Class 10 History 3rd Unit Test Question Paper 2026
West Bengal Board Class 10 Question Papers 2026 Download
Madhyamik History Test Exam Question Paper 2026 অনুশীলন করা দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত উপকারী। বিগত বছরের প্রশ্নপত্র সমাধান করলে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, প্রশ্নের ধরন এবং উত্তর লেখার পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা তৈরি হয়।যেসব শিক্ষার্থী Download West Bengal Board Class 10 Question Paper 2026 খুঁজছেন, তারা এই পোস্টের মাধ্যমে ইতিহাস বিষয়ের প্রশ্নপত্র ও সমাধান সংগ্রহ করতে পারবেন। নিয়মিত প্রশ্নপত্র অনুশীলন এবং সঠিকভাবে উত্তর লেখার অভ্যাস পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করতে সাহায্য করবে।Class 10 History 3rd Unit Test Question Paper 2026, গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর এবং Model Question Paper 2026 ভালোভাবে অনুশীলন করার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তৃতীয় ইউনিট টেস্ট ও থার্ড সামেটিভ পরীক্ষার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে পারবে। তাই পরীক্ষার আগে প্রতিটি অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পড়ার পাশাপাশি এই প্রশ্নপত্রটি সমাধান করে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
Class 10 History 3rd Summative Exam Preparation 2026
শ্রেণি: দশম (ইতিহাস)
পূর্ণমান: ৯০
সময়: ৩ ঘণ্টা ১৫ মিনিট
বিভাগ-'ক'
১। সঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখো : ১×২০=২০
১.১ উপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারী যুক্ত ছিলেন—
(ক) শহরের ইতিহাসে
(খ) স্থানীয় ইতিহাসে
(গ) শিল্পচর্চার ইতিহাসে
(ঘ) বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ও চিকিৎসা বিদ্যার ইতিহাসে।
১.২ নব্যবঙ্গ গোষ্ঠীর মুখপত্র ছিল—
(ক) সমাচার দর্পণ
(খ) সোম প্রকাশ
(গ) বামাবোধিনী
(ঘ) এথেনিয়াম।
১.৩ বাংলা ভাষায় বাঙালি পরিচালিত প্রথম সংবাদপত্র হল—
(ক) বেঙ্গল গেজেট
(খ) সোমপ্রকাশ
(গ) বঙ্গদর্শন
(ঘ) দিগদর্শন।
১.৪ জীবনের ঝরাপাতা গ্রন্থটি হল একটি—
(ক) উপন্যাস
(খ) কাব্যগ্রন্থ
(গ) জীবনীগ্রন্থ
(ঘ) আত্মজীবনী।
১.৫ ভারতে ইস্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানির অবসান ঘটে—
(ক) ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে
(খ) ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে
(গ) ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে
(ঘ) ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে।
১.৬ সন্ন্যাসী-ফকির বিদ্রোহের অন্যতম নেত্রী ছিলেন—
(ক) দেবী চৌধুরানী
(খ) রানি কর্ণাবতী
(গ) রানি শিরোমণি
(ঘ) রানি দুর্গাবতী।
১.৭ সতীদাহ প্রথা রদ হয়—
(ক) ১৮২৮ খ্রিস্টাব্দে
(খ) ১৮২৯ খ্রিস্টাব্দে
(গ) ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দে
(ঘ) ১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দে।
