ষষ্ট শ্রেণীর ভূগোল - প্রথম অধ্যায় - আকাশ ভরা সূর্য তারা প্রশ্ন ও উত্তর । Class VI Geography First Chapter Notes

0

Class 6 Geography Chapter 1 আকাশ ভরা সূর্য তারা – MCQ, SAQ, LAQ সহ সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর

ষষ্ট শ্রেণীর ভূগোল - প্রথম অধ্যায় - আকাশ ভরা সূর্য তারা প্রশ্ন ও উত্তর । Class VI Geography First Chapter Notes


ষষ্ঠ শ্রেণির ভূগোল বিষয়ের প্রথম অধ্যায় আকাশ ভরা সূর্য তারা হলো শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, যেখানে মহাকাশ, সূর্য, তারা ও গ্রহ সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা দেওয়া হয়েছে। এই লেখায় WB Class VI Geography First Chapter Notes, ভূগোল প্রথম অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর আকাশ ভরা সূর্য তারা অধ্যায়, এবং Class 6 Geography Chapter 1 All Important Question and Answer in Bengali একসাথে উপস্থাপন করা হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা সহজে অধ্যায়টি আয়ত্ত করতে পারে। এখানে ষষ্ঠ শ্রেণী প্রথম অধ্যায় আকাশ ভরা সূর্য তারা অধ্যায়, WBBSE Class 6th Geography Question and Answer, ও আকাশ ভরা সূর্য তারা Class 6 সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্লাস 6 আকাশ ভরা সূর্য তারা প্রথম অধ্যায় ভূগোল, Class Six Amader Prithibi Akash Vhora Surjo Tara Proshno o Uttor, ষষ্ঠ শ্রেণীর ভূগোল প্রথম অধ্যায়, এবং ক্লাস ৬ আকাশ ভরা সূর্য তারা প্রশ্ন উত্তর (MCQ, SAQ, LAQ) অনুযায়ী সাজানো প্রশ্ন ও উত্তর দেওয়া হয়েছে, যা পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত সহায়ক। মোটকথা, আকাশ ভরা সূর্য তারা (প্রথম অধ্যায়) – ষষ্ঠ শ্রেণীর ভূগোল প্রশ্ন ও উত্তর এই অধ্যায়টি বোঝার জন্য একটি সম্পূর্ণ ও নির্ভরযোগ্য গাইড।


WB Class VI Geography First Chapter Notes ও প্রশ্ন উত্তর


সৌরজগতের আটটি গ্রহের পরিচিতি ও বৈশিষ্ট্য : - 

1) বুধ (Mercury) : - 

  • সূর্যের সবচেয়ে কাছের গ্রহ (৫.৮ কোটি কিমি)।
  • ধূসর রঙের গ্রহ, গায়ে প্রচুর গর্ত রয়েছে।
  • যে দিকটা সূর্যের দিকে থাকে তার উষ্ণতা ৪৩০° সে.।
  • আবর্তন : ৫৮ দিন ১৭ ঘণ্টা।
  • পরিক্রমণ : ৮৮ দিন।


2) শুক্র (Venus) : - 

  • পৃথিবীর সবথেকে কাছের গ্রহ।
  • পৃথিবীর প্রায় সমান মাপের।
  • সূর্য থেকে দূরত্ব : ১০.৭ কোটি কিমি।
  • আবর্তন : ২৪৩ দিন।
  • পরিক্রমণ : ২২৫ দিন।
  • সৌরজগতের উষ্ণতম গ্রহ (৪৬৫° সে.)। প্রচুর কার্বন ডাইঅক্সাইড থাকায় তাপমাত্রা এত বেশি।


3) পৃথিবী (Earth) : - 

  • সূর্য থেকে দূরত্ব : ১৫ কোটি কিমি।
  • গড় তাপমাত্রা : ১৫° সে.।
  • সৌরজগতের একমাত্র গ্রহ যেখানে প্রাণের অস্তিত্ব আছে।
  • আবর্তন : ২৩ ঘণ্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড।
  • পরিক্রমণ : ৩৬৫ দিন ৫ ঘ. ৪৮ মি. ৪৬ সে.।
  • নীল গ্রহ : মহাকাশ থেকে নীল রঙের দেখায়।


