গুরুত্বপূর্ণ বাগধারা থেকে বাংলা বাগধারার তালিকা ও অর্থ : বাগধারা বাক্য রচনা। বাংলা বাগধারার তালিকা সাজেশান

0

বাগধারা বাক্য রচনা, গুরুত্বপূর্ণ বাগধারা ও পরিশিষ্ট:বাংলা বাগধারার তালিকা

গুরুত্বপূর্ণ বাগধারা থেকে বাংলা বাগধারার তালিকা ও অর্থ : বাগধারা বাক্য রচনা। বাংলা বাগধারার তালিকা সাজেশান


তোমাদের সবাইকে স্বাগত পশ্চিমবঙ্গের নম্বর 1 শিক্ষামূলক ওয়েবসাইট Info Educations-এ। আজকের আলোচ্য বিষয় হলো সপ্তম শ্রেণীর গুরুত্বপূর্ণ বাগধারার তালিকাসহ বাক্যরোচনা। এই লেখাটিতে আমরা একসঙ্গে তুলে ধরেছি বাগধারা উদাহরণ, ১০০ বাগধারা, এবং গুরুত্বপূর্ণ বাগধারা, যাতে ছাত্রছাত্রীরা সহজেই বাগধারা বাক্য রচনা শিখতে পারে। যারা বাংলা ব্যাকরণ/বাগধারা অংশটি ভালোভাবে প্রস্তুত করতে চাও, তাদের জন্য এটি একটি সম্পূর্ণ সহায়ক পোস্ট। এই সংকলনে দেওয়া হয়েছে বাংলা বাগধারার তালিকা ও অর্থ, পাশাপাশি রয়েছে পরিশিষ্ট:বাংলা বাগধারার তালিকা, যাতে দ্রুত রিভিশন করা যায়। বিশেষ করে যারা পরীক্ষার আগে ঝালিয়ে নিতে চাও, তাদের জন্য এই ৫০+ বাংলা বাগধারা তালিকা । চাকরি প্রস্তুতির সেরা সংকলন ভীষণ কাজে লাগবে। আশা করি, এই লেখাটি তোমাদের পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ প্রস্তুতিতে অনেক সাহায্য করবে।


৫০+ বাংলা বাগধারা তালিকা || চাকরি প্রস্তুতির সেরা সংকলন


১. অকালের বাদলা — অপ্রত্যাশিত ঝামেলা বা বিপদ; অসময়ে ঘটে যাওয়া সমস্যা।

২. আক্কেল গুড়ুম — স্তম্ভিত ভাব, হতবুদ্ধি অবস্থা।

৩. ইঁদুরের কলে পড়া — লোভ করতে গিয়ে ফাঁদে পড়া বা আটকে পড়া।

৪. উচ্ছন্নে যাওয়া — চরিত্রের অবনতি হওয়া।

৫. এঁচড়ে (ইঁচড়ে) পাকা — ডেঁপো, জ্যাঠা, অকালপক্ব; অল্প বয়সেই পেকে গেছে এমন (এঁচড়ে পাকা ছেলে)।

৬. এঁটোকাঁটা — খাবার পর যেসব উচ্ছিষ্ট পড়ে থাকে।

৭. একাই একশো — একাই সমস্ত প্রতিকূল অবস্থা সামলাতে পারে এমন।

৮. ওজন বুঝে চলা — মর্যাদা ও গুরুত্ব বুঝে চলা।

৯. কড়ায় গণ্ডায় — সূক্ষ্ম হিসাবমতো; হিসাবে কিছুই বাদ না দিয়ে।

১০. করাতের দাঁত — উভয় সংকট।

১১. কূপমণ্ডূক — কুনো বা সংকীর্ণচেতা লোক।

১২. খাতা খোলা — হিসাবপত্র আরম্ভ করা; লেনদেন শুরু করা।

১৩. গড্ডলিকা প্রবাহ — ভালো-মন্দ বিচার না করে সকলে যা করে তাই অনুসরণ করা লোকের দল।

১৪. গলগ্রহ — দায় বা বোঝা।

১৫. ঘর আলো করা — ঘর বা পরিবারের শোভা/গৌরব বৃদ্ধি করা।

১৬. ঘোড়া ডিঙিয়ে ঘাস খাওয়া — উপরওলাকে উপেক্ষা করে বা অতিক্রম করে কার্যসিদ্ধির চেষ্টা করা।

