WBBSE Class 10 Bengali First Unit Test Question Suggestion Question and Answer
Info Educations ওয়েবসাইটে তোমাদের সবাইকে স্বাগত। তোমরা কি Class 10 Bengali First Unit Test Question 2026, দশম শ্রেণী প্রথম ইউনিট টেস্ট বাংলা নমুনা প্রশ্নপত্র, Class 10 Bengali First Unit Test Model Question 2026, দশম শ্রেণীর প্রথম ইউনিট টেস্টের বাংলা বিষয়ের প্রশ্নপত্র ২০২৬, Class 10 Bengali 1st Summative Question Paper 2026, দশম শ্রেণির প্রথম ইউনিট টেস্ট বাংলা প্রশ্ন, Class 10 Bengali 1st Unit Test Question Paper 2026, ক্লাস ১০ প্রথম পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন বাংলা প্রশ্নপত্র, Class 10 bengali 1st summative question paper 2026, পশ্চিমবঙ্গ দশম শ্রেণী বাংলা প্রথম পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন প্রশ্নপত্র 2026, দশম শ্রেণির প্রথম পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন ২০২৬ অথবা প্রথম পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন Class 10 বাংলা খুঁজছো? তাহলে তোমরা একদম সঠিক জায়গাতেই এসেছো। এখানে তোমরা পাবে WBBSE syllabus অনুযায়ী প্রস্তুত করা বাংলা প্রথম ইউনিট টেস্টের সম্পূর্ণ প্রশ্নপত্র, সাজেশন এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর। পশ্চিমবঙ্গ মধ্য শিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) পরিচালিত Class 10 First Unit Test 2026 খুব শীঘ্রই রাজ্যের বিভিন্ন বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। পরীক্ষার আগে সঠিক প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজন নির্ভরযোগ্য মডেল প্রশ্নপত্র ও সঠিক অনুশীলন। সেই কথা মাথায় রেখে Info Educations নিয়ে এসেছে Class 10 Bengali 1st Unit Test Question Paper 2026 সহ গুরুত্বপূর্ণ সাজেশন ও প্রস্তুতি সহায়িকা।
WBBSE Class 10 Bengali 1st Unit Test Question Paper & Suggestion
প্রিয় ছাত্রছাত্রী, আশা করি তোমরা সবাই ভালো আছো। আজ তোমাদের জন্য Info Educations নিয়ে এসেছে দশম শ্রেণির প্রথম পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন ২০২৬–এর বাংলা প্রশ্নপত্র ও সাজেশন। তোমাদের ক্লাস ১০ প্রথম পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন পরীক্ষা সাধারণত ৪০ নম্বরের হয়ে থাকে এবং পরীক্ষার জন্য নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ থাকে ৮০ মিনিট। Class 10 Bengali 1st Summative Question Paper 2026 ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর তোমাদের পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বিশেষভাবে সাহায্য করবে। বাড়িতে বসে নিয়মিত ক্লাস ১০ প্রথম পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন বাংলা প্রশ্নপত্র প্র্যাকটিস করলে পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়া অনেক সহজ হবে। এই প্রশ্নপত্রটি অভিজ্ঞ শিক্ষক ও শিক্ষিকাদের দ্বারা প্রস্তুত করা হয়েছে, যাতে তোমরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ভালো ফলাফল করতে পারো।
WB Class 10 Bengali 1st Summative Test Syllabus 2026
WBBSE Class X Bengali 1st Unit Test Syllabus 2026 / দশম শ্রেণির বাংলা প্রথম ইউনিট টেস্ট ২০২৬ এর সিলেবাস এ থাকছে তোমাদের গদ্য : (জ্ঞানচক্ষু, হারিয়ে যাওয়া কালিকলম। পদ্য : আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি, আফ্রিকা, অসুখী একজন) সহায়ক পাঠ : কোনি (১-৩১ পাতা)। ব্যাকরণ ও নির্মিতি : কারক ও অকারক সম্পর্ক এবং অনুবাদ । Class 10 বাংলা প্রথম পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন ২০২৬ পূর্ণমান - ৪০ লিখিত। যার জন্য সময় ১ ঘন্টা ৩০ মিনিট বরাদ্দ করে হয়েছে।
Madhyamik Bengali 1st Unit Test Question Paper with Answers
১। সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো : (১×৭=৭)
১.১. “বুকের রক্ত ছলকে ওঠে তপনের” – এর কারণ—
(ক) ছোটো মাসি ও মেসোর হঠাৎ আগমন
(খ) ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকার তপনের গল্প ছাপার সম্ভাবনা
(গ) দীর্ঘদিন পর ছোটোমাসির সঙ্গে দেখা হয়েছিল
(ঘ) তার লুকিয়ে গল্প লেখার কথা প্রকাশ্যে এসে যাওয়া
উত্তর : - (খ) ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকার তপনের গল্প ছাপার সম্ভাবনা
১.২. “সে জানত না আমি তার কখনও ফিরে আসব না।”— ‘সে’ কে?
