West Bengal Class 6 First Unit Test History Question Paper with Answers 2026 । ইতিহাস প্রশ্ন ও উত্তর সাজেশান

0

ষষ্ট শ্রেণীর ইতিহাস প্রথম পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন প্রশ্ন ও উত্তর 2026

West Bengal Class 6 First Unit Test History Question Paper with Answers 2026 । ইতিহাস প্রশ্ন ও উত্তর সাজেশান


Info Educations ওয়েবসাইটে তোমাদের সবাইকে স্বাগত। তোমরা কি ষষ্ঠ শ্রেণির ইতিহাস প্রথম পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়নের প্রশ্ন ও উত্তর খুঁজছো? তাহলে সঠিক জায়গাতেই এসেছো। এখানে তোমরা পাবে Class 6 History First Unit Test 2026–এর সম্পূর্ণ প্রশ্নপত্র, সাজেশন ও নির্ভুল উত্তর। পশ্চিমবঙ্গ মধ্য শিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) পরিচালিত WB Class VI History First Unit Test 2026 রাজ্যের বিভিন্ন বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষার আগে সঠিক প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, সাজেশন ও পরীক্ষার ধরন অনুযায়ী উত্তর অনুশীলন। সেই কথা মাথায় রেখে Info Educations নিয়ে এসেছে WBBSE Class 6 History 1st Unit Test Question Paper with Answers 2026।


WBBSE Class 6 History 1st Unit Test Question Paper & Suggestion 2026


প্রিয় ছাত্রছাত্রী, আশা করি তোমরা সবাই ভালো আছো। আজ তোমাদের জন্য Info Educations নিয়ে এসেছে ষষ্ঠ শ্রেণির ইতিহাস প্রথম ইউনিট টেস্ট সাজেশন ও প্রশ্নপত্র ২০২৬। সাধারণত ষষ্ঠ শ্রেণির প্রথম পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন পরীক্ষা ৩০ নম্বরের হয়ে থাকে এবং সময় থাকে প্রায় ৬০ মিনিট। তাই পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলো আগে থেকে প্র্যাকটিস করা খুবই প্রয়োজন। এই Class 6 History 1st Unit Test Suggestion 2026 অভিজ্ঞ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের পরামর্শ অনুযায়ী তৈরি করা হয়েছে যাতে তোমরা সহজভাবে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলো রিভিশন করতে পারো এবং পরীক্ষায় ভালো নম্বর পেতে পারো।


West Bengal Board Class 6 History 1st Unit Test Syllabus 2026

WBBSE Class VI History 1st Unit Test Syllabus 2026 / ষষ্ঠ শ্রেণীর প্রথম ইউনিট টেস্টের ইতিহাস বিষয়ের ২০২৬ এর সিলেবাস এ থাকছে তোমাদের প্রথম অধ্যায় : ইতিহাসের ধারণা (প্রথম অধ্যায় থেকে পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়নে কোনো প্রশ্ন রাখা যাবে না)। দ্বিতীয় অধ্যায় : ভারতীয় উপমহাদেশে আদিম মানুষ যাযাবর জীবন থেকে স্থায়ী বসতি স্থাপন। তৃতীয় অধ্যায় : ভারতীয় উপমহাদেশের প্রাচীন ইতিহাসের ধারা : প্রথম পর্যায় : আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ৭০০০ – ১৫০০ অব্দ। Class 6 ইতিহাস প্রথম পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন ২০২৬ পূর্ণমান - ৩০  লিখিত।  যার জন্য সময় ১ ঘন্টা বরাদ্দ করে হয়েছে।


প্রথম পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়নের জন্য 1 সেট ইতিহাসের প্রশ্নপত্র ও সম্পূর্ণ উত্তর 



1. সঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে সম্পূর্ণ বাক্য লেখো  :– 1×4=4
(i) আদিম মানুষ প্রথমে – (রান্না করা খাবার / পোড়া মাংস / কাঁচা মাংস ও ফলমূল) খেত।
উত্তর : - কাঁচা মাংস ও ফলমূল

