সপ্তম শ্রেণির ভূগোল: পৃথিবীর পরিক্রমণ – প্রথম অধ্যায় প্রশ্ন ও উত্তর (সম্পূর্ণ আলোচনা) । Class VII Geograohy Suggestions

0

Poschimbongo Class Seven Vugol Prothom Odhyai Prithibir Porikromon

সপ্তম শ্রেণির ভূগোল: পৃথিবীর পরিক্রমণ – প্রথম অধ্যায় প্রশ্ন ও উত্তর (সম্পূর্ণ আলোচনা) । Class VII Geograohy Suggestions
সপ্তম শ্রেণীর ভূগোলের প্রথম অধ্যায় “পৃথিবীর পরিক্রমণ” বিষয়টি ছাত্রছাত্রীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এখানে Class VII Geography Chapter Wise Question & Answers, WBBSE Class 7 Geography Chapter 1 Solution, এবং ক্লাস 7 ভূগোল প্রথম অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করা হয়েছে। সপ্তম শ্রেণীর পাঠ্য ভূগোল বিভাগের পৃথিবীর পরিক্রমণ অধ্যায় থেকে প্রশ্ন উত্তর আলোচনা, MCQ, সংক্ষিপ্ত, অতি সংক্ষিপ্ত ও রচনাধর্মী প্রশ্ন, সবকিছুই এখানে পাওয়া যাবে। Class Seven Vugol Prothom Odhyai Prithibir Porikromon, পৃথিবীর পরিক্রমণ class 7 প্রশ্ন উত্তর, এবং WBBSE Class 7th Geography Question and Answer খুঁজে পেতে আর অসুবিধা হবে না। সপ্তম শ্রেণীর সকল শিক্ষার্থীর জন্য এই Geography Chapter 1 প্রশ্ন ও উত্তর সম্পূর্ণ সহায়ক ও পরীক্ষায় ১০০% উপকারী হবে।


পৃথিবীর পরিক্রমণ (প্রথম অধ্যায়) MCQ, সংক্ষিপ্ত, অতি সংক্ষিপ্ত এবং রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর


১।  সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো : 


(i) পৃথিবীর কক্ষপথটি - (a) বৃত্তাকার, (b) উপবৃত্তাকার, (c) চৌকাকার, (d) গোলাকার।

Ans : - (b) উপবৃত্তাকার


(ii) পৃথিবী  সূর্যের মধ্যেকার সর্বনিম্ন দূরত্বকে বলে- (a) অনুসূর (b) অপসূর, (c) বিষুব, (d) রবিমার্গ।

Ans : - (a) অনুসূর


(iii) বিষুবরেখার অপর নাম -  (a) কর্কটক্রান্তি রেখা, (b) মকরক্রান্তি রেখা, (c) নিরক্ষরেখা, (d) মেরুদেশীয়রেখা।

Ans : - (c) নিরক্ষরেখা


(iv) দক্ষিণমেরু মান- (a) 90° , (b) 90°  :, (c) 90° পু : , (d) 90° 

Ans : - (b) 90°  :


(v) মহাবিষুবের তারিখটি হল- (a) 21 শে মার্চ  (b) 22 শে মার্চ (c) 23 শে মার্চ।

Ans : - (b) 22 শে মার্চ


(vi) কুমেরু প্রভা লক্ষ্য করা যায়  - (a) মরু অঞ্চলে (b)  উত্তর মেরুতে (c) দক্ষিণ মেরুতে।

Ans : - (c) দক্ষিণ মেরুতে


(vii) অপসূর অবস্থান উত্তর গোলার্ধে - (a) শীত (b) গ্রীষ্ম (c) শরৎ (d) বসন্ত ঋতুতে হয়।

Ans : - (b) গ্রীষ্ম


(viii) অধিবর্ষে দিনের সংখ্যা বৃদ্ধি পায় –  (a) এপ্রিল মাসে,  (b) ফেব্রুয়ারি মাসে,  (c) জুলাই মাসে,  (d) মে মাসে।

Ans : - (b) ফেব্রুয়ারি মাসে


(ix) পৃথিবীর উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত সর্বত্রই দিন-রাত্রি সমান হয়- (a) ২১শে জুন (b) ২১শে মার্চ (c) ২৩শে সেপ্টেম্বর (d) ১২ই ডিসেম্বর।

Ans : - (b) ২১শে মার্চ (c) ২৩শে সেপ্টেম্বর


(x) পৃথিবীর কোনো বস্তুর মুক্তিবেগ এর মান হলো প্রতি সেকেন্ডে - (a) 11.5.কিমি. (b) 12.2 কিমি. (c) 11.2 কিমি. (d) 10.2 কিমি.