১.৮ তিতুমিরের প্রকৃত নাম ছিল—
(ক) চিরাগ আলি
(খ) হায়দার আলি
(গ) মির নিসার আলি
(ঘ) তোরাঙ্গ আলি।
১.৯ সর্বভারতীয় কিষাণ সভার প্রথম সভাপতি ছিলেন—
(ক) স্বামী সহজানন্দ
(খ) এন. জি. রঙ্গ
(গ) বাবা রামচন্দ্র
(ঘ) লালা লাজপত রায়।
১.১০ প্রথম সরকারি শিক্ষা কমিশন (হান্টার কমিশন) গঠিত হয়—
(ক) ১৮৭২ খ্রিস্টাব্দে
(খ) ১৮৮২ খ্রিস্টাব্দে
(গ) ১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দে
(ঘ) ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে।
১.১১ ‘নারী সত্যাগ্রহ সমিতি’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল—
(ক) বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের সময়ে
(খ) অসহযোগ আন্দোলনের সময়ে
(গ) আইন অমান্য আন্দোলনের সময়ে
(ঘ) ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সময়ে।
১.১২ স্বাধীনতার প্রাক্কালে ভারতের সবচেয়ে বড়ো দেশীয় রাজ্য ছিল—
(ক) কাশ্মীর
(খ) জুনাগড়
(গ) জয়পুর
(ঘ) হায়দ্রাবাদ।
১.১৩ ভাষাভিত্তিক পৃথক অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্যটি গঠিত হয়েছিল—
(ক) ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে
(খ) ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দে
(গ) ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দে
(ঘ) ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দে।
১.১৪ কৃষক প্রজা পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন—
(ক) বীরেন্দ্রনাথ শাসমল
(খ) প্রফুল্ল চন্দ্র সেন
(গ) ফজলুল হক
(ঘ) বাবা রামচন্দ্র।
১.১৫ ‘জঙ্গল মহল’ নামে একটি পৃথক জেলা গঠন করা হয়েছিল—
(ক) চুয়াড় বিদ্রোহের পরে
(খ) সাঁওতাল বিদ্রোহের পরে
(গ) কোল বিদ্রোহের পরে
(ঘ) মুণ্ডা বিদ্রোহের পরে।
১.১৬ কৃষক আন্দোলনের নেতা মতিলাল তেজওয়াত নেতৃত্ব দিয়েছিলেন—
(ক) বিহারে
(খ) গুজরাটে
(গ) রাজস্থানে
(ঘ) যুক্ত প্রদেশে।
১.১৭ বাংলার গভর্নর স্ট্যানলি জ্যাকসনকে হত্যা করার চেষ্টা করেন—
(ক) বীনা দাস
(খ) কল্পনা দত্ত
(গ) প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার
(ঘ) সুনীতি চৌধুরী।
১.১৮ দলিতদের ‘হরিজন’ আখ্যা দিয়েছিলেন—
(ক) জ্যোতিবা ফুলে
(খ) গান্ধিজি
(গ) নারায়ণ গুরু
(ঘ) ডঃ আম্বেদকর।
১.১৯ ‘ট্রেন টু পাকিস্তান’ লিখেছিলেন—
(ক) খুশবন্ত সিং
(খ) ভি. পি. মেনন
(গ) জওহরলাল নেহেরু
(ঘ) সলমন রুশদি।
১.২০ ভারতের ‘লৌহমানব’ বলা হয়—
(ক) মহাত্মা গান্ধিকে
(খ) সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলকে
(গ) মহম্মদ আলি জিন্নাহকে
(ঘ) রাজেন্দ্র প্রসাদকে।
বিভাগ-'খ'
২। নিচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও : (প্রতিটি উপবিভাগ থেকে অন্ততঃ ১টি করে, মোট ১৬টি প্রশ্নের উত্তর দাও।)
উপবিভাগ : ২.১
একটি বাক্যে উত্তর দাও : ১×১৬=১৬
২.১.১ বিপিনচন্দ্র পালের আত্মজীবনী গ্রন্থের নাম কী?
২.১.২ ‘উলুগুলান’ বলতে কী বোঝায়?
২.১.৩ কোন বছর সোমপ্রকাশ-এর প্রকাশনা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়?
২.১.৪ সরকারি নথিপত্র কোথায় সংরক্ষিত হয়?