(ক) একটি বালক
(খ) একটি মেয়ে
(গ) একটি লোক
(ঘ) একটি যুবক
উত্তর : - (খ) একটি মেয়ে
১.৩. কাদের শব কাছে-দূরে ছড়ানো রয়েছে?—
(ক) বড়োদের
(খ) বৃদ্ধদের
(গ) শিশুদের
(ঘ) নারীদের
উত্তর : - (গ) শিশুদের
১.৪. আফ্রিকা কীভাবে ভীষণকে বিদ্রুপ করছিল?—
(ক) নির্মমভাবে
(খ) অপরূপ বেশে
(গ) বিরূপের ছদ্মবেশে
(ঘ) নিদারুণভাবে
উত্তর : - (গ) বিরূপের ছদ্মবেশে
১.৫. “আমরা এত কিছু আয়োজন কোথায় পাব”— কোন্ বিষয়ে একথা বলা হয়েছে?
(ক) পিকনিকের
(খ) কালি তৈরির
(গ) পূজো-আচার
(ঘ) পিকনিকের
উত্তর : - (খ) কালি তৈরির
১.৬. “দুগ্গা, পান সেজে দে।” — "দুগ্গা" পদটি হল—
(ক) নিমিত্ত কারক
(খ) সম্বন্ধ পদ
(গ) সম্বোধন পদ
(ঘ) কর্মকারক
উত্তর : - (গ) সম্বোধন পদ
১.৭. কর্তা নিজে কাজ না করে অন্যকে দিয়ে করিয়ে নিলে তা হবে—
(ক) প্রযোজ্য কর্তা
(খ) প্রযোজক কর্তা
(গ) সহযোগী কর্তা
(ঘ) নিরপেক্ষ কর্তা
উত্তর : - (খ) প্রযোজক কর্তা
২। কমবেশি ২০টি শব্দের মধ্যে উত্তর লেখো : (যেকোনো ছয়টি) ১×৬ = ৬
২.১. “এ বিষয়ে সন্দেহ ছিল তপনের।” — কোন বিষয়ে তপনের সন্দেহ ছিল?
উত্তর : - একজন লেখকের আচরণও যে আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের মতোই হয়ে থাকে সেই বিষয়ে তপনের সন্দেহ ছিল ।
২.২. “আমি চলে গেলাম দূর-দূরে।” — বক্তা এখানে যে দূরত্বের কথা বলেছেন তার তাৎপর্য কী?
উত্তর : - যুদ্ধার্থে গৃহত্যাগ, যেখানে প্রতি পদে রয়েছে মৃত্যুর আশঙ্কা।
২.৩. “আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি”— কবিতায় বর্ণিত ‘হিমাণীর বাঁধ’ কী?
উত্তর : - জীবনে চলার পথে প্রতিটি পদক্ষেপেই যে বিপদ রয়েছে এ কথা বোঝাতেই কবি আলোচ্য অংশের অবতারণা করেছেন।
২.৪. ‘আদিম যুগ’ কেমন ছিল?