Ans : - (c) 11.2 কিমি.


(xi) অপসূর অবস্থান ঘটে —(a)  জানুয়ারি (b) 4 জুলাই (c) ২১ মার্চ

Ans : - (b) 4 জুলাই


(xii) সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্ব সবচেয়ে বেশি হয় — (a)  জানুয়ারি (b)  জুলাই (c) ২১সেপ্টেম্বর

Ans : - (b)  জুলাই


(xiii) উত্তরায়ণ দিবস দেখা যায় — (a) ২১ মার্চ (b) ২১ জুন (c) ২৪ সেপ্টেম্বর (d) ২২ ডিসেম্বর

Ans : - (b) ২১ জুন


(xiv) পৃথিবীর অনুসূর (Perihelion) অবস্থানের দিনটি হল — (a)  জুলাই (b) ১৫ আগস্ট (c)  জানুয়ারি (d)  ফেব্রুয়ারি

Ans : - (c)  জানুয়ারি



২।  শুন্যস্থান পূরণ করো :


সূর্যের উত্তরায়নের সময় ______টানা ছয়মাস দিন এবং _________টানা ছয়মাস রাত হয়।

উত্তর : -  সুমেরুতে কুমেরুতে


সূর্যের দক্ষিণায়নের সময় ______টানা ছয়মাস দিন এবং _________টানা ছয়মাস রাত হয়।

উত্তর : -  কুমেরুতে সুমেরুতে


পৃথিবীর দুই ______ সারাবছর সূর্যের এল বাঁকা ভাবে পড়ে।

উত্তর : -  মেরুবৃত্তে


______পর সূর্যের দক্ষিণায়ন শুরু হয়।

উত্তর : -  ২১ শে জুনের


বছরে ____  ________ তারিখে বিষুব রেখায় সূর্যের লম্বরশ্মি পড়ে।

উত্তর : - ২১ শে মার্চ  ২৩ শে সেপ্টেম্বর


__________ কর্কটক্রান্তি রেখায় এবং ________ মকরসংক্রান্তি রেখায় সূর্যের রশ্মি লম্বভাবে পড়ে।

উত্তর : - ২১ শে জুন২২ শে ডিসেম্বর।


সূর্যের রশ্মি ____ভাবে পড়লে বেশি জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে কিন্তু কম উত্তপ্ত করে।

উত্তর : - তির্যক


সূর্যের রশ্মি লম্ব ভাবে পড়লে _______ জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে কিন্তু _____ উত্তপ্ত করে।

উত্তর : - কম বেশি।


পৃথিবী কক্ষতলের সঙ্গে _________ কোণে হেলে অবস্থান করে ?

উত্তর : - 66 1/2°


১০অধিবর্ষে ফেব্রুয়ারী _________ দিনে হয়।

উত্তর : - ২৯ দিনে।


 

৩।  সত্য / মিথ্যা নির্ণয় করো : -

 

২০১৪ সাল হলো অধিবর্ষ।

উত্তর : - মিথ্যা।


চান্দ্রমাস ২৮ দিনে হয়।

উত্তর : - মিথ্যা।


মুক্তিবেগের মান ১১. কিমি / সেকেন্ড।

উত্তর : - সত্য।


পৃথিবী উপবৃত্তাকার কক্ষপথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে।

উত্তর : - সত্য।


জুলাই মাসে সূর্য পৃথিবীর খুব কাছে আসে।

উত্তর : - মিথ্যা।


বিজ্ঞানীরা আন্টার্কটিকা মহাদেশের ডিসেম্বর মাসে যায়।

উত্তর : - সত্য।


দুপুর ১২টায় ছায়ার দৈর্ঘ্য সবচেয়ে বড়ো হয়।

উত্তর : - মিথ্যা।


)  উত্তরগোলার্ধে শীতকালে সবথেকে বড়ো দিন হয়।

উত্তর : - মিথ্যা।

 

সপ্তম শ্রেণীর ভূগোল পৃথিবীর পরিক্রমণ প্রশ্ন উত্তর


৪।  প্রশ্নের মান -  2 / 3 / 5 

) মহাকর্ষ কি ?