উপবিভাগ : ২.২
ঠিক বা ভুল নির্ণয় করো : ১×৮=৮
২.২.১ দি বেঙ্গলি পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়।
২.২.২ ডঃ অনিল শীল আঠারো শতককে সভাসমিতির যুগ বলে অভিহিত করেছেন।
২.২.৩ ফরওয়ার্ড ব্লক প্রতিষ্ঠা করেন সুভাষচন্দ্র বসু।
২.২.৪ ফরাজি একটি প্রাচীন উপজাতির নাম।
উপবিভাগ : ২.৩
'ক' স্তম্ভের সঙ্গে 'খ' স্তম্ভ মেলাও : ১×৮=৮
'ক' স্তম্ভ 'খ' স্তম্ভ
২.৩.১ জওহরলাল নেহেরু (১) অসহযোগ আন্দোলন
২.৩.২ বীরেন্দ্রনাথ শাসমল (২) পুণাচুক্তি (১৯৩২)
২.৩.৩ কালীপ্রসন্ন সিংহ (৩) লেটারস ফ্রম এ ফাদার টু হিজ ডটার
২.৩.৪ ডঃ আম্বেদকর (৪) হুতোম প্যাঁচার নকশা
উপবিভাগ : ২.৪
প্রদত্ত ভারতবর্ষের রেখা মানচিত্রে নিম্নলিখিত স্থানগুলি চিহ্নিত করো ও নামাঙ্কিত করো : ১×৪=৪
২.৪.১ চুয়াড় বিদ্রোহের এলাকা।
২.৪.২ দেশীয় রাজ্য জুনাগড়।
২.৪.৩ বাংলায় ওয়াহাবি আন্দোলনের কেন্দ্র—বারাসাত।
২.৪.৪ মহাবিদ্রোহের (১৮৫৭) অন্যতম কেন্দ্র—দিল্লি।
উপবিভাগ : ২.৫
নিম্নলিখিত বিবৃতিগুলির সঙ্গে সঠিক ব্যাখ্যাটি নির্বাচন করো : ১×৪=৪
২.৫.১ বিবৃতি : ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দের ১২ ফেব্রুয়ারি দিনটি রশিদ আলি দিবস রূপে পালিত হয়।
ব্যাখ্যা-১ : রশিদ আলি ছিলেন 'ভারত ছাড়ো' আন্দোলনের জনৈক শহিদ।
ব্যাখ্যা-২ : রশিদ আলি ছিলেন জনপ্রিয় ছাত্র নেতা।
ব্যাখ্যা-৩ : রশিদ আলি ছিলেন আজাদ হিন্দ বাহিনীর একজন ক্যাপটেন।
২.৫.২ বিবৃতি : ঔপনিবেশিক সরকার উপজাতিদের জন্য ‘দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্ত এজেন্সি’ নামে পৃথক একটি অঞ্চল গঠন করেছিলেন।
ব্যাখ্যা-১ : এটি গঠিত হয়েছিল চুয়াড় বিদ্রোহের পর।
ব্যাখ্যা-২ : এটি গঠিত হয়েছিল কোল বিদ্রোহের পর।
ব্যাখ্যা-৩ : এটি গঠিত হয়েছিল মুণ্ডা বিদ্রোহের পর।
২.৫.৩ বিবৃতি : সাম্প্রদায়িক বাঁটোয়ারার (১৯৩২) মাধ্যমে অনুন্নত শ্রেণিদের পৃথক নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হলে গান্ধিজি তার প্রতিবাদে অনশন শুরু করেন।
ব্যাখ্যা-১ : গান্ধিজি ছিলেন অনুন্নত শ্রেণিদের নির্বাচনী অধিকারের বিরোধী।
ব্যাখ্যা-২ : হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভেদ তৈরির প্রতিবাদে গান্ধিজি অনশন করেন।
ব্যাখ্যা-৩ : জাতীয় কংগ্রেসের নির্দেশে গান্ধিজি প্রতিবাদী অনশন করেছিলেন।
২.৫.৪ বিবৃতি : হ্যালহেড তাঁর বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থ লেখেন এদেশীয় ইংরেজ কর্মচারীদের বাংলা ভাষা শেখবার জন্য।
ব্যাখ্যা-১ : কারণ এদেশে ইংরেজ কর্মচারীরা বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অনুরাগী ছিলেন।
ব্যাখ্যা-২ : কারণ বাংলা ভাষা না জানলে ইংরেজ কর্মচারীদের পদোন্নতি হত না।
ব্যাখ্যা-৩ : কারণ, এদেশে বাণিজ্য ও প্রশাসন চালাবার জন্য ইংরেজ কর্মচারীদের বাংলা ভাষা আয়ত্ত করা প্রয়োজন ছিল।
বিভাগ-'গ'
৩। দুটি বা তিনটি বাক্যে নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলির উত্তর দাও : (যে-কোনো ১২টি) ২×১১=২২
৩.১ স্কুল বুক সোসাইটি কেন প্রতিষ্ঠিত হয়?