১৭. ঘোল খাওয়া — নাকাল বা জব্দ হওয়া।

১৮. চড়ুইপাখির প্রাণ — ক্ষীণজীবী; অত্যন্ত দুর্বল লোক।

১৯. চোখে চোখে রাখা — দৃষ্টির আড়ালে যেতে না দেওয়া; সতর্ক দৃষ্টি রাখা।

২০. ছড়ি ঘোরানো — অশোভন বা বিরক্তিকরভাবে সর্দারি/মাতব্বরি করা।

২১. জড়ভরত — জড়বুদ্ধি বা জড়তাগ্রস্ত লোক।

২২. ঝড় তোলা — প্রবল ব্যস্ততা বা গতিসম্পন্ন উদ্যোগ শুরু করা।

২৩. টিপ্পনি কাটা — ছোটো ছোটো বাঁকা/ঝাঁঝালো উক্তি বা মন্তব্য করা।

২৪. ঠিকে কাজ — নির্দিষ্ট মজুরিতে কাজ।

২৫. ড্যাং ড্যাং করে — কাউকে কোনো তোয়াক্কা না করে/বিজয়গর্বে চলা।

২৬. ঢোক গেলা — কথা বলার সময় ইতস্তত করা।

২৭. তড়বড় করা — তাড়াহুড়ো করা; অত্যধিক ব্যস্ততার ভাব দেখানো।

২৮. থাতামুতো দেওয়া — জোড়াতালি দেওয়া; দায়সারাভাবে করা।

২৯. দরকচা — কাঁচাও নয়, পাকাও নয়—এমন অবস্থা।

৩০. ধড়ে প্রাণ আসা — বিপদ থেকে পরিত্রাণের সম্ভাবনা দেখে বা উদ্ধার পেয়ে স্বস্তিলাভ।

৩১. নয়-ছয় করা — অপব্যয় করা; তছনছ করা; পণ্ড করা।

৩২. পটের বিবি — সেজেগুজে বসে থাকে এমন বিলাসী ও নিষ্কর্মা মেয়ে।

৩৩. ফাটাকপাল — মন্দভাগ্য।

৩৪. বাঘা-বাঘা — বিরাট; বড়ো-বড়ো।

৩৫. ভাঁড়ে মা ভবানী — ভাণ্ডার শূন্য; একেবারে দরিদ্র/নিঃস্ব অবস্থা।

৩৬. মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা — লোকের উপর আরও পীড়ন।

৩৭. যত নষ্টের গোড়া — সবরকম অন্যায় বা ক্ষতির আসল কারণ।

৩৮. রাঘব-বোয়াল — অত্যাচারী ও অন্যের ধনসম্পদ আত্মসাৎকারী প্রভাবশালী লোক।

৩৯. লক্ষ্মীর বরযাত্রী — সুসময়ের বন্ধু বা সঙ্গী।

৪০. শাক দিয়ে মাছ ঢাকা — কুকর্ম গোপন করার বৃথা চেষ্টা।

৪১. ষাঁড়ের গোবর — অকর্মণ্য বা অপদার্থ লোক।

৪২. সর্বঘটে কাঁঠালি কলা — সব ব্যাপারেই যে অবাঞ্ছিত বা বিরক্তিকরভাবে উপস্থিত থাকে।

৪৩. রাঘব বোয়াল (খুব লোভী) —

শেষ পর্যন্ত চোরাকারবারের রাঘব বোয়ালরা পুলিশের ফাঁদে ধরা পড়ল।


৪৪. রফা নিষ্পত্তি (মিটমাট করা) —

এ নিয়ে আর কত টালবাহানা করবে, একটা রফা নিষ্পত্তি করে নাও—ঝামেলা চুকে যাক।


৪৫. শিবরাত্রীর সলতে (একমাত্র অবলম্বন) —

বংশীবদন রায় বাড়ির শিবরাত্রীর সলতে; সে ছাড়া বংশে বাতি দেওয়ার কেউ আর বেঁচে নেই।


৪৬. সোনায় সোহাগা (মনিকা‌ঞ্চন যোগ) —

ছেলেটির যেমন সুন্দর চেহারা, তেমনি অশেষ গুণ—যেন সোনায় সোহাগা।


৪৭. হাতটান (চুরিস্বভাব) —

চাকরটার একটু হাতটান আছে, ভালো করে লক্ষ্য রেখো; নইলে ফাঁক পেলেই এটা-ওটা সরিয়ে ফেলবে।