উত্তর : -  মহাকর্ষ হলো মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তুকণার মধ্যে আকর্ষণ বল, যা তাদের ভরের উপর নির্ভর করে। দুটি বস্তুর মধ্যে এই আকর্ষণ বলের মান তাদের ভরের গুণফলের সমানুপাতিক এবং তাদের কেন্দ্রদ্বয়ের মধ্যবর্তী দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক।

 

) পৃথিবীর অক্ষ কাকে বলে ?

 

উত্তর : - পৃথিবীর উত্তর বা সুমেরু মেরু এবং দক্ষিণ বা কুমেরু মেরু যে কাল্পনিক রেখার দ্বারা যুক্ত, তাকে পৃথিবীর অক্ষ বলে। অর্থাৎ  যে কাল্পনিক রেখা পৃথিবীর কেন্দ্রকে ছেদ করে উত্তর দক্ষিণে প্রবাহিত হয়েছে, তাকে পৃথিবীর অক্ষ বলা হয়।

 

) মেরু কাকে বলে ?

 

উত্তর : - মেরু বলতে পৃথিবীর ঘূর্ণন অক্ষের যে দুটি বিন্দু পৃথিবীর পৃষ্ঠকে ছেদ করে, তাদের বোঝানো হয়; একটি হল উত্তর মেরু এবং অন্যটি দক্ষিণ মেরু। উত্তর মেরুকে সুমেরু এবং দক্ষিণ মেরুকে কুমেরুও বলা হয়।

 

) মুক্তিবেগ কাকে বলে ?

 

উত্তর : - পৃথিবীর মহাকর্ষবল অতিক্রম করে কোনো বস্তুকে মহাশূন্যে পাঠাতে যে ন্যূনতম বেগ প্রয়োজন তাকে মুক্তিবেগ বলে। পৃথিবীর মুক্তিবেগ১১. কিমি/সেকেন্ড।

 

) কক্ষপথ কাকে বলে ?

 

উত্তর : - পৃথিবী বা যে কোনো গ্রহ সূর্যের চারদিকে যে উপবৃত্তাকার পথে ঘোরে তাকে কক্ষপথ বলে।

 

) কক্ষতল কাকে বলে ?

 

উত্তর : - সূর্যকে কেন্দ্র করে পৃথিবীর কক্ষপথ যে তল সৃষ্টি করে তাকে কক্ষতল (Orbital Plane) বলে।

 

) চিত্রসহ অপসূর অবস্থান কাকে বলে ?

 

উত্তর : -  জুলাই সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্ব সবচেয়ে বেশি হয় (প্রায় ১৫ কোটি ২০ লক্ষ কিমি) একে পৃথিবীর অপসূর অবস্থান (Aphelion) বলা হয়।

 

 

সপ্তম শ্রেণীর ভূগোল পৃথিবীর পরিক্রমণ প্রশ্ন উত্তর

) চিত্রসহ অনুসূর অবস্থান কাকে বলে ?

 

উত্তর : -  জানুয়ারি সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্ব সবচেয়ে কম হয় (প্রায় ১৪ কোটি ৭০ লক্ষ কিমি) একে পৃথিবীর অনুসূর অবস্থান (Perihelion) বলা হয়।

 

 

) চান্দ্রমাস কাকে বলে ?

 

উত্তর : - পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ হলো চাঁদ। চাঁদের পৃথিবীকে একবার পূর্ণ প্রদক্ষিণ করতে সময় লাগে ২৯ দিন ১২ ঘন্টা ৪৪ মিনিট সেকেন্ড , এই সময়কে চান্দ্রমাস বলে।

 

১০) সৌরবছর কাকে বলে ?

 

উত্তর : - পৃথিবী সূর্যকে একবার সম্পূর্ণ প্রদক্ষিণ করতে যে সময় নেয় (৩৬৫ দিন ঘণ্টা), তাকে সৌরবছর বলে।

 

১১) অধিবর্ষ কাকে বলে ?

 

উত্তর : - পৃথিবী সুর্যকে কেন্দ্র করে ৩৬৫ দিন ঘন্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডে একবার ঘুরে আসে। প্রতি বছরে ৩৬৫ দিনের পর ঘন্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড থেকে যাওয়ায় চার বছর পর সেটি বেড়ে প্রায় একদিনের সমান হয়ে যায়। তাই সেটাকে হিসেবের মধ্যে আনার জন্য চার দিয়ে বিভাজ্য বছরগুলোতে ফেব্রুয়ারি মাসে দিন যোগ করে ২৮ এর বদলে ২৯ দিনে মাস ৩৬৫ দিনের পরিবর্তে ৩৬৬ দিনে বছর ধরা হয়। এই বছর গুলোকে লিপইয়ার বা অধিবর্ষ ধরা হয়। ২০১২,২০১৬,২০২০, ২০২৪, ২০২৮,  ২০৩২, ২০৩৬, ২০৪০ সাল গুলো কিন্তু লিপইয়ার বা অধিবর্ষ।

 

১২) রবিমার্গ বা বার্ষিক আপাতগতি কি ?