(ii) হরপ্পা সভ্যতা ছিল - (পাথরের যুগের / তামা ও ব্রোঞ্জ যুগের / লোহার যুগের) সভ্যতা।
উত্তর : - তামা ও ব্রোঞ্জ যুগের

(iii) আদিম মানুষের জীবনে প্রথম জরুরি আবিষ্কার – (ধাতু / চাকা / আগুন)। 
উত্তর : - আগুন

(iv) ভারতীয় উপমহাদেশে হরপ্পাতেই – (প্রথম নগর / প্রথম গ্রাম / দ্বিতীয় নগর) দেখা গিয়েছিল।
উত্তর : - প্রথম নগর

(v) আদিম মানুষের প্রথম হাতিয়ার ছিল—(ভোঁতা পাথর / হালকা ছুঁচালো পাথর / পাথরের কুঠার)।
উত্তর : - ভোঁতা পাথর

2. দু-এক কথায় উত্তর দাও :— 1×4=4

(i) মেহেরগড় সভ্যতা কত খ্রিঃ কে আবিষ্কার করেন।
উত্তর : - মেহেরগড় সভ্যতা ছিল নব্য প্রস্তর যুগের সভ্যতা যা ভারতের একটি প্রাচীনতম সভ্যতাও বটে। জাঁ ফ্রাঁসোয়া জারিজ ১৯৭৪ সালে বালুচিস্তানের বোলান নদীর তীরে মেহেরগড় সভ্যতা আবিষ্কার করেন।

(ii) লুসি কী ?
উত্তর : - আফ্রিকা মহাদেশের ইথিওপিয়ায় হাদার নামে একটি জায়গা রয়েছে। এই হাদারে অস্ট্রালােপিথেকাস মানব প্রজাতিভুক্ত কঙ্কালের কিছু অংশ মিলেছে (১৯৭৪ খ্রি.)। কঙ্কালটি আসলে প্রায় ৩২ লক্ষ বছর আগেকার একটি ছােটো মেয়ের। এই কঙ্কালটির নাম দেওয়া হয়েছিল লুসি। লুসির মস্তিষ্কটি অন্যান্য প্রাণীর তুলনায় অনেক বড়াে।

(iii) ‘সিটাডেল' বলতে কী বোঝায়?
উত্তর : - হরপ্পা সভ্যতার নগরগুলি সাধারণত উঁচু ও নীচু—এই দুই ভাগে বিভক্ত ছিল। নগরের উঁচু ঢিবির ওপর অবস্থিত অংশকে সিটাডেল বলা হত। এটি সাধারণত আয়তকার আকৃতির হত এবং শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও বসতি এই এলাকায় গড়ে উঠেছিল।

(iv) 'হোমো হাবিলিস' কথার অর্থ কী? 
উত্তর : - হােমাে হাবিলিস কথার অর্থ হল দক্ষ মানুষ। 

3. ক-স্তম্ভের সঙ্গে খ-স্তম্ভ মিলিয়ে লেখো :—1×4=4
ক-স্তম্ভ   - খ-স্তম্ভ
কৃষিকাজ  - মধ্যপ্রদেশ
পশুপালন - নতুন পাথরের যুগ
ভীমবেটকা - মাঝের পাথরের যুগে
হুন্সগি - কর্ণাটক

উত্তর : - 
কৃষিকাজ  - নতুন পাথরের যুগ
পশুপালন - মাঝের পাথরের যুগে
ভীমবেটকা - মধ্যপ্রদেশ 
হুন্সগি - কর্ণাটক

4. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও : যে কোনো (চারটি) 2 x 4 = 8 

(i) আদিম মানুষ যাযাবর ছিল কেন?
উত্তর : - আদিম মানুষ শিকার ও খাদ্য সংগ্রহের ওপর নির্ভর করে জীবনযাপন করত। তারা কৃষিকাজ জানত না এবং স্থায়ী বসবাসের ব্যবস্থা ছিল না। এক জায়গায় খাদ্য ও জল শেষ হয়ে গেলে নতুন খাদ্য ও নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে তাদের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ঘুরে বেড়াতে হত। তাই আদিম মানুষ যাযাবর ছিল।