4) মঙ্গল (Mars) : - 

  • সূর্য থেকে দূরত্ব : ২২.৮ কোটি কিমি।
  • মাটিতে প্রচুর ফেরাস অক্সাইড (লোহা) থাকায় দেখতে লাল, তাই লালগ্রহ।
  • তাপমাত্রা অনেকটা পৃথিবীর মতো, তাই প্রাণের খোঁজ চলছে।
  • তবে জানা গেছে যে এই গ্রহে একসময় জল ছিল।
  • আবর্তন : ২৪ ঘ. ৩৭ মি.।
  • পরিক্রমণ : ৬৮৭ দিন।


5) বৃহস্পতি (Jupiter) : - 

  • সবচেয়ে বড়ো গ্রহ।
  • মাধ্যাকর্ষণ সবথেকে বেশি।
  • সূর্য থেকে দূরত্ব : ৭৭.৮ কোটি কিমি।
  • তাপমাত্রা : –১৫০° সে.।
  • আবর্তন : ৯ ঘ. ৫০ মি.।
  • পরিক্রমণ : ১২ বছর।


6) শনি (Saturn) : - 

  • সূর্য থেকে দূরত্ব : ১৪২.৭ কোটি কিমি।
  • তাপমাত্রা : –১৮৪° সে.।
  • আবর্তন : প্রায় ১০ ঘ.।
  • পরিক্রমণ : ২৯ বছর ৬ মাস।
  • ঘনত্ব জলের থেকেও কম।
  • ধূলিকণা, বরফ ও পাথরের টুকরো দিয়ে তৈরি উজ্জ্বল ৭টি বলয় রয়েছে।


7) ইউরেনাস (Uranus) : - 

  • সূর্য থেকে দূরত্ব : ২৮৭ কোটি কিমি।
  • মিথেন গ্যাস বেশি থাকায় রং সবুজ।
  • তাপমাত্রা : –২১৬° সে., শীতলতম গ্রহ।
  • আবর্তন : প্রায় ১৭ ঘ.।
  • পরিক্রমণ : প্রায় ৮৪ বছর।


8) নেপচুন (Neptune) : - 

  • মিথেন ও হিলিয়াম গ্যাস বেশি থাকায় রং নীল।
  • সূর্য থেকে দূরত্ব : ৪৪৯.৭ কোটি কিমি।
  • তাপমাত্রা : –২১৪° সে.।
  • আবর্তন : প্রায় ১৬ ঘ.।
  • পরিক্রমণ : ১৬৫ বছর।


সৌরমণ্ডলের প্রতি গ্রহের উপগ্রহ সংখ্যার তালিকা : - 

বুধ ও শুক্র - উপগ্রহের সংখ্যা ০ অর্থাৎ একটিও নেই। 

পৃথিবী — উপগ্রহের সংখ্যা ১ — উপগ্রহ: চাঁদ

মঙ্গল — উপগ্রহের সংখ্যা ২ — উপগ্রহ: ডাইমস ও ফোবস

বৃহস্পতি — উপগ্রহের সংখ্যা ৬৭ — বিশেষ উল্লেখযোগ্য উপগ্রহ: গ্যানিমিড, ইউরোপা

শনি — উপগ্রহের সংখ্যা ৫৩ — বিশেষ উল্লেখযোগ্য উপগ্রহ: টাইটান (বৃহত্তম)

ইউরেনাস — উপগ্রহের সংখ্যা ২৭ — বিশেষ উল্লেখযোগ্য উপগ্রহ: মিরান্ডা

নেপচুন — উপগ্রহের সংখ্যা ১৩ — বিশেষ উল্লেখযোগ্য উপগ্রহ: ট্রাইটন


ষষ্ঠ শ্রেণীর ভূগোল – প্রথম অধ্যায় আকাশ ভরা সূর্য তারা প্রশ্ন ও উত্তর

একটি বাক্যে উত্তর দাও : - 

১) নীহারিকা কি?

উত্তর : - মহাবিশ্ব সৃষ্টির সময় যে অসংখ্য ধূলিকণা ও গ্যাসের মহাজাগতিক মেঘ তৈরি হয়, তাহলো নীহারিকা।

২) সূর্য বাদে আমাদের কাছের নক্ষত্রের নাম কি?

উত্তর : - প্রক্সিমা সেনটাউরি ।

৩) সূর্য, পৃথিবী বা অন্যান্য গ্রহগুলি কোন ছায়াপথে আছে?