 

উত্তর : - রবি কথার অর্থ হল সূর্য এবং মার্গ কথার অর্থ হল পথ।আপাতভাবে মনে হয় যে সূর্য পৃথিবীর বিষুবরেখা থেকে উত্তরে কর্কটক্রান্তি রেখা পর্যন্ত এবং দক্ষিনে মকরক্রান্তি রেখা পর্যন্ত চলাচল করে। এটাই সূর্যের বার্ষিক আপাতগতি বা রবিমার্গ।

 

১৩) দৈনিক আপাতগতি কাকে বলে ?

 

উত্তর : - পৃথিবীর পশ্চিম দিক থেকে পূর্ব দিকে আবর্তন করে বলে আপাতদৃষ্টিতে সূর্যকে প্রতিদিন পূর্ব আকাশ থেকে পশ্চিম আকাশে চলাচল করছে বলে মনে হয়। এটা কে সূর্যের দৈনিক আপাত গতি বলে।

 

১৪) বিষুব কথার অর্থ কি ?

 

উত্তর : -  বিষুব কথার অর্থ হল সমান দিন রাত্রি।(২১ মার্চ ২৩ সেপ্টেম্বর)

 

১৫) উত্তরায়ণ বলতে কি বোঝো ?

 

উত্তর : - সূর্য যখন ক্রমে উত্তর দিকে সরে কর্কটক্রান্তির দিকে যায় তাকে উত্তরায়ণ বলে।

২২ শে ডিসেম্বর থেকে ২১ শে জুন  পর্যন্ত টানা মাস।

 

১৬) দক্ষিণায়ন বলতে কি বোঝো ?

 

উত্তর : - সূর্য যখন ক্রমে দক্ষিণ দিকে সরে মকরক্রান্তির দিকে যায় তাকে দক্ষিণায়ন বলে।

২১ জুন থেকে ২২ শে ডিসেম্বর পর্যন্ত টানা মাস।

 

১৭) মহাবিষুব কাকে বলে ?

 

উত্তর : - ২১ মার্চের বিষুবকে মহাবিষুব বলা হয়কারণ এদিন সূর্য ঠিক নিরক্ষরেখার উপর অবস্থান করে এবং পৃথিবীতে ঋতুর সূচনা হয়।

 

১৮) জলবিষুব কাকে বলে ?

 

উত্তর : - ২৩ সেপ্টেম্বরের বিষুবকে জলবিষুব বলা হয়কারণ এদিনও সূর্য নিরক্ষরেখায় থাকে জলবায়ুর পরিবর্তন ঘটে।

 

১৯) কর্কটক্রান্তি কি ?

 

উত্তর : -২১ জুন পৃথিবী নিজ কক্ষপথে এমন একটা জায়গায় আসে যে উত্তর গোলার্ধে কর্কটক্রান্তি রেখার ( ২৩২০, অক্ষরেখা) ওপর লম্বভাবে সূর্যরশ্মি পড়ে। এই দিন উত্তর গোলার্ধে দিন সবথেকে বড়ো আর দক্ষিণ গোলার্ধে সবথেকে ছোটো হয়। সুমেরুবৃত্তে ২৪ ঘণ্টাই সূর্যকে দেখা যায়। আর কুমেরুবৃত্তে ২৪ ঘণ্টাই অন্ধকার থাকে। ২১ জুনকেকর্কটসংক্রান্তি’ (Summer Solstice) বলা হয়।

 

২০) মকরসংক্রান্তি কি ?

 

উত্তর : - ২২ ডিসেম্বর পৃথিবী কক্ষপথের এমন অবস্থানে আসে যে দক্ষিণ গোলার্ধে মকরক্রান্তি রেখার (২৩ /° দক্ষিণ অক্ষরেখা) ওপরে সূর্যের লম্বরশ্মি পড়ে। এই দিন দক্ষিণ গোলার্ধে দিন সবথেকে বড়ো আর উত্তর গোলার্ধে দিন সবথেকে ছোটো হয়। কুমেরুবৃত্তে ২৪ ঘণ্টাই সূর্যকে দেখা যায় আর সুমেরুবৃত্তে ২৪ ঘণ্টাই অন্ধকার থাকে। ২২ ডিসেম্বরকে মকরসংক্রান্তি (Winter Solstice) বলা হয়

 

২১) মধ্যরাত্রির সূর্যের দেশ কাকে কেন বলা হয় ?