৩.২ ফরাজি আন্দোলন ব্যর্থ হল কেন?
৩.৩ ডঃ মহেন্দ্রলাল সরকার স্মরণীয় কেন?
৩.৪ ভারতীয় জাতীয়তাবাদের ইতিহাসে ১৯১১ খ্রিস্টাব্দ গুরুত্বপূর্ণ কেন?
৩.৫ নববিধান কী?
৩.৬ আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা বলতে কী বোঝায়?
৩.৭ ঔপনিবেশিক শিক্ষাব্যবস্থা ত্রুটিপূর্ণ কেন?
৩.৮ দলিত কাদের বলা হয়?
৩.৯ রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন (১৯৫৩) কেন গঠিত হয়?
৩.১০ বাংলার ছাপাখানা বিকাশে পঞ্চানন কর্মকারের ভূমিকা কী ছিল?
৩.১১ কী পরিস্থিতিতে কাশ্মীরের রাজা হরি সিং ভারতভুক্তির দলিলে স্বাক্ষর করেন?
৩.১২ পট্টি শ্রী রামালু কে ছিলেন?
৩.১৩ জাতীয় শিক্ষা পরিষদ কেন প্রতিষ্ঠিত হয়?
৩.১৪ নবগোপাল মিত্র কে ছিলেন?
৩.১৫ গুরু চাঁদ ঠাকুর স্মরণীয় কেন?
৩.১৬ ‘বর্তমান ভারত’ গ্রন্থটি কীভাবে জাতীয়তাবাদ উন্মেষে সাহায্য করেছিল?
বিভাগ-'ঘ'
৪। সাত বা আটটি বাক্যে নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলির উত্তর দাও : প্রতিটি উপবিভাগ থেকে অন্ততঃ ১টি করে মোট ৬টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। ৪×৬=২৪
উপবিভাগ : ঘ.১
৪.১ শ্রীরামকৃষ্ণের ‘সর্বধর্ম সমন্বয়’-এর আদর্শ ব্যাখ্যা করো।
৪.২ উনিশ শতকে নারীশিক্ষা বিস্তারে ড্রিংকওয়াটার বেথুন কী ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন?
উপবিভাগ : ঘ.২
৪.৩ উনিশ শতকে পাশ্চাত্য শিক্ষাবিস্তারে রামমোহন রায়ের ভূমিকা মূল্যায়ণ করো।
৪.৪ ছাপাবই-এর সঙ্গে শিক্ষাবিস্তারের সম্পর্ক বিশ্লেষণ করো।
উপবিভাগ : ঘ.৩
৪.৫ সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনে বেঙ্গল ভলান্টিয়ার্স দলের ভূমিকা বিশ্লেষণ করো।
৪.৬ বারদৌলি সত্যাগ্রহের প্রতি জাতীয় কংগ্রেসের কীরূপ মনোভাব ছিল?