উত্তর : - আফ্রিকা’ কবিতায় আদিম যুগ ছিল—উদ্ভ্রান্ত।
২.৫. “লেখে তিনজন।” — ‘তিনজন’ বলতে কাদের কথা বলা হয়েছে?
উত্তর : - ‘ হারিয়ে যাওয়া কালি কলম ‘ প্রবন্ধে বর্ণিত বাংলা প্রবাদ অনুযায়ী এই তিন জন হল- কালি , কলম আর মন ।
২.৬. ‘তির্যক বিভক্তি’ কাকে বলে? দৃষ্টান্ত দাও।
উত্তর : - যে বিভক্তি প্রধানত একটি নির্দিষ্ট কারকের জন্য নির্দিষ্ট হলেও, ব্যতিক্রম হিসেবে অন্য কারক বা বিভক্তির ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়, তাকে তির্যক বিভক্তি বলে। অর্থাৎ, যে বিভক্তি একাধিক কারকে ব্যবহৃত হয়, তাকে তির্যক বিভক্তি বলে।
তির্যক বিভক্তির উদাহরণ
বুলবুলিতে ধান খেয়েছে। - কর্তৃ কারকে 'তে' বিভক্তি।
এ ছুরিতে মাংস কাটা যাবে না। - করণে 'তে' বিভক্তি।
ঘরেতে ভ্রমর এলো। - অধিকরণ কারকে 'তে' বিভক্তি।
২.৭. (ক) “তিলে তেল আছে,”
(খ) “তিলে তেল হয়।”
দুটি বাক্যের রেখাঙ্কিত পদদুটি কোন্ কোন্ কারকের দৃষ্টান্ত?
উত্তর : - (ক) “তিলে তেল আছে” — এখানে ‘তিলে’ পদটি অধিকরণ কারক-এর দৃষ্টান্ত।
(খ) “তিলে তেল হয়” — এখানে ‘তিলে’ পদটি অপাদান কারক-এর দৃষ্টান্ত।
অর্থাৎ প্রথম বাক্যে স্থান বা আধার বোঝাচ্ছে (অধিকরণ), আর দ্বিতীয় বাক্যে উৎপত্তি বা উৎস বোঝাচ্ছে (অপাদান)।
৩। প্রসঙ্গ নির্দেশসহ ৬০টি শব্দে যে কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও : (৩×১=৩)
৩.১. “না না আমি বলছি তপনের হাত আছে।” — কে বলেছে? কেন বলেছে? (১+২)
উত্তর : - “না না আমি বলছি তপনের হাত আছে।” — কথাটি তপনের মেসোমশাই বলেছিলেন।
তপনের লেখা গল্প পড়ে মেসোমশাই বুঝতে পারেন যে তপনের মধ্যে প্রকৃত সৃজনশীল প্রতিভা রয়েছে। সাধারণত এই বয়সের ছেলেমেয়েরা কল্পনাপ্রসূত রাজারানির গল্প বা খুন-জখমের ঘটনা নিয়ে লেখে, কিন্তু তপন নিজের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও অনুভূতি নিয়ে গল্প লিখেছিল। তাই তপনের লেখার মৌলিকতা ও অনুভূতির গভীরতা দেখে মেসোমশাই তার লেখার ক্ষমতার প্রশংসা করে একথা বলেছিলেন।
৩.২. "নেমে এল তার মাথার ওপর"--- কার মাথার ওপর কী নেমে এসেছিল? তা কেনই বা নেমে এসেছিল?