৪৮. হাটে হাঁড়ি ভাঙা (গুপ্ত কথা প্রকাশ করে দেওয়া) —

আমাকে বেশি ঘাঁটিও না বলছি, হাটে হাঁড়ি ভেঙে দেব—তখন সমাজে মুখ দেখাতে পারবে না।


৪৯. হিতে-বিপরীত (ভাল করতে গিয়ে মন্দ হওয়া) —

তার ভালর জন্যই কথাটা বলতে গিয়েছিলাম, সে গেল চটে—হিতে বিপরীত হল।


৫০. হাত করা (মতে আনয়ন) —

পুলিশকে হাত করে রায়বাড়ির খুনের ঘটনাটা চাপা দেওয়ার চেষ্টা পাড়ার লোকদের হস্তক্ষেপে ভেস্তে গেল।


৫১. হাতের পাঁচ (শেষ সম্বল) —

প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকাটাই এই বুড়ো বয়সে আমার হাতের পাঁচ; এটা আমি তোমাদের জন্য খরচ করতে পারব না।


৫২. হ-য-ব-র-ল (বিশৃঙ্খল) —

তোমাদের এই হ-য-ব-র-ল কাজে মাথামুণ্ডু কিছুই বুঝি না।


৫৩. চোখে সর্ষে ফুল দেখা (একান্ত কাতর হওয়া) —

অল্প মাইনেয় এত বড় সংসার চালাতে গিয়ে এখন আমার চোখে সর্ষে ফুল দেখছি।


৫৪. ননীর পুতুল (আরামপ্রিয়, কঠিন পরিশ্রমে অক্ষম) —

জীবনটা কঠোর সংগ্রামক্ষেত্র; এখানে ননীর পুতুল হয়ে “পারব না” বলে ঘরে বসে থাকা চলে না।


৫৫. নাম ডোবানো (সুনাম নষ্ট করা) —

আমাদের ইংরেজির ভালো শিক্ষক মহিমবাবার ছেলে মাধ্যমিক পরীক্ষায় ফেল করে বাপের নাম ডোবাল।


৫৬. নয়নের মণি (একান্ত প্রিয়) —

নরেন কীভাবে যে শিবনাথবাবুর এমন নয়নের মণি হলো, বুঝতে পারি না।


৫৭. পটল তোলা (মৃত্যু—ব্যঙ্গার্থে) —

এই সামান্য জ্বরেই সে যে পটল তুলে চিরবিদায় নেবে, একথা আমরা কেউই ভাবিনি।


৫৮. পুকুর চুরি (বড় রকমের চুরি) —

যুদ্ধের বাজারে সিমেন্টের পারমিট পেয়ে ধীরেনবাব বস্তা বস্তা নয়, গাড়ি গাড়ি সিমেন্ট ব্ল্যাক করতে লাগলেন—একেবারে পুকুর চুরি।


৫৯. পাকা ধানে মই (গুরুতর ক্ষতি করা) —

আমি তোমার কী এমন পাকা ধানে মই দিয়েছি যে, তুমি আমার সঙ্গে এমন শত্রুতা করছ?


৬০. ব্যাঙের আধুলি (কষ্টার্জিত সামান্য অর্থ) —

অনেক কষ্টে ব্যাঙের আধুলি পাঁচশো টাকা জমিয়েছি; তা যদি বাজে খরচ কর, দুঃখ হয় না কি?


৬১. বালির বাঁধ (ক্ষণস্থায়ী) —

আমি তখনই জানতাম, কোটিপতি ছেলের সঙ্গে বন্ধুত্ব করা মানে বালির বাঁধ ছাড়া কিছুই নয়।


৬২. বুকের পাটা (সাহস) —

তোমার বুকের পাটা তো কম নয় হে! তুমি আবার শন্তু মাস্তানের কাছে গিয়ে কৈফিয়ত চাইতে গেছ!


বাগধারা বাক্য রচনা, গুরুত্বপূর্ণ বাগধারা ও পরিশিষ্ট:বাংলা বাগধারার তালিকা


নীচের প্রতিটি বাগধারাকে বাক্যে প্রয়োগ করো : 


১. হরিহর আত্মা


অর্থ: অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধু; অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক।

বাক্য: রাম আর শ্যাম ছোটবেলা থেকে এমন হরিহর আত্মা যে একজন ছাড়া অন্যজনকে ভাবাই যায় না।