 

উত্তর : - নরওয়েকে নিশীথ সূর্যের দেশ (The Land of Midnight Sun) বলা হয়, কারণ গ্রীষ্মকালে মেরু অঞ্চলের নিকটে অবস্থিত এই দেশে কয়েক সপ্তাহ ধরে সূর্য অস্ত যায় না। বিশেষত মে মাস থেকে জুলাই মাস শেষ পর্যন্ত নরওয়ের উত্তরাংশে প্রায় পুরো রাতই সূর্যের আলো দেখা যায়। পৃথিবীর অক্ষের হেলানো অবস্থান এবং নরওয়ের উচ্চ অক্ষাংশে অবস্থানের ফলে গ্রীষ্মে সূর্য দীর্ঘ সময় দিগন্তের ওপরে থাকে। কারণেই নরওয়েনিশীথ সূর্যের দেশনামে পরিচিত।

 

২২) সুমেরু প্রভা কুমেরু প্রভা কি ?

 

উত্তর : - সুমেরু প্রভা কুমেরু প্রভা হলো মেরু অঞ্চলে দেখা যাওয়া এক ধরনের আলোকচ্ছটা। উত্তর মেরুতে এই আলো দেখা গেলে তাকে সুমেরু প্রভা (Aurora Borealis) এবং দক্ষিণ মেরুতে দেখা গেলে তাকে কুমেরু প্রভা (Aurora Australis) বলা হয়। এটি মূলত সৌর ঝড় থেকে আসা চার্জিত কণাগুলোর সাথে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের গ্যাস কণার সংঘর্ষের ফলে ঘটে।

 

২৩) কেপলারের প্রথম সূত্রটি বিবৃত করো।

 

উত্তর : - কেপলারের প্রথম সূত্র হলো, "সমস্ত গ্রহ সূর্যের চারপাশে উপবৃত্তাকার কক্ষপথে ঘোরে এবং সূর্য এই উপবৃত্তের একটি ফোকাসে অবস্থান করে"

এই সূত্রটি গ্রহের কক্ষপথের আকৃতি ব্যাখ্যা করে।

 

২৪) ঋতুচক্র চিত্রসহ বুঝিয়ে দাও।

উত্তর : - পৃথিবীতে দিন রাত্রি কিভাবে সংঘটিত হয় এটা খুবই একটা মজাদার প্রশ্ন। এটা বোঝার জন্য আমরা সরাসরি চলে যাব 21 শে মার্চ এর দিন।

এই দিন সূর্য নিরক্ষরেখার উপর লম্বভাবে কিরণ দেয়। ফলে দুই গোলার্ধে দিন রাত্রি সমান হয়। এই দিনটিকে বলা হয় মহাবিষুব। এই দিনটির পর থেকে ধীরে ধীরে উত্তর গোলার্ধের দিকে ঝুঁকতে থাকে। তখন উত্তর গোলার্ধে ক্রমশ দিনগুলো বড় আর রাতগুলো ছোটো হতে থাকে।দিনের আলো অনেকক্ষণ পাওয়া যায় সারাদিন ধরে সূর্যের তাপে পৃথিবী উত্তপ্ত হয় অথচ রাত ছোট হওয়ায় তেমন ঠান্ডা হওয়ার সময় পায়না। এই সময় উত্তর গোলার্ধে সূর্য রশ্মি লম্ব ভাবে পড়ে। এই সময় উত্তর গোলার্ধে গৃষ্ম কাল আর দক্ষিণ গোলার্ধে শীতকাল। এইভাবে চলতে চলতে 21 জুন তারিখে উত্তর গোলার্ধে সবথেকে বড় দিন হয়। এই দিনটিকে কর্কট সংক্রান্তি বলে।

সপ্তম শ্রেণীর ভূগোল পৃথিবীর পরিক্রমণ প্রশ্ন উত্তর


        এরপর থেকে সূর্য পুনরায় দক্ষিণ দিকে ঢুকে যেতে থাকে অর্থাৎ দক্ষিণায়ন শুরু হয়। এভাবে চলতে চলতে 23 শে সেপ্টেম্বর তারিখে আবার পুনরায় নিরক্ষরেখার উপর সূর্য লম্বভাবে কিরণ দেয়।