উত্তর : - পাবলো নেরুদা রচিত ' অসুখী একজন' কবিতাই কথকের প্রিয় নারীর মাথার ওপর একটার পর একটা পাথরের মতো বছর গুলি নেমে এল।
কথক গৃহ যুদ্ধে অংশ নিতে চলে যাবার সময় তার প্রিয় নারীকে, তার ফিরে আসার অপেক্ষায় অপেক্ষারত অবস্থায় রেখে চলে গিয়েছিলেন। সে নারী হলো তার স্বদেশের প্রতিমূর্তি · কিন্তু কথক আর ফেরেননি। এই অপেক্ষার সময় টা তার প্রিয় নারীর কাছে পাথরের মতো ভারী হয়ে উঠেছিল। তাই বছরগুলো পাথরের মতো এনে এলো বলা হয়েছে।
৪। কমবেশি ১৫০টি শব্দে যে কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও : (৫ ×১= ৫ )
৪.১. ‘ রত্নের মূল্য জহুরির কাছেই ।’— ‘ রত্ন ’ ও ‘ জহুরি বলতে কী বোঝানো হয়েছে ? উদ্ধৃত উক্তিটির তাৎপর্য বুঝিয়ে দাও ।
উত্তর : - আশাপূর্ণা দেবীর ‘ জ্ঞানচক্ষু ’ গল্পে উদ্ধৃতিটি পাই । ‘ রত্ন ’ বলতে মূল্যবান পাথর বোঝায় । ‘ জহুরি ‘ বলতে বোঝায় জহর অর্থাৎ রত্ন বিশেষজ্ঞকে । যে – কোনো পাথরকে রত্ন বলে চালালে তা জহুরির চোখ এড়ানো মুশকিল । ‘ জ্ঞানচক্ষু ‘ গল্পে ‘ রত্ন ‘ বলতে তপনের লেখা গল্পকে আর ‘ জহুরি ‘ বলতে তার ছোটোমাসির স্বামী তথা নতুন মেসোমশাইকে বোঝানো হয়েছে ।
সীমিত জীবনবৃত্তের পরিধিতে তপনের গল্পের বইয়ের সঙ্গে পরিচিতি থাকলেও লেখকদের সম্পর্কে তার কিছুই অভিজ্ঞতা ছিল না । তপন তাদের গ্রহান্তরের কোনো জীব ভাবত । নতুন মাসির বিয়ের পর লেখক নতুন মেসোর সঙ্গে যখন পরিচিত হল তখনই তপনের লেখক সম্পর্কে সমস্ত ধারণা বদলে গেল । তার জ্ঞানচক্ষু খুলে গেল । তপন তার বাবা , কাকা ও মামাদের সঙ্গে নতুন মেসোর কোনো তফাত পেল না । এসব কিছু মিলিয়েই তপন ভাবে তারই বা লেখক হতে বাধা কোথায় ? তাই সে গল্প লিখতে গিয়ে আস্ত একটা গল্প লিখে ফেলায় উত্তেজনায় ছোটোমাসিকে দেখায় । ছোটোমাসি তা মেসোকে ঘুম থেকে তুলে দেখায় । ব্যাপারটায় তপনের মত না থাকলেও সে মনে মনে পুলকিত হয় , কেন – না জহুরির রত্ন চেনার মতো তার লেখার কদর একমাত্র নতুন মেসোই বুঝতে পারবে ।
৪.২. “তপনের মনে হয় আজ যে তার জীবনের সবচেয়ে দুঃখের দিন।” — দিনটিকে ‘সবচেয়ে দুঃখের দিন’ বলে মনে হয় কেন? দিনটি তপনের কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ? (৩+২)
উত্তর : - উদ্দিষ্ট দিন :
‘আজ’ বলতে আশাপূর্ণা দেবীর ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পে সেই দিনটির কথা বোঝানো হয়েছে, যেদিন তপনের ছোটোমাসি ও মেসোমশাই ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকার একটি সংখ্যা নিয়ে তাদের বাড়িতে আসেন এবং সেখানে তপনের লেখা প্রথম গল্পটি প্রকাশিত হয়।