উত্তর : - আকাশ গঙ্গা (Milky Way) ছায়াপথ।

৪) ছায়াপথ গুলি কেমন দেখতে হয় ?

উত্তর : - প্যাঁচানো, ডিম্বাকার বিভিন্ন রকমের হয়। 

৫) আলোকবর্ষ কাকে বলে?

উত্তর : - আলো এক বছরে যে দূরত্ব পার হয়, তাকে এক আলোকবর্ষ বলে ।

৬) প্রক্সিমা সেনটাউরি পৃথিবী থেকে কত দূরে আছে ?

উত্তর : - 41 লক্ষ কোটি কিমি দূরে।

৭) সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে কত সময় লাগে?

উত্তর : -৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড। 

৮) নক্ষত্র মন্ডল বলতে কী বোঝো?

উত্তর : - কাছাকাছি থাকা তারাগুলোকে কাল্পনিকভাবে যোগ করলে বিভিন্ন আকৃতি তৈরি হয়। এরকম একটা তারার ঝাঁককে নক্ষত্র মন্ডল বলে ।

৯) প্রশ্ন -সপ্তর্ষিমণ্ডল কেমন দেখতে?

উত্তর : -প্রশ্নচিহ্নের(?) মতো।

১০) ক্যাসিওপিয়া কেমন দেখতে?

উত্তর : - ইংরেজি (M) মতো।

১১) কালপুরুষ কেমন দেখতে?

উত্তর : -পুরান কাহিনী  সাহসী শিকারির মতো। 

১২) বক মণ্ডল কেমন দেখতে?

উত্তর : - ক্রশ চিহ্নের মতো ।

১৩) ধ্রুব তারা কোন আকাশে দেখা যায় ?

উত্তর : - উত্তর আকাশে।

১৪) বহুকাল আগে নাবিকেরা কোন তারা দেখে দিক ঠিক করতো ?

উত্তর : -  ধ্রুবতারা। 

১৫) টেলিস্কোপ কি?

উত্তর : - কয়েক কোটি আলোকবর্ষ দূরে মহাজাগতিক বস্তু কে দেখার জন্য , বডো চোঙ  লাগানোরবিশাল আকৃতি একটা যন্ত্র।

১৬) সৌরজগৎ বা সৌরপরিবার বলতে কী বোঝো?

উত্তর : - সূর্য ও অন্যান্য গ্রহ উপগ্রহ নিয়ে, যে পরিবার তাকে বলা হয় সৌর পরিবার ।

১৭) সন্ধ্যা তারা আসলে কি ?

উত্তর : - সন্ধ্যা তারা আসলে শুক্র গ্রহ ।

১৮) খালি চোখে সূর্যের দিকে তাকালে চোখের কোন অংশে ক্ষতি হয়?

উত্তর : - রেটিনা

১৯) সৌর পরিবারের ভেতরের দিকে তিনটি গ্রহের নাম লেখ ।

উত্তর : -বুধ ,শুক্র, পৃথিবী।

২০) বহিঃস্থ গ্রহের নাম লেখ ।

উত্তর : - বৃহস্পতি ,শনি ,ইউরেনাস ।

২১) প্লুটো কে বামন গ্রহ বলা হয় কেন?

উত্তর : -কক্ষপথের কোন মহাজাগতিক বস্তু এসে গেলে তা সরিয়ে দিতে পারেনা সেজন্য প্লুটোকে বামন গ্রহ বলা হয় ।

২২) চাঁদের মাধ্যাকর্ষণ শক্তি পৃথিবীর তুলনায় কত ?

উত্তর : - ১ / ৬  গূণ।

২৩) চন্দ্রকলা কাকে বলে ?

উত্তর : - অমাবস্যা থেকে পূর্ণিমা আবার পূর্ণিমা থেকে অমাবস্যায় চাঁদের আলোকিত অংশের বাড়া কমাকে বলে চন্দ্রকলা। 

২৪) চান্দ্রমাস কাকে বলে ?      

উত্তর : - একটা পূর্ণিমা থেকে আরেকটা পূর্ণিমা পর্যন্ত সময়কে বলে চান্দ্রমাস ।      

২৫) সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহাণুর নাম কি ? 

উত্তর : - ‘সেরেস্’। 

২৬) স্পেস স্যুট কি ?