(ii) হরপ্পা সভ্যতাকে ‘তামা ও ব্রোঞ্জ যুগের সভ্যতা' বলা হয় কেন?
উত্তর : - হরপ্পা সভ্যতার মানুষ তামা ও ব্রোঞ্জ ধাতুর ব্যবহার ভালোভাবে জানত এবং অস্ত্র, যন্ত্রপাতি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী তৈরিতে এগুলি ব্যাপকভাবে ব্যবহার করত। তারা তামার সঙ্গে টিন মিশিয়ে ব্রোঞ্জ তৈরি করত, তবে পাথরের ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধ হয়নি। প্রত্নতত্ত্ববিদ জন মার্শালের মতে, পশ্চিম এশিয়ার মতো হরপ্পা সভ্যতায় তামা ও ব্রোঞ্জের প্রচলন ছিল বেশি। তাই এই সভ্যতাকে ‘তামা ও ব্রোঞ্জ যুগের সভ্যতা’ বা তাম্রাশ্ম যুগের সভ্যতা বলা হয়।

(iii) পুরােনাে পাথরের যুগে আদিম মানুষের জীবন কেমন ছিল?
উত্তর : - পুরোনো পাথরের যুগের বিভিন্ন প্রত্নস্থল থেকে পাওয়া অস্ত্র ও সামগ্রী দেখে সেই সময়ের মানুষের জীবনযাত্রা সম্পর্কে জানা যায়।
(a) এ যুগের মানুষ দলবদ্ধভাবে বসবাস করত এবং পশু শিকার ও ফলমূল সংগ্রহ করে খাদ্য জোগাড় করত।
(b) তারা পশুর চামড়া, গাছের ছাল ও লতাপাতা পোশাক হিসেবে ব্যবহার করত।
(c) খাদ্যের জন্য শিকার করা পশুর মাংস ও বনের ফলমূল খেত এবং ভারী ও এবড়োখেবড়ো পাথরের হাতিয়ার ব্যবহার করত।

(iv) ভীমবেটকা কী?
উত্তর : - মধ্যপ্রদেশের ভোপালের কাছে বিন্ধ্য পর্বতের পাদদেশে ভীমবেটকা অবস্থিত। ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দে এখানে বহু প্রাচীন গুহার সন্ধান পাওয়া যায়। এই গুহাগুলিতে পুরোনো পাথরের যুগের আদিম মানুষের বসবাসের প্রমাণ মিলেছে এবং গুহার দেয়ালে তাদের আঁকা শিকার, বন্যপশু, পাখি ও মানুষের বিভিন্ন ছবিও দেখা যায়। ছবিগুলিতে প্রধানত লাল ও সাদা রঙের ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়।

(v) টীকা লেখো - 'ট্যারো-ট্যারো' । 
উত্তর : - ইউরােপের স্পেন দেশে পাহাড়ি এলাকা আলতামিরায় কয়েকটি প্রাচীন গুহার খোঁজ মেলে। এক প্রত্নতাত্ত্বিক তাঁর ছােটো মেয়েকে নিয়ে গুহাগুলি দেখতে যান। গুহার এক দেয়ালে তারা আলাে ফেললে এক ষাঁড়ের ছবি দেখতে পান। গুহার ছাদে বিশাল বড়াে এই ষাঁড়ের ছবিটি দেখে মেয়েটি চিৎকার করে ট্যরাে-ট্যরাে অর্থাৎ ষাঁড়-ষাঁড় বলে ওঠে। এই ছবিটি প্রায় ৫০ থেকে ৩০ হাজার বছর আগের গুহাবাসী মানুষের আঁকা।

(vi) টীকা লেখাে: হরপ্পা সভ্যতার লিপি । 
উত্তর : - হরপ্পা সভ্যতার লিপির গুরুত্ব অপরিসীম, কারণ এর মাধ্যমে এই সভ্যতা সম্পর্কে নানা তথ্য জানা যায়। হরপ্পাবাসীরা লিখতে জানত, তবে তাদের লিপি আজও সম্পূর্ণভাবে পাঠোদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এই লিপি ছিল সাংকেতিক এবং এতে প্রায় ৩৭৫–৪০০টি চিহ্ন ব্যবহৃত হত; লিপি ডানদিক থেকে বামদিকে লেখা হত। পাত্র, সিলমোহর ও তামার ফলকের ওপর এই লিপির নিদর্শন পাওয়া গেছে এবং অনেকের মতে এর সঙ্গে দ্রাবিড় ভাষার মিল থাকতে পারে।