দিনটিকে ‘সবচেয়ে দুঃখের দিন’ বলে মনে হওয়ার কারণ :
লেখক সম্পর্কে নতুন ধারণা পাওয়ার পর তপনের মনে লেখক হওয়ার প্রবল ইচ্ছা জাগে। মেসোমশাইয়ের অনুপ্রেরণায় সে নিজের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও অনুভূতি নিয়ে একটি গল্প লেখে। ছোটোমাসির উদ্যোগে সেই গল্প মেসোমশাইয়ের মাধ্যমে ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকায় ছাপাও হয়। নিজের লেখা প্রকাশিত হবে ভেবে তপন খুব আনন্দিত ও গর্বিত ছিল। কিন্তু পত্রিকায় গল্পটি পড়ে সে দেখে, তার মূল লেখার প্রায় কিছুই আর অবশিষ্ট নেই; সামান্য সংশোধনের নামে মেসোমশাই পুরো গল্পটিই বদলে দিয়েছেন। এতে তপনের লেখকসত্তা গভীরভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয় এবং তার স্বপ্ন ভেঙে যায়। তাই দিনটিকে তার জীবনের সবচেয়ে দুঃখের দিন বলে মনে হয়।
দিনটির গুরুত্ব :
এই দিনটি তপনের জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই দিনেই সে প্রথম নিজের লেখা মুদ্রিত হতে দেখে এবং একই সঙ্গে বুঝতে পারে লেখকসত্তার মর্যাদা ও স্বকীয়তার মূল্য কত বড়। এই অভিজ্ঞতা তাকে মানসিকভাবে পরিণত করে তোলে।
৫। কমবেশি ১৫০টি শব্দে যেকোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও : (৫×১=৫)
৫.১. 'আমাদের ইতিহাস নেই/অথবা এমনই ইতিহাস'- উদ্ধৃতাংশটির তাৎপর্য আলোচনা করো।
উত্তর : - শঙ্খ ঘোষ রচিত ‘জলই পাষাণ হয়ে আছে' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’কবিতা থেকে উদ্ধৃতাংশটি গৃহীত হয়েছে।
‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি' কবিতায় কবি ২০০৩ সালের গুজরাট দাঙ্গার কালিমালিপ্ত অধ্যায়কে ব্যঞ্জিত করেছেন। এইসময় মানুষ তার মানবিক পরিচয়ের উপরে ধর্মীয় পরিচয়কে গুরুত্ব দেয়। তাই তাৎপর্য ধর্মের অজুহাতে শুরু হয় মানুষে মানুষে সংঘর্ষ।
ধর্মীয় ভেদনীতি মানুষকে অন্ধ করে দেয়। তাই মানবতা ভুলে মানুষ মানুষকে নির্দ্বিধায় হত্যা করে। মানুষ ভুলে যায় তার ঐতিহ্যের ইতিহাসকে। যে ভারতবর্ষের গর্ব তার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সেই ভারতবাসীই ধর্মীয় সংঘর্ষে মেতে ওঠে। শুরু হয় হত্যালীলা। মানবিকতার এমন অবমাননা ভারতবাসীর ইতিহাসকে মুছে দেয় । অথবা ইতিহাসকে অন্ধকারে ঢেকে রাখে। তাই ইতিহাস বিস্মৃত ভারতবাসীর অবস্থা দেখেই কবি উদ্ধৃত পক্তিটির অবতারণা করেছেন।
৫.২. “চিরচিহ্ন দিয়ে গেল তোমার অপমানিত ইতিহাসে।।” – কাকে এ কথা বলা হয়েছে? কীভাবে তার অপমানিত ইতিহাসে চিরচিহ্ন মুদ্রিত হল?