২. শিরে সংক্রান্তি


অর্থ: বড় বিপদ বা গুরুতর সমস্যা এসে পড়া।

বাক্য: পরীক্ষার ঠিক আগে অসুস্থ হয়ে পড়া যেন আমার শিরে সংক্রান্তি হয়ে দাঁড়াল।


৩. হাতের পাঁচ


অর্থ: শেষ সম্বল বা একমাত্র ভরসা।

বাক্য: এই জমিটুকুই এখন তার হাতের পাঁচ, একে বিক্রি করতে সে রাজি নয়।


৪. মুনীনা মতিভ্রম


অর্থ: হঠাৎ বুদ্ধিভ্রম; ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া।

বাক্য: হঠাৎ মুনীনা মতিভ্রমে পড়ে সে এমন সিদ্ধান্ত নিল যে পরে খুব অনুতাপ করল।


৫. বাস্তুঘুঘু


অর্থ: ঘরে স্থির থাকতে না পারা লোক; সবসময় এদিক-ওদিক ঘোরে যে।

বাক্য: ওই ছেলেটা সারাদিন বাড়ির এদিক-ওদিক ঘুরে বেড়ায়, একেবারে বাস্তুঘুঘু।


৬. বালির বাঁধ


অর্থ: ক্ষণস্থায়ী বা টেকসই নয় এমন কিছু।

বাক্য: পরিশ্রম ছাড়া সাফল্যের আশা করা বালির বাঁধ গড়ার মতো।


৭. ভূতের বেগার


অর্থ: বিনা কারণে অত্যন্ত কষ্টকর পরিশ্রম।

বাক্য: ওর কাজটা করতে গিয়ে আমার ভূতের বেগার খাটতে হলো।


৮. বিনা মেঘে বজ্রপাত


অর্থ: হঠাৎ ঘটে যাওয়া বড় দুর্ঘটনা বা বিপদ।

বাক্য: চাকরি চলে যাওয়ার খবরটা তার কাছে বিনা মেঘে বজ্রপাত হয়ে এল।


৯. ভস্মে ঘি ঢালা


অর্থ: রাগ বা সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দেওয়া।

বাক্য: রাগী লোককে আরও উসকানি দেওয়া মানে ভস্মে ঘি ঢালা।


১০. ভাগের মা


অর্থ: ভাগ্যক্রমে লাভবান হওয়া লোক।

বাক্য: পরিশ্রম না করেও সে ভাগের মা হয়ে ভালো ফল পেয়ে গেল।


১১. বকধার্মিক


অর্থ: বাইরে ধার্মিক, ভেতরে ভণ্ড লোক।

বাক্য: সে বাইরে খুব সাধু সাজে, কিন্তু আসলে একেবারে বকধার্মিক।


১২. বিদুরের ক্ষুদ


অর্থ: অল্প হলেও অত্যন্ত প্রয়োজনীয় সাহায্য।

বাক্য: এই সামান্য সাহায্য বড় সমস্যায় বিদুরের ক্ষুদের মতো কাজ করল।


১৩. দিল্লিকা লাড্ডু


অর্থ: পেলে ভালো, না পেলেও ক্ষতি নেই—এমন বস্তু বা সুযোগ।

বাক্য: ওই চাকরিটা একেবারে দিল্লিকা লাড্ডু—পেলে ভালো, না পেলেও মন খারাপ।


১৪. নয়-ছয়


অর্থ: বিশৃঙ্খল বা তছনছ হয়ে যাওয়া।

বাক্য: ঝড়ে বাজারের সব দোকান নয়-ছয় হয়ে গেল।


১৫. তীর্থের কাক


অর্থ: বিশেষ সময়ে কেবল উপস্থিত হওয়া লোক।

বাক্য: পরীক্ষার সময় সে তীর্থের কাকের মতোই কেবল দেখা দেয়।


১৬. পগার পার


অর্থ: জীবিকা নির্বাহ করা; কোনোমতে খরচ চালানো।

বাক্য: সারাদিন খাটুনি খাটার পরেও সে কোনো মতে পগার পার করতে পারে।


১৭. ঠোঁটকাটা


অর্থ: মুখের ওপর কথা বলে এমন লোক।

বাক্য: ও মেয়েটা খুব ঠোঁটকাটা, যা মনে আসে তাই বলে ফেলে।


১৮. টাকার কুমির


অর্থ: অত্যন্ত লোভী ও অর্থপিপাসু লোক।

বাক্য: সুদখোর লোকটা একেবারে টাকার কুমির, মানুষের দুঃখ বোঝে না।


১৯. গোকুলের ষাঁড়


অর্থ: কারও কথা না শোনা, নিয়ন্ত্রণহীন লোক।

বাক্য: সে কারও কথা শোনে না, একেবারে গোকুলের ষাঁড়।


২০. ছাইচাপা আগুন


অর্থ: বাইরে শান্ত, ভেতরে চাপা রাগ বা বিদ্বেষ।

বাক্য: ও শান্ত থাকলেও তার মনে এখনও ছাইচাপা আগুন জ্বলছে।



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0মন্তব্যসমূহ

Enter Your Comment

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)