উত্তর : - মহাকাশে যাওয়ার পোশাককে বলে স্পেস স্যুট। 

২৭) পৃথিবী থেকে হ্যালির ধূমকেতু কত বছর অন্তর অন্তর দেখা যায়?

উত্তর : - ৭৬ বছর অন্তর। 

২৮) কত সালে কিউরিও সিটি রোভার মঙ্গল গ্রহে অবতরণের করে?

উত্তর : - ২০১২ সালে। 

২৯) ভারতের মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রের নাম কি?

উত্তর : - ইসরো (ISRO)। 

৩০) ভারতের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহের নাম কি?

উত্তর : - আর্য ভট্ট। 

৩১) ভারতের প্রথম মহাকাশচারী কে ছিলেন?

উত্তর : - রাকেশ শর্মা। 

৩২) ভারতের চন্দ্রায়ন -1 কত সালে চাঁদে অবতরণ করে? 

উত্তর : - ২০০৮ সালে। 

৩৩) কোন প্রাণী প্রথম মহাকাশে যায়?

উত্তর : - লাইকা নামে একটি কুকুর। 

৩৪) পৃথিবীর প্রথম মহাকাশচারী কে ছিলেন?

উত্তর : - ইউরি গ্যাগারিন। 

৩৫) প্রথম মহিলা মহাকাশচারীর নাম কি ছিল?

উত্তর : - ভ্যালেন্তিনা তেরেসকোভা। 

৩৬) কারা প্রথম চাঁদে অবতরণ করেন?

উত্তর : - নীল আমস্ট্রং ও এডুইন অলড্রিন। 

৩৭) শনি ছাড়া সৌরজগতের আর কোন গ্রহের বলয় আছে ?

উত্তর : - ইউরেনাস গ্রহের। 

৩৮) প্রথম ভারতীয় মহিলা যিনি মহাকাশে পাড়ি দেন ?

উত্তর : - কল্পনা চাওলা , ১৯৯৭ সালে। 


দুটি বা তিনটি বাক্যে উত্তর দাও : - 2 / 3 / 4 Marks

১) নীহারিকা থেকে কিভাবে নক্ষত্রের জন্ম হয় ?

উত্তর : - মহাবিশ্ব সৃষ্টির সময় যে অসংখ্য ধূলিকণা ও গ্যাসের মহাজাগতিক মেঘ তৈরি হয় তা হলো নীহারিকা (Nebula)। এই নীহারিকা থেকেই তারা বা নক্ষত্রের জন্ম হয়। মহাবিশ্ব সৃষ্টির প্রায় দশ লক্ষ বছর পরে গ্যাসীয় পদার্থগুলো জমাট বাঁধতে শুরু করে। আর তাদের মধ্যে মধ্যে তৈরি হতে থাকে শূন্যস্থান। জমাট বাঁধা পদার্থগুলো প্রচণ্ড গতিতে একে অপরের সঙ্গে মিলে গিয়ে প্রকাণ্ড আকারের জ্বলন্ত নক্ষত্রের জন্ম দেয় ৷


২) দিনের বেলায় তারা দেখা যায় না কেন ?

উত্তর : -দিনের বেলায় তারা দেখা যায় না কারণ সূর্যের তীব্র আলো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ে (Rayleigh scattering), ফলে আকাশ উজ্জ্বল নীল দেখায় এবং এই উজ্জ্বলতার কারণে অনেক দূরের, ক্ষীণ তারার আলো ঢাকা পড়ে যায়, যা আমাদের চোখে ধরা পড়ে না; তারা কিন্তু সব সময় আকাশে থাকে, কেবল দিনের আলোয় তাদের দেখা যায় না। 


৩) তারা গুলো মিটমিট করে কেন ?

উত্তর : -তারাগুলো মিটমিট করে জ্বলে কারণ তাদের আলো পৃথিবী'র বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন স্তর ভেদ করে আসার সময় বাতাসের তাপমাত্রা ও ঘনত্বের তারতম্যের কারণে বারবার প্রতিসৃত বা বেঁকে যায়, ফলে পর্যবেক্ষকের চোখে আসা আলোর পরিমাণে পরিবর্তন ঘটে এবং তারাগুলোকে উজ্জ্বল বা অনুজ্জ্বল মনে হয়, যা মিটমিট করার মতো দেখায়; এই ঘটনাকে বায়ুমণ্ডলীয় প্রতিসরণ (Atmospheric Refraction) বা অ্যাস্ট্রোনোমিক্যাল স্কিন্টিলেশন (Astronomical Scintillation) বলা হয়।


৪) সৌরজগতের কিভাবে সৃষ্টি হয় ?