উত্তর : - যার উদ্দেশ্যে এ কথা বলা – ‘আফ্রিকা’ কবিতায় সাম্রাজ্যবাদী ইউরোপীয় শক্তিগুলি আফ্রিকার অপমানিত ইতিহাসে ‘চিরচিহ্ন’ দিয়ে গিয়েছিল।
অপমানিত ইতিহাসে চিরচিহ্ন মুদ্রণ – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘আফ্রিকা’ কবিতায় আফ্রিকার ওপর সাম্রাজ্যবাদী শাসকদের অত্যাচার ও শোষণ-বঞ্চনার কাহিনিকে বর্ণনা করেছেন। প্রাকৃতিকভাবে দুর্গম আফ্রিকা দীর্ঘসময় ইউরোপীয় শক্তিগুলির নজরের বাইরে ছিল। কিন্তু উনিশ শতকে ইউরোপীয়রা আফ্রিকায় উপনিবেশ স্থাপন শুরু করে। এই শতকের শেষে প্রায় পুরো আফ্রিকা ইউরোপের বিভিন্ন দেশের উপনিবেশে পরিণত হয়। এইসব তথাকথিত সভ্য রাষ্ট্রশক্তি আফ্রিকার মানুষদের ওপরে নির্মম অত্যাচার চালাত। সেখানকার মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়। তৈরি হয় মানবিকতার লাঞ্ছনার কাহিনি। আফ্রিকার মানুষকে ক্রীতদাস হিসেবে সরবরাহ করা হতে থাকে। আফ্রিকার প্রাকৃতিক সম্পদও হয়ে ওঠে আকর্ষণের কেন্দ্র। তাদের নির্লজ্জ লোভ যেন বর্বরতার রূপ ধরে আত্মপ্রকাশ করেছিল। ক্ষতবিক্ষত হয়েছিল আফ্রিকার মানুষ। তাদের রক্ত আর চোখের জলে কর্দমাক্ত হয়েছিল আফ্রিকার মাটি। সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্রনায়কদের কাঁটা-মারা জুতোর নীচে বীভৎস কাদার পিণ্ড যেন চিরকালের মতো অত্যাচারের চিহ্ন রেখে গিয়েছিল আফ্রিকার অপমানিত ইতিহাসে।
৬। কমবেশি ১৫০টি শব্দে নিচের প্রশ্নটির উত্তর দাও : (৫×১=৫)
৬.১ “আশ্চর্য, সবই আজ অবলুপ্তির পথে।” — কোন্ জিনিস আজ অবলুপ্তির পথে? এই অবলুপ্তির কারণ কী? এ বিষয়ে লেখকের মতামত কী?
উত্তর : -
অবলুপ্তির পথে যা – ‘হারিয়ে যাওয়া কালি কলম’ রচনায় লেখক শ্রীপান্থের মতে, কলম আজ অবলুপ্তির পথে।
অবলুপ্তির কারণ – কম্পিউটারের আধিপত্য এবং তার প্রতি মানুষের ক্রমবর্ধমান নির্ভরতা কলমের এই অবলুপ্তির কারণ।
লেখকের অভিমত – শৈশব থেকেই লেখকের শিক্ষাজীবনের সঙ্গী ছিল বাঁশের কলম, খাগের কলম, পালকের কলম ইত্যাদি। পরে বাজারে আসে ফাউন্টেন পেন। কলমের বাজারে এই পেন একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে। এরপর ফাউন্টেন পেনকেও ম্লান করে বাজারে আসে বলপেন। কলম হয়ে ওঠে সস্তা এবং সর্বজনীন। সর্বজনীন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কলম তার নিজস্ব কদর হারাতে থাকে। একদিন যে দোয়াতকলম দিয়ে লিখে দেশ-বিদেশের সাহিত্যিকরা অমর সৃষ্টি রেখে গিয়েছেন, সেই দোয়াতকলম ইতিহাসের পাতায় চলে যায়। বিজ্ঞানের বিস্ময়কর সৃষ্টি হিসেবে কলমের জায়গা দখল করে নেয় কম্পিউটার। সাংবাদিক হিসেবে লেখার কাজেই ব্যস্ত লেখকের এক অদ্ভুত কলমপ্রীতি ছিল। বাঁশের কলম, খাগের কলম ছেড়ে বলপেনের কাছে আত্মসমর্পণ করেও লেখক বিপন্ন বোধ করেছেন। “যদি হাতের লেখা মুছে যায় চিরকালের জন্য” — এই কথা ভেবে তিনি বিচলিত হয়ে উঠেছেন। কম্পিউটারের প্রভাবে সর্বপ্রকার কলমের অবলুপ্তির আশঙ্কায় লেখক একইসঙ্গে আতঙ্কিত ও আশ্চর্য হয়েছেন।
৬.২ “মনে মনে সেই ফরাসি কবির মতো বলেছি” – লেখক ফরাসি কবির মতো কী বলেছেন? তাঁর সে-কথা বলার কারণ কী?