উপবিভাগ : ঘ.৪
৪.৭ দলিত আন্দোলন বিষয়ে গান্ধি-আম্বেদকরের বিতর্ক আলোচনা করো।
৪.৮ কীভাবে কাশ্মীর সমস্যার সৃষ্টি হয়?
বিভাগ-'ঙ'
৫। পনেরো-ষোলোটি বাক্যে যেকোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও : ৮×১=৮
৫.১ উনিশ শতকের প্রথমার্ধে সতীদাহ প্রথা বিরোধী প্রচেষ্টাগুলির পরিচয় দাও। রামমোহন রায় কীভাবে সতীদাহ প্রথা বিরোধী আন্দোলনকে সাফল্যমণ্ডিত করেন?
৫.২ বাংলায় নমঃশূদ্র আন্দোলনের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও।
Ans : - ভূমিকা : ঔপনিবেশিক শাসনকালে বাংলার হিন্দু সমাজে নিম্নবর্ণের মানুষের সংখ্যা ছিল যথেষ্ট বেশি। এই নিম্নবর্ণের দলিত হিন্দুদের মধ্যে নমঃশূদ্র সম্প্রদায় ছিল সংখ্যাগরিষ্ঠ। সমাজে প্রচলিত জাতিভেদ, অস্পৃশ্যতা, অর্থনৈতিক শোষণ ও সামাজিক অবিচারের বিরুদ্ধে নমঃশূদ্ররা নিজেদের ধর্মগুরু হরিচাঁদ ঠাকুর ও গুরুচাঁদ ঠাকুরের নেতৃত্বে সংগঠিত হয়ে আন্দোলন শুরু করে। সামাজিক মর্যাদা, অর্থনৈতিক উন্নতি এবং রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করাই ছিল এই আন্দোলনের প্রধান উদ্দেশ্য।
আন্দোলনের বিস্তার : নমঃশূদ্র আন্দোলনের প্রধান কেন্দ্র ছিল পূর্ববাংলার খুলনা, যশোর, ফরিদপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও বরিশাল জেলা। এই ছয়টি জেলায় নমঃশূদ্র সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস বেশি ছিল বলে আন্দোলনটি সেখানে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
নমঃশূদ্র আন্দোলনের কারণ :
১. অর্থনৈতিক শোষণ : নমঃশূদ্র অধ্যুষিত অঞ্চলের অধিকাংশ জমি উচ্চবর্ণের হিন্দু ও সৈয়দ মুসলমানদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। অন্যদিকে নমঃশূদ্ররা মূলত ভূমিহীন কৃষক, প্রান্তিক চাষি ও কৃষিমজুর হিসেবে জীবনযাপন করত। এই অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করতে তারা শিক্ষা ও সরকারি চাকরির প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে।
২. সামাজিক বৈষম্য : তৎকালীন হিন্দু সমাজে নমঃশূদ্রদের নিচু জাতি ও অস্পৃশ্য বলে গণ্য করা হতো। উচ্চবর্ণের মানুষ তাদের সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে চাইত না। ফলে নমঃশূদ্ররা সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলনে সামিল হয়।
৩. ধর্মীয় নেতাদের ভূমিকা : হরিচাঁদ ঠাকুর ও প্রভু জগবন্ধু প্রমুখ ধর্মপ্রচারক নমঃশূদ্রদের মধ্যে মানবতাবাদী ও উদার ধর্মীয় আদর্শ প্রচার করেন। হরিচাঁদ ঠাকুর তাঁদের আত্মসম্মানবোধ জাগিয়ে তোলেন এবং মতুয়া সম্প্রদায়ের মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ করেন। তিনি ব্রাহ্মণ, জমিদার ও পুরোহিত শ্রেণির শোষণ ও অন্যায়ের প্রতিবাদ করেন।
নমঃশূদ্র আন্দোলনের সূচনা : ১৮৭২ খ্রিস্টাব্দে ফরিদপুর-বাখরগঞ্জ অঞ্চলে একটি শ্রাদ্ধানুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে নমঃশূদ্র আন্দোলনের প্রত্যক্ষ সূচনা ঘটে। একজন বিশিষ্ট নমঃশূদ্র নেতার মায়ের শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে উচ্চবর্ণের লোকেরা যোগ দিতে অস্বীকার করে। এর প্রতিবাদে নমঃশূদ্ররা উচ্চবর্ণের মানুষের সঙ্গে সামাজিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নেয়। তারা উচ্চবর্ণের জমিতে কৃষিকাজ, ঘর ছাওয়া এবং অন্যান্য শ্রম দিতে অস্বীকার করে। এই ঘটনাই আন্দোলনকে সুসংগঠিত রূপ দেয়।