উত্তর : - আকাশগঙ্গার লক্ষ কোটি তারার মধ্যে একটি মাঝারি হলুদ তারা হলো সূর্য। প্রায় ৪৬০ কোটি বছর আগে মহাশূন্যে ভাসমান ধূলিকণা, হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাসের বিশাল মেঘ সংকুচিত হয়ে জমাট বেঁধে তৈরি হয় সূর্য। সদ্য জন্মানো নক্ষত্রে মহাকর্ষের কারণে পরমাণু পরমাণুতে ধাক্কা লেগে প্রচণ্ড তাপ আর শক্তি তৈরি হয়। এর ফলে জ্বলন্ত আগুনের গোলার মতো সূর্য থেকে আলো, উত্তাপ ছড়িয়ে পড়তে থাকে। অবশিষ্ট ধূলিকণা, গ্যাস সূর্যের আকর্ষণে সূর্যের চারিদিকে প্রদক্ষিণ করতে থাকে। লক্ষ লক্ষ বছর ধরে এই ধুলোর মেঘ থেকে তৈরি হয় পৃথিবী ও অন্য গ্রহ, উপগ্রহ। এই সবকিছু নিয়েই সৃষ্টি হয় সৌরজগৎ (Solar System) বা সৌরপরিবার যার কেন্দ্রে অবস্থান করছে স্বয়ং সূর্য। সূর্যকে ঘিরে গ্রহ, উপগ্রহ, গ্রহাণুপুঞ্জ প্রভৃতি প্রদক্ষিণ করে চলেছে।


৫) সূর্যের বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো। 

উত্তর : - i) আকাশগঙ্গা ছায়াপথের কেন্দ্র থেকে কিছুটা দূরে, প্রান্তভাগে আমাদের সৌরজগৎ অবস্থিত।

ii) সূর্যের বাইরের অংশের উষ্ণতা প্রায় ৬০০০° সেন্টিগ্রেড।

iii) সূর্যের ভেতরের অংশের উষ্ণতা প্রায় ১.৫ কোটি° সেন্টিগ্রেড।

iv) সূর্য পৃথিবীর চেয়ে প্রায় ১৩ লক্ষ গুণ বড়ো।

v) সূর্য পৃথিবীর চেয়ে প্রায় ৩ লক্ষ গুণ ভারী।

vi) সূর্যরশ্মির ২০০ কোটি ভাগের এক ভাগ মাত্র পৃথিবীতে এসে পৌঁছায়।

vii) সূর্যের গায়ে যেখানে উত্তাপ তুলনামূলক কম, সেসব স্থান কম উজ্জ্বল দেখায় এবং কালো দাগের মতো মনে হয়—এগুলিকে সৌরকলঙ্ক বলা হয়।

viii) চাঁদ সূর্যের তুলনায় বহুগুণ ছোট হলেও সূর্যের তুলনায় পৃথিবীর অনেক বেশি কাছে থাকায় পৃথিবী থেকে চাঁদ ও সূর্যকে প্রায় সমান আকারের মনে হয়।


৬) সৌরঝড় (Solar Storm) কাকে বলে ?

উত্তর : - সূর্যের বাইরের অংশে (করোনা) ছোটো ছোটো বিস্ফোরণ হলে প্রচুর পরিমাণে আয়নিত কণা, গ্যাস, রশ্মি চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। একে সৌরঝড় (Solar Storm) বলে। প্রতি ১১ বছর অন্তর এই ঝড় জোরালো হয়। তখন পৃথিবীর কৃত্রিম উপগ্রহ, যোগাযোগ ব্যবস্থায় গোলযোগ দেখা দেয় ৷


৭) গ্রহের বৈশিষ্ট গুলো কি কি ?

উত্তর : - i) গ্রহের নিজস্ব আলো ও উত্তাপ নেই। 

ii) নক্ষত্রের আলোয় আলোকিত হয়।

iii) নক্ষত্রের আকর্ষণে নক্ষত্রের চারদিকে ঘোরে ।

iv) গ্রহ নক্ষত্রের থেকে অনেক ছোটো হয় ।


৮) বামন গ্রহ কাকে বলা হয় ?