লেখকের বক্তব্য – লেখক ফরাসি কবির মতো মনে মনে বলেছেন, “তুমি সবল, আমি দুর্বল। তুমি সাহসী, আমি ভীরু। যদি তুমি আমাকে হত্যা করতে চাও, আচ্ছা, তবে তা-ই হোক। ধরে নাও আমি মৃত।”
সে-কথা বলার কারণ – সময় পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পুরোনো কালিকলম স্মৃতির আড়ালে হারিয়ে গেছে। লেখক শ্রীপান্থ মনের গভীরে ধারণ করেন সেই হারিয়ে যাওয়া কালিকলমের মাহাত্ম্য। অনেক লেখক যুগের প্রয়োজনে পুরোনো কালিকলম ছেড়ে ফাউন্টেন ও বল-পেন গ্রহণ করেছেন। কেউ কেউ লেখার কাজে কম্পিউটার ব্যবহার শুরু করেছেন। লেখকও বাধ্য হয়ে পুরোনো কলম ছেড়ে বল-পেনের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে পুরোনো কলম ছেড়ে দেননি; যুগের প্রয়োজন তাঁকে নতুন লেখার সামগ্রী ব্যবহার করতে বাধ্য করেছে। লেখকের মনে হয়েছে, শক্তিশালী বল-পেন যদি সত্যিই তাঁর ইচ্ছাকে হত্যা করে, তাতে তাঁর কিছু করার নেই। যুগের প্রভাব থেকে নিজেকে মুক্ত রাখা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। যুগের দাবির কাছে তিনি একপ্রকার মৃত সৈনিক। ফরাসি কবির মতোই তাঁর এই অসহায়তা প্রকাশ পেয়েছে।
৭। চলতি গদ্যে বঙ্গানুবাদ কর : (৫)
Our life is short. But we have to do many things. Human life is nothing but a collection of moments. So we must not spend a single moment in vain. To kill (waste) time is to shorten life. Time and tide waits for none.
উত্তর : - আমাদের জীবন খুবই ছোট। কিন্তু আমাদের অনেক কাজ করতে হয়। মানুষের জীবন আসলে অনেকগুলো মুহূর্তের সমষ্টি ছাড়া আর কিছুই নয়। তাই আমাদের একটি মুহূর্তও বৃথা নষ্ট করা উচিত নয়। সময় নষ্ট করা মানে নিজের জীবনকে ছোট করে ফেলা। সময় ও স্রোত কারও জন্য অপেক্ষা করে না।
প্রথম পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন কোনি সাজেশান : -
১ তোমাদের পাঠ্যাংশ অনুসারে ক্ষিতীশের ব্যক্তিগত জীবনযাপন সম্পর্কে আলোকপাত
করো। ৫
২ "আমার বিরুদ্ধে চার্জগুলি স্পষ্ট করে চিঠিতে বলা নেই”- কে এই মন্তব্য করেন? তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলি কী কী ছিল? ১+৪
৩ কোনির পারিবারিক জীবনের পরিচয় দাও। ৫
৪ "ইচ্ছে থাকলেও ওকে সাঁতার শেখাবার সামর্থ্য আমার নেই।" - কে বলেছিল? তার পরিচয় সংক্ষেপে উল্লেখ করো। ১+৪
৫ “বিট্টু ধরের বিরক্তির কারণ হাত পনেরো দূরের একটা লোক।"— পরিচয় দিয়ে তার বিরক্তির কারণ উল্লেখ করো। ২+৩
বিটু ধরের সংক্ষিপ্ত
৬ “নীল শার্ট পরা যুবকটির মুখ চড় খাওয়া মানুষের মতো অপ্রতিভ, অপমানিত"- নীল শার্ট পরা যুবকটির পরিচয় দাও। তার মুখ অপ্রতিভ হয়েছিল কেন? ২+৩
৭ 'কোনি' উপন্যাস অবলম্বনে বারুণীর দিনে গঙ্গার ঘাটের বিবরণ দাও। ৫
৮ জুপিটার ক্লাবের প্রতি ক্ষিতিশের ভালোবাসার পরিচয় দাও। ৫


Enter Your Comment