আবার দিন রাত্রি সমান হয়। এই দিনটিকে বলা হয় মকর সংক্রান্তি। চলতেই থাকে সূর্যের দক্ষিণ গোলার্ধের দিকে ঝুঁকে যাওয়া বা দক্ষিণায়ন। আগের মতোই তবে এবার কিন্তু দক্ষিণ গোলার্ধে দিন গুলো বড় আর রাত্রিগুলো ছোট হয়। দক্ষিণ গোলার্ধে সূর্য রশ্মি লম্ব ভাবে পড়ে। ফলে দক্ষিণ গোলার্ধে এই সময় গৃষ্ম কাল আর উত্তর গোলার্ধে শীতকাল বিরাজ করে। এইভাবে চলতে চলতে 22 ডিসেম্বর তারিখে দক্ষিণ গোলার্ধে সবথেকে বড় দিন হয় আর সবথেকে ছোট রাত্রি। তারপর আবার সূর্যের উত্তরায়ন শুরু হয় আর এভাবেই চলতে থাকে বছরের পর বছর দিনের পর দিন।

জুন ২১  ---- সূর্যরশ্মি ---- উত্তরায়ণ (উত্তরে গরম)

ডিসে ২২ ---- সূর্যরশ্মি ---- দক্ষিণায়ণ (দক্ষিণে গরম)

মার্চ ২১ ---- বিষুব ---- দিবা-রাত্রি সমান

সেপ্টে ২৩ ---- বিষুব ---- দিবা-রাত্রি সমান

 

২৫) বিজ্ঞানীরা আন্টার্কটিকা মহাদেশের ডিসেম্বর মাসে যায় কেন ?

উত্তর : - ডিসেম্বর মাসে আন্টার্কটিকায় গ্রীষ্মকাল থাকে। এসময়েi) তাপমাত্রা তুলনামূলক কম শীতল থাকে,  ii) দীর্ঘ সময় সূর্যের আলো পাওয়া যায় (প্রায় ২৪ ঘণ্টা দিন),  iii) বরফ গলতে শুরু করায় চলাচল গবেষণা সহজ হয়,  iv) সমুদ্রপথ আকাশপথ তুলনামূলকভাবে নিরাপদ থাকে।

এই অনুকূল পরিবেশের কারণে বিজ্ঞানীরা ডিসেম্বর মাসে আন্টার্কটিকায় গবেষণার জন্য বেশি যান।

 

২৬) "বড়ো দিন আসলে কি বড়ো দিন' - সম্পর্কে তোমার যুক্তি দাও।

 

উত্তর : - বড়দিন (Christmas) বা যিশুখ্রিস্টের জন্মদিন ২৫ ডিসেম্বর পালিত হয়, যা ২২ ডিসেম্বরের মকরসংক্রান্তির ঠিক কয়েকদিন পরে পড়ে। এই সময় থেকেই উত্তর গোলার্ধে দিনের দৈর্ঘ্য ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করে। তবে বড়দিন যদিও একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎসব, তা বছরের সবচেয়ে বড় দিন নয়। বরং দক্ষিণ গোলার্ধে বছরের দীর্ঘতম দিনের মাত্র কয়েক দিন পরে এটি পালিত হয়।

 

২৭) পৃথিবীর ছায়াপথের নাম কি ?

 

উত্তর : - আকাশ গঙ্গা

 

২৮) 29 ফেব্রুয়ারি তারিখটা প্রতি বছর ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় না কেন ?

উত্তর : - ফেব্রুয়ারি মাস সাধারণত 28 দিনের হয়ে থাকে।  কিন্তু প্রতি চার বছর অন্তর ফেব্রুয়ারি মাসের দিন সংখ্যা একদিন বাড়িয়ে 29 দিন করা হয়। কারণ সূর্যের চারিদিকে পৃথিবী ঘুরতে সময় নেয় 365 দিন 6 ঘন্টা। সেই হিসেবে প্রত্যেক চার বছর পর 24 ঘন্টা অর্থাৎ একদিন অতিরিক্ত থেকে যায়। সেই দিনটি যুক্ত করা হয় ফেব্রুয়ারি মাসের সঙ্গে।

 

সপ্তম শ্রেণীর অধ্যায়ভিত্তিক ভূগোলের PDF সংগ্রহ করতে চাইলে যোগাযোগ করুন এই WhatsApp নম্বরে :  83378 75981



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0মন্তব্যসমূহ

Enter Your Comment

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)