5. অতি-সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও :—যে কোনো (দুটি)  2 x 5 = 10 

(i) হরপ্পা সভ্যতার নগর পরিকল্পনা কীরকম ছিল? হরপ্পা সভ্যতার কারিগরি শিল্প কীরকম ছিল?
উত্তর : - হরপ্পা, মহেঞ্জোদারো, লোথাল, কালিবগান প্রভৃতি স্থানে পরিকল্পিত আধুনিক নগরের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে, যা হরপ্পা সভ্যতার উন্নত নগর পরিকল্পনার পরিচয় দেয়।
(১) নগর এলাকা : হরপ্পার নগরগুলি দুটি ভাগে বিভক্ত ছিল—উঁচু এলাকা বা সিটাডেল এবং নীচু বসতি এলাকা। সিটাডেল সাধারণত নগরের উত্তর বা উত্তর-পশ্চিম দিকে এবং নীচু বসতি পূর্ব বা দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অবস্থিত ছিল।
(২) ঘরবাড়ি : ঘরবাড়িগুলি পোড়া ইট দিয়ে তৈরি ছিল। বড়, মাঝারি ও ছোট বিভিন্ন ধরনের বাড়ি ছিল এবং অনেক বাড়ি দোতলা বা তিনতলা ছিল। প্রতিটি বাড়িতে একটিমাত্র রান্নাঘর থাকায় যৌথ পরিবারের অস্তিত্বের ধারণা পাওয়া যায়।
(৩) রাস্তাঘাট : শহরের রাস্তা ছিল চওড়া ও পরিকল্পিত। প্রধান রাস্তা উত্তর-দক্ষিণ দিকে এবং ছোট রাস্তা পূর্ব-পশ্চিম দিকে বিস্তৃত ছিল। রাস্তার দু’ধারে বাঁধানো ফুটপাথও ছিল।
(৪) পয়ঃপ্রণালী : হরপ্পা সভ্যতায় উন্নত জলনিকাশি ব্যবস্থা ছিল। প্রতিটি বাড়িতে শৌচাগার ছিল এবং ঢাকা নর্দমার মাধ্যমে নোংরা জল ছোট নালা থেকে বড় নর্দমায় গিয়ে পড়ত।
সুতরাং, উন্নত রাস্তা, ঘরবাড়ি ও পয়ঃপ্রণালীর কারণে হরপ্পা সভ্যতার নগর পরিকল্পনা অত্যন্ত আধুনিক ও সুসংগঠিত ছিল।

হরপ্পা সভ্যতার কারিগরি শিল্প : - হরপ্পা সভ্যতার অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল উন্নত কারিগরি শিল্প। এই সভ্যতার মানুষ পাথর ও ধাতু ব্যবহার করে নানা সামগ্রী তৈরি করত। তারা লোহা ব্যবহার জানত না, তাই তামা, কাঁসা ও ব্রোঞ্জ দিয়ে ছুরি, কুঠার, বাটালি ও বিভিন্ন যন্ত্রপাতি তৈরি করত। হরপ্পায় পোড়ামাটির লালচে রঙের পাত্র তৈরি হত, যেগুলিতে কালো রঙের নকশা আঁকা থাকত। এছাড়া কাপড় বোনা ও সূচিশিল্পের প্রমাণ মহেঞ্জোদারো থেকে পাওয়া গেছে। কাঁচা ও পাকা ইট তৈরির শিল্পও খুব উন্নত ছিল। সোনা, তামা, শাঁখ ও পাথর দিয়ে মালার দানা তৈরি করা হত এবং ব্রোঞ্জ ও পোড়ামাটি দিয়ে মানুষ ও পশুপাখির মূর্তি নির্মাণ করা হত। এ থেকে বোঝা যায়, হরপ্পা সভ্যতায় কারিগরি শিল্প অত্যন্ত উন্নত ছিল।