আন্দোলনের নেতৃত্ব : নমঃশূদ্র আন্দোলনে বিভিন্ন সময়ে হরিচাঁদ ঠাকুর, গুরুচাঁদ ঠাকুর, রাজেন্দ্রনাথ মণ্ডল, মুকুন্দবিহারী মল্লিক, বিরাটচন্দ্র মণ্ডল, যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডল এবং প্রমথরঞ্জন ঠাকুর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁদের নেতৃত্বে আন্দোলন সামাজিক ক্ষেত্র ছাড়িয়ে রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও বিস্তার লাভ করে।
মতুয়া মহাসংঘের ভূমিকা : উনিশ শতকের শেষদিকে হরিচাঁদ ঠাকুরের ধর্মীয় ও সামাজিক আদর্শকে কেন্দ্র করে মতুয়া মহাসংঘের বিকাশ ঘটে। এই সংগঠন সহজ-সরল ভক্তিবাদী ধর্মমত প্রচার করে নমঃশূদ্রদের মধ্যে ঐক্য ও আত্মমর্যাদাবোধ সৃষ্টি করে। এর ফলে নমঃশূদ্রদের ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনে নতুন চেতনার উন্মেষ ঘটে।
বেঙ্গল নমঃশূদ্র অ্যাসোসিয়েশন গঠন : ফরিদপুর জেলার ওড়াকান্দি গ্রাম নমঃশূদ্র আন্দোলনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হয়ে ওঠে। ১৯০২ খ্রিস্টাব্দে আন্দোলনকে বিস্তৃত করার উদ্দেশ্যে একটি সমিতি গঠিত হয়। যাত্রানুষ্ঠান আয়োজন এবং প্রতিটি পরিবার থেকে মুষ্টিভিক্ষা সংগ্রহের মাধ্যমেও আন্দোলনের জন্য অর্থ ও জনসমর্থন জোগাড় করা হতো। পরবর্তীকালে ১৯১২ খ্রিস্টাব্দে বেঙ্গল নমঃশূদ্র অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আন্দোলন আরও সংগঠিত হয়। পরে এই আন্দোলন আম্বেদকরের নেতৃত্বাধীন সর্বভারতীয় দলিত আন্দোলনের সঙ্গেও যুক্ত হয়।
চণ্ডাল নাম পরিবর্তনের দাবি : নমঃশূদ্ররা নিজেদের জন্য ব্যবহৃত অপমানজনক 'চণ্ডাল' নামের পরিবর্তে 'নমঃশূদ্র' নামের সরকারি স্বীকৃতি দাবি করে। ১৯১১ খ্রিস্টাব্দের জনগণনায় তাদের এই দাবি স্বীকৃতি লাভ করে। পাশাপাশি সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য তারা উচ্চবর্ণের বিভিন্ন রীতিনীতি, যেমন উপবীত ধারণ, এগারো দিন অশৌচ পালন এবং নিজেদের ব্রাহ্মণ বলে দাবি করার মতো প্রথা অনুসরণ করতে শুরু করে।
রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের দাবি : ১৯১৭ ও ১৯১৮ খ্রিস্টাব্দে অনুষ্ঠিত দুটি সম্মেলনের মাধ্যমে নমঃশূদ্ররা সাম্প্রদায়িক প্রতিনিধিত্বের দাবি জানায়। মন্টেগু-চেমসফোর্ড শাসনসংস্কারের প্রেক্ষাপটে তাদের এই দাবি গুরুত্ব লাভ করে। এর ফলে ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দের সংস্কারে বঙ্গীয় প্রাদেশিক আইনসভায় অনুন্নত শ্রেণির একজন প্রতিনিধি মনোনয়নের নীতি স্বীকৃত হয়।
ব্রিটিশ সরকারের প্রতি আনুগত্য : নিজেদের রাজনৈতিক ও সামাজিক দাবি পূরণের আশায় নমঃশূদ্র নেতারা ব্রিটিশ সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন। ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দের সাম্প্রদায়িক বাঁটোয়ারা নীতিকে তাঁরা সমর্থন করেছিলেন। কিন্তু গান্ধিজি ও আম্বেদকরের মধ্যে পুনা চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে নমঃশূদ্রদের একাংশ তার বিরোধিতা করে।
কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পর্ক : ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত নমঃশূদ্রদের সঙ্গে কংগ্রেসের দূরত্ব বজায় ছিল। কিন্তু ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দের ১৩ মার্চ কংগ্রেসের নবনির্বাচিত সভাপতি সুভাষচন্দ্র বসু কলকাতার এলবার্ট হলে এক সভায় গুরুচাঁদ ঠাকুরকে 'অতিমানব' বলে সম্মান জানান। এর তিন দিন পর প্রমথরঞ্জন ঠাকুর, যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডল প্রমুখ নেতা কংগ্রেসের সঙ্গে সহযোগিতার নীতি গ্রহণ করেন। তাঁরা ইন্ডিপেন্ডেন্ট সিডিউলড কাস্ট পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন।
মূল্যায়ন : নমঃশূদ্র আন্দোলন বাংলার দলিত সমাজে আত্মমর্যাদা, ঐক্য এবং রাজনৈতিক সচেতনতা সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। এই আন্দোলনের ফলে নমঃশূদ্ররা সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বেশ কিছু অধিকার অর্জন করে। দেশভাগের সময় যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডল নমঃশূদ্রদের পাকিস্তানে থেকে যাওয়ার আহ্বান জানালেও প্রমথরঞ্জন ঠাকুরের নেতৃত্বে তাদের একটি বড়ো অংশ পূর্ববাংলা ছেড়ে পশ্চিমবঙ্গে উদ্বাস্তু হিসেবে চলে আসে। এভাবে নমঃশূদ্র আন্দোলন বাংলার সামাজিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে রয়েছে।
৫.৩ বাংলার বিজ্ঞান শিক্ষা প্রসারে কলকাতা বিজ্ঞান কলেজর ভূমিকা লেখ। হায়দরাবাদ রাজ্যটি কীভাবে ভারতভুক্ত হয়? 4+ 4
Ans : - ভূমিকা : বাংলায় আধুনিক বিজ্ঞানশিক্ষা ও গবেষণার প্রসারে কলকাতা বিজ্ঞান কলেজ (University College of Science) এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দে স্যার তারকনাথ পালিতের আর্থিক সাহায্যে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এই প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে।
বিজ্ঞান শিক্ষায় অবদান :
১. উচ্চশিক্ষার প্রসার : কলকাতা বিজ্ঞান কলেজে পদার্থবিদ্যা, রসায়ন ও গণিতের মতো বিভিন্ন বিজ্ঞান বিষয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি হয়।
২. গবেষণার সুযোগ : এই প্রতিষ্ঠান বিজ্ঞানচর্চার পাশাপাশি মৌলিক গবেষণার ক্ষেত্র তৈরি করে। ফলে বাংলার ছাত্রছাত্রীরা আধুনিক বিজ্ঞান ও গবেষণার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পায়।
৩. বিশিষ্ট বিজ্ঞানীদের অবদান : আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়, সি. ভি. রমন, মেঘনাদ সাহা প্রমুখ বিশিষ্ট বিজ্ঞানী এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত থেকে বিজ্ঞানশিক্ষা ও গবেষণার উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