উত্তর : -বামন গ্রহ হলো এমন একটি মহাজাগতিক বস্তু যা সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে, নিজের মহাকর্ষের প্রভাবে প্রায় গোলাকার আকার ধারণ করে, কিন্তু তার কক্ষপথের আশপাশের অন্যান্য ছোট মহাজাগতিক বস্তু সরিয়ে দিতে পারেনা (অর্থাৎ নিজের কক্ষপথকে পরিষ্কার রাখেনি)। প্লুটো, সেরেস, এরিস, হাউমিয়া, ও মেকমেক পরিচিত বামন গ্রহের উদাহরণ। 


৯) উপগ্রহ কাকে বলে ?

উত্তর : -যে জ্যোতিষ্কগুলো নিজের আলো ও উত্তাপ ছাড়াই গ্রহের আকর্ষণে গ্রহের চারিদিকে ঘোরে তাদের উপগ্রহ (Satellite) বলে।

চাঁদ পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ। পৃথিবী থেকে এর দূরত্ব ৩ লক্ষ ৮৪ হাজার কিমি। পৃথিবীর আয়তনের চার ভাগের এক ভাগের সমান চাঁদ। 


১০) গ্রহাণুপুঞ্জ কি ?

উত্তর : - গ্রহাণুপুঞ্জ গ্রহের মতোই খুব ছোটো ছোটো জ্যোতিষ্ক (গ্রহাণু) নির্দিষ্ট কক্ষপথে সূর্যের চারিদিকে পাক খায়। এদের একসঙ্গে গ্রহাণুপুঞ্জ (Asteroids) বলে। মঙ্গল আর বৃহস্পতির মাঝে প্রায় ৪০ হাজার গ্রহাণুপুঞ্জ দেখা যায়। 


১১) উল্কা কি ?

উত্তর : - মেঘহীন রাতের আকাশে অনেক সময় হঠাৎ আলোর রেখা নেমে আসতে দেখা যায়। একে সাধারণভাবে তারা খসা বলা হয়। আসলে এটি হলো উল্কাপাত। ধূমকেতু ও গ্রহাণুপুঞ্জের ভাঙা টুকরো মহাকাশে ছড়িয়ে থাকে। সেগুলি পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণের মধ্যে এসে পড়লে প্রচণ্ড বেগে পৃথিবীর দিকে ছুটে আসে। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের সঙ্গে ঘর্ষণের ফলে সেগুলি জ্বলতে শুরু করে। এই জ্বলন্ত আগুনের ফুলকিগুলোকেই অন্ধকার আকাশে তারা বলে ভুল হয়। অধিকাংশ উল্কাই বাতাসে পুড়ে নিঃশেষ হয়ে যায়। তবে কখনও কখনও বড়ো উল্কার কিছু অংশ পৃথিবীর বুকে এসে পড়ে।


১২) স্পেস শাটল কি ?

উত্তর : - স্পেস শাটল হলো একটি বিশেষ ধরনের পুনঃব্যবহারযোগ্য মহাকাশযান। এটি রকেটের সাহায্যে পৃথিবী থেকে মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হয় এবং কাজ শেষ হলে আবার পৃথিবীতে ফিরে আসে। স্পেস শাটল ব্যবহার করে মহাকাশচারীদের মহাকাশে পাঠানো, কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণ ও মেরামত, বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং মহাকাশ স্টেশন নির্মাণের কাজ করা হয়। এটি বিমানের মতো রানওয়েতে অবতরণ করতে পারে।


১৩) কৃত্রিম উপগ্রহ কি ?

উত্তর : - কৃত্রিম উপগ্রহ হলো মানুষের তৈরি এমন একটি যন্ত্র বা মহাকাশযান, যা রকেট দ্বারা পৃথিবীর কক্ষপথে স্থাপন করা হয় এবং নির্দিষ্ট কাজে ব্যবহৃত হয়, যেমন যোগাযোগ, আবহাওয়ার পূর্বাভাস, GPS নেভিগেশন, বৈজ্ঞানিক গবেষণা ইত্যাদি; এটি প্রাকৃতিক উপগ্রহ (যেমন চাঁদ) থেকে আলাদা, কারণ এটি মানুষের দ্বারা নির্মিত ও নিয়ন্ত্রিত। 



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0মন্তব্যসমূহ

Enter Your Comment

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)