(ii) আদিম মানুষ কীভাবে আগুন জ্বালাতে শিখেছিল বলে মনে হয় ? আগুন জ্বালাতে শেখার পর আদিম মানুষের কী কী সুবিধা হয়েছিল?
উত্তর : - প্রাণীদের মধ্যে একমাত্র মানুষই আগুন জ্বালাতে ও ব্যবহার করতে পারে। প্রথম দিকে তারা বনে লাগা আগুন (দাবানল) বা অন্যভাবে জ্বলে ওঠা আগুন দেখত। কোনো একসময় তারা জ্বলন্ত গাছের ডাল গুহায় নিয়ে আসত এবং তা নিভতে দিত না। এইভাবে হঠাৎ একদিন পাথরের হাতিয়ার তৈরি করতে গিয়ে চকমকি জাতীয় পাথরের ঠোকাঠুকিতে আগুন জ্বালিয়ে ফেলে। এভাবেই তারা আগুনের ব্যবহার শিখেছিল। আবার অনেকে মনে করেন শুকনো কাঠে কাঠ ঘষে তারা আগুন জ্বালাতে শিখেছিল।

আগুন জ্বালাতে শেখার পর আদিম মানুষের জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন আসে এবং তারা নানা সুবিধা লাভ করে।
(a) আত্মরক্ষা : প্রচণ্ড ঠান্ডা থেকে বাঁচতে মানুষ আগুন ব্যবহার করত এবং হিংস্র জন্তুর আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য গুহার সামনে আগুন জ্বালিয়ে রাখত।
(b) খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন : আগুন আবিষ্কারের পর মানুষ কাঁচা মাংসের পরিবর্তে আগুনে ঝলসানো বা রান্না করা খাবার খেতে শুরু করে।
(c) শারীরিক পরিবর্তন : নরম রান্না করা খাবার খাওয়ার ফলে মানুষের দাঁত ছোট ও চোয়াল সরু হয়ে যায়।
(d) জীবনযাত্রার উন্নতি : আগুন আলো ও উষ্ণতা দিত, ফলে রাতেও কাজ করা ও নিরাপদে বসবাস করা সম্ভব হয়েছিল।

(iii) আদিম মানুষ জোট বেঁধেছিল কেন? জোটবাঁধার কী সুফল হয়েছিল বলে তােমার মনে হয়? 
উত্তর : - আদিম মানুষের জীবন ছিল অত্যন্ত অনিশ্চিত ও বিপদসংকুল। তাই নিজেদের নিরাপত্তা ও জীবিকার জন্য তারা দল বা জোট গঠন করেছিল।
  • একা শিকার করা কঠিন ছিল, তাই দলবদ্ধভাবে পশু শিকার করত।
  • হিংস্র জন্তুর আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য একসঙ্গে থাকা প্রয়োজন ছিল।
  • খাদ্য সংগ্রহ ও আশ্রয় খোঁজা সহজ করার জন্য তারা দল গঠন করেছিল।
  • প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বিপদের সময় পরস্পরকে সাহায্য করার জন্য জোটবদ্ধ জীবনযাপন করত।
  • পরিবার ও সমাজ গঠনের প্রাথমিক ধাপ হিসেবেও তারা একত্রে বসবাস শুরু করে।

জোটবদ্ধভাবে থাকার ফলে আদিম মানুষের জীবনে নানা উন্নতি ঘটে।

  • দলবদ্ধ শিকারের ফলে সহজে বেশি খাদ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়।
  • একে অপরকে সাহায্য করার ফলে নিরাপত্তা বৃদ্ধি পায়।
  • কাজ ভাগ করে নেওয়ার ফলে জীবনযাপন সহজ হয়।
  • অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান ভাগাভাগি করার মাধ্যমে নতুন কৌশল শেখা সম্ভব হয়।
  • ধীরে ধীরে সামাজিক জীবন, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমাজব্যবস্থার সূচনা হয়।

সুতরাং, জোটবদ্ধ জীবন আদিম মানুষের টিকে থাকা ও সভ্যতার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0মন্তব্যসমূহ

Enter Your Comment

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)