যতালিকায় নানা ধরনের শাকসবজি ছিল। যেমন— বেগুন, লাউ, কুমড়ো, ঝিঙে, কাকরোল, ডুমুর, কচু ইত্যাদি সবজি প্রাচীনকাল থেকেই বাঙালির খাদ্যের অংশ ছিল। নদী-নালায় পরিপূর্ণ বাংলায় বিভিন্ন ধরনের মাছ যেমন রুই, পুটি, মৌরলা ও ইলিশ খাওয়ার প্রচলন ছিল।

তবে সমাজের সব মানুষ না খেলেও অনেকেই হরিণ, ছাগল, নানা ধরনের পাখি ও কচ্ছপের মাংস খেত। এছাড়া কাঁকড়া, শামুক ও শুকনো মাছও অনেকের খাদ্যতালিকায় ছিল। আখের গুড়, দুধ ও দুধ থেকে তৈরি দই, পায়েস ও ক্ষীরও ছিল বাঙালির দৈনন্দিন খাদ্যের অংশ। বাংলায় উৎপন্ন লবণও খাবারের সঙ্গে ব্যবহৃত হত।

মহুয়া ও আখ থেকে তৈরি পানীয়ও সে সময় সমাজে প্রচলিত ছিল। তবে আলু তখন বাংলায় পরিচিত ছিল না; অনেক পরে পর্তুগিজদের মাধ্যমে বাংলায় আলুর প্রচলন হয়। ডালও সে সময় বাঙালির খাদ্যের প্রধান অংশ ছিল না, সম্ভবত পরে উত্তর ভারতের মানুষের কাছ থেকে বাঙালিরা ডাল খাওয়ার অভ্যাস গ্রহণ করে।

সুতরাং বলা যায়, পাল ও সেন যুগে বাঙালির খাদ্যাভ্যাস ছিল প্রধানত ভাত, মাছ, শাকসবজি ও দুধজাত খাদ্যকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা সহজ ও কৃষিনির্ভর।






একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0মন্তব্যসমূহ

Enter Your Comment

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)