৪. বিজ্ঞানমনস্কতার বিকাশ : কলকাতা বিজ্ঞান কলেজ দেশীয় ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বিজ্ঞানচর্চা, যুক্তিবাদী চিন্তা ও গবেষণার আগ্রহ বাড়িয়ে তোলে। এর ফলে বাংলায় আধুনিক বিজ্ঞানশিক্ষার ভিত্তি আরও শক্তিশালী হয়।
উপসংহার : কলকাতা বিজ্ঞান কলেজের উদ্যোগে বাংলায় উচ্চতর বিজ্ঞানশিক্ষা ও গবেষণার প্রসার ঘটে। তাই বাংলার বিজ্ঞানশিক্ষার ইতিহাসে এই প্রতিষ্ঠানের অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয়।
2nd Part :- ভূমিকা : ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে ভারত স্বাধীন হওয়ার সময় দেশীয় রাজ্যগুলির ভারতভুক্তির বিষয়টি একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। এই সমস্যাগুলির মধ্যে হায়দরাবাদ ও কাশ্মীরের সমস্যা ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
হায়দরাবাদের সমস্যা : হায়দরাবাদের শাসক ছিলেন নিজাম ওসমান আলি খান। রাজ্যের অধিকাংশ বাসিন্দা হিন্দু হলেও নিজাম হায়দরাবাদকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বজায় রাখতে চেয়েছিলেন। অন্যদিকে, হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ ভারতের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পক্ষে ছিল। নিজামের সমর্থনে কাশিম রেজভির নেতৃত্বে ‘রাজাকার’ নামে একটি সশস্ত্র বাহিনী গড়ে ওঠে। এই বাহিনী সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার চালায় এবং হায়দরাবাদের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
হায়দরাবাদের ভারতভুক্তি : নিজাম ভারতের সঙ্গে যুক্ত হতে অস্বীকার করায় পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এই অবস্থায় ভারত সরকার সামরিক অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়। ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দের ১৩ সেপ্টেম্বর ভারতীয় সেনাবাহিনী ‘অপারেশন পোলো’ শুরু করে। জেনারেল জয়ন্তনাথ চৌধুরীর নেতৃত্বে ভারতীয় বাহিনী হায়দরাবাদ দখল করে। ১৭ সেপ্টেম্বর নিজাম আত্মসমর্পণ করেন। এরপর হায়দরাবাদ ভারতীয় ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত হয়।
হায়দরাবাদের ভারতভুক্তির গুরুত্ব : হায়দরাবাদের ভারতভুক্তির কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গুরুত্ব ছিল—
১. জাতীয় সংহতি প্রতিষ্ঠা : হায়দরাবাদের অন্তর্ভুক্তির ফলে ভারতের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় হয়।
২. ধর্মনিরপেক্ষতার দৃষ্টান্ত : হায়দরাবাদের অধিকাংশ মানুষ হিন্দু হলেও শাসক ছিলেন মুসলমান। এই রাজ্যের ভারতভুক্তি প্রমাণ করে যে ভারত ধর্মের ভিত্তিতে নয়, বরং জনগণের স্বার্থ ও জাতীয় সংহতির ভিত্তিতে দেশীয় রাজ্যগুলিকে যুক্ত করতে চেয়েছিল।
৩. রাজাকার বাহিনীর অবসান : ভারতীয় সেনা অভিযানের ফলে রাজাকার বাহিনীর অত্যাচারের অবসান ঘটে এবং রাজ্যে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়।
৪. কৃষক আন্দোলনের ওপর প্রভাব : এই সামরিক অভিযানের সময় তেলেঙ্গানার কৃষক আন্দোলনও দমনের মুখে পড়ে। ফলে হায়দরাবাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আসে।


Enter Your Comment